
ফটো সংগৃহীত
গিয়াস উদ্দীন ভুলু; টেকনাফ :
মায়ানমার থেকে টেকনাফ সীমান্ত দিয়ে পালিয়ে আসল গুলিবিদ্ধ শিশুসহ চার রোহিঙ্গা। গত শুক্রবার গভীর রাতে টেকনাফের হ্নীলা সীমান্ত পয়েন্ট থেকে তাদের উদ্ধারের পর টেকনাফ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয় বলে জানায় স্থানীয়রা। গুলিবিদ্ধরা হল, মায়ানমারের ঘোলাপাড়া এলাকার বাসিন্দা মৃত নবী হোসনের ছেলে আব্দুল করিম (১৯), একই এলাকার আবু ছিদ্দিকের স্ত্রী জমিলা খাতুন (২৫), আবু তাহেরের ছেলে মো. সোয়াইব (৮) ও রাসিদং সোয়াইব পাড়া এলাকার বাসিন্ধা সবিরানের ছেলে ইমান শরিফ (২৬)।
গুলিবিদ্ধ রোহিঙ্গাদের রাতে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয় বলে জানায় টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক শোভন দাস।
এদিকে ৮ বছরের সোয়াইবের বুক ও পেটে চারটি গুলি, জমিলার হাতে ও পিটে, আব্দুল করিমের বাম পায়ে এবং ইমান শরিফের ডান হাতে গুলির চিহ্ন দেখা যায়।
গুলিবিদ্ধ ইমান শরিফ জানান, গত দুই সাপ্তাহ আগে মায়ানমারে সেনাবাহিনীর দল গ্রামে হামলা চালায় এবং ঘর-বাড়িতে আগুন জ্বালিয়ে দেয়। জীবন বাঁচাতে ঘর থেকে বের হয়ে পালানোর চেষ্টকালে তাদের লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করে। এতে সঙ্গে আরো কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হয় বলে জানায়। এতদিন পরিবারের সহায়তায় বিনা চিকিৎসায় পাহাড়ে, জঙ্গলে ও নদীর চরে লুকিয়ে থেকে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করে গত শুক্রবার রাতে নৌকায় বাংলাদেশে চলে আসি।
গুলিবিদ্ধ সোয়াইবের পিতা আবু তাহের জানান, মায়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলমান থাকতে দেবেনা সেদেশের সরকার। গত চার দিন আগে মাইকিং করে না পালানোর জন্য বলে যেতে না যেতে আমি পরিবার ৭ সদস্য নিয়ে মংডু মগনি পাড়া নাফনদীর চর থেকে একটু সামনে গেলে আমাদের উপর শুরু হয় গুলি। এতে আমার পরিবারে অন্যান্য সদস্য রক্ষা ফেলেও ৮ বছরের শিশু সোয়াইবের বুক ও পেতে চারটি গুলি লাগে। একে নিয়ে অনেক কষ্ট করে এপারে এসেছি। সেদেশে নেই গ্রাম, নেই ঘর বাড়ী। সব কিছু আগুনে জ্বালিয়ে দিয়ে ছাড়কাড় করে দেয়।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.