
গিয়াস উদ্দিন ভুলু, টেকনাফ :
টেকনাফে চারটি উচ্চ বিদ্যালয়ের এস.এস.সি পরীক্ষার্থীদের বিদায় নবাগত ছাত্র-ছাত্রীদের বরণ ও কৃতি শিক্ষার্থীদের বিশাল সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে। ২৮ জানুয়ারী শনিবার সকাল ৯টায় থেকে এই সমস্ত শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান গুলোর আয়োজনের শুভ সুচণা শুরু করা হয়। স্থানীয় সাংসদ আলহাজ আবদুর রহমান বদি অত্র স্কুল গুলোর বিদায়, বরণ ও সংবর্ধনা অনুষ্টানে যোগ দিয়ে সারাদিনের এক আন্দময় ও ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত হয়ে ব্যস্ত সময় পার করেন। তিনি সর্ব প্রথম সকাল ৯টার দিকে পৌরসভার আওয়াতাধীন টেকনাফ মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের বিদায় ও বরণ অনুষ্টানে অংশ গ্রহন করেন।
এরপর টেকনাফ সাবরাং উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের বিদায় বরণ ও জেলা পরিষদের নব-নির্বাচিত সদস্য আলহাজ শফিক মিয়ার বিশাল সংবর্ধনা অনুষ্টানে প্রধান অতিথি হিসাবে অংশ গ্রহন করেন। দুপুর ১ টার দিকে টেকনাফ এজাহার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আয়োজনে অত্র স্কুলের বিদায়-বরণ অনুষ্টানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকেন।
পরিশেষে বিকাল ৩টার দিকে টেকনাফ সদর ইউনিয়নে নিজের হাতে গড়া লম্বরী মলকাবানু উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের বিদায়-বরণ অনুষ্টানেও তিনি অংশ গ্রহন করেন। বিদ্যালয়েও পৃথকভাবে বিদায় অনুষ্ঠানেও প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন।
ছাত্র-ছাত্রীদের বিদায়, বরণ ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এমপি বদি বলেন, উন্নত শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে তোমাদের সেই শিক্ষার মেধাকে কাজে লাগিয়ে ডিজিটাল বাংলাদেশের সৈনিক হতে হবে। এবং দেশ ও জাতির কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করতে হবে। সব সময় মানব সেবায় নিজেকে বিলিন করতে হবে। তোমরা আধুনিক শিক্ষার পাশাপাশি এই দেশের যুব সমাজকে কিভাবে মাদক মুক্ত করা যায় সেই ভুমিকা পালন করতে হবে। কারন এই মাদক আমাদের দেশের ছাত্র ও যুব সমাজকে আজ ধ্বংস করে দিচ্ছে। তাই এই মাদক থেকে দূরে থেকে তোমাদেরকে সুশিক্ষা অর্জন করতে হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে আরো বলেন, প্রতিটি বিদ্যালয়ে সরকার কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন ও কম্পিউটার বরাদ্দ দিয়ে যুগের সাথে তাল মিলিয়ে ডিজিটাল শিক্ষা অর্জনে পিছিয়ে পড়া টেকনাফের শিক্ষার হারকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
যে সকল বিদ্যালয়ে এখনো পর্যন্ত আসবাব পত্রের সংকট রয়েছে সে সমস্ত বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত পরিমান আসবাব পত্র প্রদানেরও ঘোষণা দেন। তার পাশাপাশি ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে তিনি আরো বলেন, টেকনাফের শিক্ষার হারকে এগিয়ে নিতে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে উখিয়া-টেকনাফে বিগত আট বছরের ব্যবধানে ১৩ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করা হয়েছে। তৎমধ্যে একটি কারিগরি (টেকনিক্যাল) কলেজও রয়েছে।
বেশ কয়েকটি স্কুল প্রতিষ্টান নির্মাণের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। নারী শিক্ষাকে আরো প্রসার করার জন্য ইতিমধ্যে আরো একটি উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের কাজ করার উদ্যোগ হাতে নেওয়া হয়েছে।
টেকনাফের নারী শিক্ষা নিয়ে এমপি বলেন, আমার বাবা মরহুম এজাহার মিয়া কোম্পানি সর্ব প্রথম টেকনাফ উপজেলায় নারী শিক্ষাকে প্রসারিত করার জন্য ১৯৮৩ সালে টেকনাফ এজাহার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় স্থাপন করেছিল।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে ছাত্র-ছাত্রীকে লেখা পড়ায় আরো মেধাশীল হওয়ার জন্য টেকনাফ পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলার ফরিদ আলমকে পরিচয় করিয়ে দেন। কারণ তার তিন সন্তান আজ সুশিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে টেকনাফবাসীর মুখ উজ্জল করেছে। তার এক সস্তান বুয়েট কলেজের শিক্ষক, আরেকজন চুয়েট কলেজের শিক্ষক, এবং তার একমাত্র মেয়ে বিসিএস (শিক্ষা) অর্জন করেছেন।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.