কক্সবাজার সদর উপজেলার ঈদগাঁও ইউনিয়নের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা বর্ধিষ্ণু এলাকার নাম ভাদীতলা, দরগাহপাড়া, শিয়াপাড়া ও হাসিনা পাড়া। বাসষ্টেশনের সাথে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম ঈদগাঁও-ভাদিতলা সড়ক। বিগত বর্ষায় ঢলের পানিতে ভেঙ্গে যাওয়া সড়কের বিশাল ভাঙ্গনের উপর বহু টাকা ব্যয়ে একটি ব্রীজ নির্মাণ করেছিল। সেটিও পানির তোড়ে ভেঙ্গে যায়। কিন্তু সে থেকে এ পর্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ভাঙ্গনকৃত ব্রীজ দিয়ে পারাপার করছে চার গ্রামের দশ সহস্রাধিক মানুষজন।
এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে একটি স্থায়ী বেইলী ব্রীজ নির্মাণের আবেদন জানিয়েছেন উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট। লোকজনের চলাচল নিয়ে এলাকাবাসীর মাঝে হতাশার কালো ছায়া নেমে এসেছে।
জানা যায়, ঈদগাঁও ইউনিয়নের বন পাহাড় বেষ্টিত ভাদিতলা, দরগাহপাড়া, শিয়াপাড়া ও হাসিনাপাড়া গ্রামগুলিতে ক্রমবর্ধমান ভাবে বসবাস করে আসছে উপকূলীয় পোকখালী ও চৌফলদন্ডীসহ বৃহত্তর ঈদগাঁওয়ের বিভিন্ন এলাকার বর্ধিত জনসংখ্যার একটি বিরাট অংশ। এমন কি জলোচ্ছ্বাস প্রবন মহেশখালী ও কুতুবদিয়ার অনেক মানুষও জমি কিনে এই এলাকায় বসবাস করছে। এ বিপুল সংখ্যক জনসাধারনের চলাচলের একমাত্র এবং প্রধান একটি সড়কের নাম ঈদগাঁও-ভাদিতলা-দরগাহ পাড়া সড়ক। গেল বর্ষামৌসুমে ঈদগাঁও নদীর ঢলের পানি পালপাড়ার ভাঙ্গন দিয়ে প্রবেশের ফলে এই সড়কটিও ভেঙ্গে যায়। ওই ভাঙ্গন দিয়ে ঢলের পানি প্রবেশ করে স্রোতের ধাক্কায় ভাদিতলা সড়কের একটি বিশাল অংশ ভেঙ্গে যায়। ওই ভাঙ্গনস্থল দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পানি-কাদা মাড়িয়ে পায়ে হেঁটে পার হতে হতে দীর্ঘ মাস পূর্বে একটি কাঠের সাঁকো নির্মাণ করে এলাকাবাসী স্বেচ্ছাশ্রম দিয়ে। এর পরবর্তীতে এলাকাবাসীর দাবী-দাওয়ার প্রেক্ষিতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বহু অর্থ ব্যয় করে একটি ব্রীজ নির্মাণ করে। কিন্তু সেটিও ভেঙ্গে তছনছ হয়ে যায়। ঐ ভগ্ন ব্রীজ পার হয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা নানা ভয়-ভীতিকে উপেক্ষা করে প্রতিনিয়ত স্কুলমুখী হতে দেখা যায়। ১ মার্চ সকালে সড়ক পরিদর্শনে গেলে এমন বেহাল চিত্র ভেসে উঠে। সড়ক দিয়ে চলাচলরত বেশ কয়েকজন পথচারীর সাথে কথা হলে তারা আক্ষেপের সাথে বলেন, বিগত বর্ষার পর থেকে বৃহত্তর এলাকাবাসী কোন রকম এ ব্রীজ দিয়ে দিবারাত্রিতে কষ্ট করে পারাপার হচ্ছে। এ দুর্ভোগ আর দূর্গতি কখনো মেনে নেওয়ার মত নয়। তারা অতিসত্ত্বর যোগাযোগ সহজতর করার লক্ষ্যে উক্ত স্থানে একটি বেইলী ব্রীজ নির্মাণের দাবী জানান। তবে কয়েকজন শিক্ষার্থীর সাথে আলাপ কালে তারাও ভীষণ কষ্টে প্রায়শঃ স্কুলমুখী হচ্ছে বলে জানায়। তবে শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে যদি ব্রীজ নির্মাণ করা হয় তাহলে ভাল হত বলে মত প্রকাশ করেন।
এদিকে সড়কের বেহাল অবস্থা প্রসঙ্গে স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক নুরুল হাকিমের কাছে জানতে চাইলে তিনি, ঈদগাঁও-ভাদীতলা-দরগাহ পাড়ার যাতায়াতকারী লোকজন একটি ভাঙ্গা ব্রীজ পার হয়ে বহু কষ্টের মাধ্যমে দিবারাত্রি যাতায়াত করে যাচ্ছে। উক্ত ভগ্ন স্থানে যদি আসন্ন বর্ষার আগেই একটি বেইলী ব্রীজ নির্মাণ কর হয়, তাহলে এলাকাবাসী নানাভাবে উপকৃত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"



You must be logged in to post a comment.