
চৌধুরী আকবর হোসেন :
আইনি লড়াই করে মিয়ানমার ও ভারতের কাছ থেকে বিশাল সমুদ্রসীমা জয়ের সাড়ে পাঁচ বছর পার হলেও এখনও ওই এলাকার আকাশসীমায় নিয়ন্ত্রণ নেই বাংলাদেশের। বর্তমান রাডারসহ এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট (এটিএম) সিস্টেমে এই আকাশসীমায় চলাচলকারী উড়োজাহাজগুলো শনাক্ত করতে না পারায় কোনও চার্জ আদায় করতে পারছে না বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। অথচ সমুদ্রের আকাশসীমায় ওভার ফ্লাইং চার্জ বা আর্থিক সুবিধা আদায় করছে ভারত ও মিয়ানমার। তবে নতুন রাডার স্থাপানসহ অটোমেটেড এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বেবিচক। একইসঙ্গে এই দুই দেশের কাছ থেকে আকাশসীমার নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে তৎপরতাও শুরু করেছে বেবিচক।
প্রসঙ্গত, বঙ্গোপসাগরের বিরোধপূর্ণ সমুদ্রসীমা ফিরে পেতে ভারত ও মিয়ানমারের সঙ্গে আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতে আইনি লড়াই চালায় বাংলাদেশ। ২০১২ সালে মিয়ানমারের সঙ্গে ৮০ হাজার বর্গকিলোমিটারের বিরোধ শেষে বাংলাদেশ ৭০ হাজার বর্গকিলোমিটার সমুদ্রসীমার ওপরে কর্তৃত্ব অর্জন করে। অন্যদিকে, ২০১৪ সালে ভারতের সঙ্গে ২৫ হাজার বর্গকিলোমিটারের বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ ১৯ হাজার বর্গকিলোমিটারের নিয়ন্ত্রণ অর্জন করে। বিরোধ নিষ্পত্তি করে এই নতুন সমুদ্রসীমা নির্ধারণ করে দেন আন্তর্জাতিক সালিশি আদালত।
বেবিচক সূত্রে জানা গেছে, বঙ্গোপসাগরের বিরোধপূর্ণ সমুদ্রসীমা বাংলাদেশ ফিরে পেলেও ওই এলাকার আকাশসীমার ওপর নিয়ন্ত্রণ নেই বেবিচকের। ঢাকায় থাকা বেবিচকের রাডারটি ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত এবং চট্টগ্রামে থাকা রাডারটি ২৫০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত নেভিগেশন করতে সক্ষম। তবে রাডারগুলো পুরনো হওয়ায় প্রায় সময়ই বিকল হয়ে পড়ে। একইসঙ্গে কমেছে রাডারের কার্যক্ষমতাও। ফলে সমুদ্রসীমার বাইরে আগেকার আকাশসীমায় নেভিগেশন করতেই হিমশিম খেতে হয় বেবিচককে। নতুন সমুদ্রসীমা অর্জিত হলেও সেখানকার আকাশসীমার এয়ার ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের সক্ষমতা নেই বেবিচকের। এ কারণে ওই এলাকার আকাশসীমায় চলাচলকারী আন্তর্জাতিক ফ্লাইট থেকে কোনও ধরনের ওভার ফ্লাইং চার্জ আদায় করতে সক্ষম হচ্ছে না বেবিচক। ওই এলাকার আকাশসীমায় এখনও এয়ার ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও ওভার ফ্লাইং চার্জ থেকে আর্থিক সুবিধা নিচ্ছে ভারত ও মিয়ানমার।
বেবিচকের এক কর্মকর্তা বলেন, যেকোনও দেশের ওপর দিয়ে চলাচলকারী ফ্লাইটগুলোকে নেভিগেশন সুবিধা দিতে হয় সংশ্লিষ্ট দেশকে। সমুদ্রসীমা জয়ের পর বাংলাদেশ ওই এলাকার আকাশসীমায় নেভিগেশন সুবিধা আদায়ের সক্ষমতা অর্জন করতে পারেনি। ফলে স্বাভাবিকভাবেই আগে থেকে যেসব দেশ নেভিগেশন সুবিধা নিতো, এখনও তারাই তা নিচ্ছে। এই কর্মকর্তা আরও বলেন, বর্তমানে আধুনিক নেভিগেশন সুবিধার জন্য অটোমেটেড সিস্টেম চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বেবিচক। এটি কার্যকর হলে সমুদ্রের আকাশসীমায় নিয়ন্ত্রণ নেওয়া সম্ভব।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সমুদ্রসীমার আকাশে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারলে ওভার ফ্লাইং ফ্লাইট থেকে ২০০ কোটি টাকারও বেশি আয় করা সম্ভব হবে। নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা ও আয় বাড়াতে তৎপরতা শুরু করেছে বেবিচক। ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশন (আইকাও) প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর এয়ার ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার সমন্বয়ের জন্য একটি কোঅর্ডিনেশন গ্রুপ তৈরি করে দিয়েছে। এই গ্রুপে বাংলাদেশ, ভারত, মিয়ানমার ও থাইল্যান্ড রয়েছে। ৫ জানুয়ারি এই চার দেশ নিয়ে গঠিত বিআইএমটি এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট কোঅর্ডিনেশন গ্রুপের সপ্তম সভা ঢাকায় শুরু হয়েছে। দুই দিনব্যাপী এই সভায় এয়ার ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সংক্রান্ত যাবতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয় আলোচিত হচ্ছে। এবারের আলোচনায় বাংলাদেশের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরের আকাশসীমায় উড্ডয়নকারী বিমানের নিরাপত্তা, এয়ার ট্রাফিক সার্ভিস, সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ সার্ভিস ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা হবে। সভা শেষে সিদ্ধান্ত ও সুপারিশগুলো আইকাও’র মাধ্যমে বাস্তবায়ন হবে।
বেবিচকের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান বলেন, ‘আগে আমাদের সক্ষমতা কম ছিল, ধীরে ধীরে সক্ষমতা বেড়েছে। আমাদের আকাশসীমায় বেশকিছু রুট আছে, যা অন্য দেশ নিয়ন্ত্রণ করছে। এখন আমাদের সক্ষমতা বাড়ছে, আমরা ধীরে ধীরে এ রুটগুলো নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসবো।’ তিনি বলেন, ‘আইকাওর অনুমোদন নিয়ে আমরা এখানে নেভিগেশন পরিচালনা করবো। এ রুটগুলো নিয়ন্ত্রণে চলে আসলে আমাদের রাজস্ব আয়ও বেড়ে যাবে।’
সূত্র: deshebideshe.com – ডেস্ক।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.