
গিয়াস উদ্দিন ভুলু; টেকনাফ :
দীর্ঘ ৫ বছর কারাভোগ শেষ করার পর মিয়ানমার থেকে স্বদেশে ফেরত আনা হয়েছে ১৭ বয়সি এক বাংলাদেশী নাগরিকে। সে কক্সবাজার জেলার মহেষখালী থানার দইলার পাড়া এলাকার মৃত মো: শরীফের পুত্র মো: তারেক প্রকাশ (তারা)।
টেকনাফ ২ বিজিবি সূত্রে জানা যায়, ২৫ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার সকাল ১০ টেকনাফ পৌরসভার সদর বিওপির নতুন জেটি ঘাট থেকে ২ বিজিবি উপ-অধিনায়ক আবু রাসেল সিদ্দিকীর নেতৃত্বে ৯ সদস্যদের একটি প্রতিনিধি দল মিয়ানমারের মংডুতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ও মিয়ানমার ইমিগ্রেশন বিভাগের মধ্যে সকাল সাড়ে ১০ টায় এক পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকটি প্রায় ১ ঘন্টা ধরে চলে।
উক্ত পতাকা বৈঠকে বাংলাদেশে প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন ২ বিজিবি উপ-অধিনায়ক মেজর আবু রাসেল সিদ্দিকী, জেলা প্রশাসকের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: শফিউল আলম, জেলা পুলিশ সুপারের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন, টেকনাফ মডেল থানার পুলিশ পরির্দশক অপারেশন কর্মকর্তা (ওসি) মো: শফিউল আজম, টেকনাফ স্থলবন্দরের ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা এস আই আবুল হোসেন, সদর বিওপির সুবেদার মো: কাদেরসহ ৯ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল বৈঠকে অংশ গ্রহন করেন।

অপরদিকে ৮ সদস্যের মিয়ানমার প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বদেন মিয়ানমার বর্ডার ইমিগ্রেশন ইউ অং কে সিং। বৈঠক শেষে মিয়ানমার কারাগারে প্রায় ৫ বছর কারাভোগ শেষে এক বাংলাদেশি যুবকে প্রতিনিধি দলের কাছে হস্তান্তর করে। ফেরত আনা বাংলাদেশি নাগরিক হচ্ছেন সে কক্সবাজার জেলার মহেষখালী থানার দইলার পাড়া এলাকার মৃত মো: শরীফের পুত্র মো: তারেক প্রকাশ (তারা)।
ফেরত আসার পর টেকনাফ সদর বিওপি চৌকিতে এক প্রেস ব্রিফিং এর মাধ্যমে ২ বিজিবির উপ-অধিনায়ক মেজর আবু রাসেল সিদ্দিকী জানান, আমরা পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে ১৭ বছর বয়সি বাংলাদেশি এই যুবকটিকে ফেরত আনা হয়। সে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার সময় মিয়ানমারের বিজিপি সদস্যদের হাতে আটক হয়। অবশেষে মিয়ানমার কারাগারে দীর্ঘ দিন সাজা ভোগ করার পর গত ২০১৬ বিদায়ী বছরের ৯ ডিসেম্বর বাংরাদেশী দুতাবাস কর্তৃক মিয়ানমার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে তাকে ফেরত আনতে অনুরোধ জানানো হয়। তার পরিপ্রেক্ষিতে গত ২০১৬/২৭ ডিসেম্বর ইমিগ্রেশন এন্ড ন্যাশনাল রেজিষ্ট্রেশন ডিপার্টমেন্ট, মংন্ডু কর্তৃক উক্ত বাংলাদেশী নাগরিকে ফেরত আনার বিষয়ে আমাদের অত্র ব্যাটালিয়নকে অনুরোধ জানানো হয়। সেই ধারাবাহিকতায় টেকনাফ ২ বিজিবি ব্যাটালিয়ন কর্তৃক উর্দ্ধতন দপ্তরের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে আমাদের প্রতিনিধি দল ২৫ জানুয়ারী সকাল সাড়ে ১০টায় মিয়ানমার মন্ডু শহরের ১নং পয়েন্ট অব এন্ট্রি এন্ড এক্স্রিট এলাকায় এক পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে বাংলাদেশী যুবকটিকে আমাদের কাছে হস্তান্তর করে।
উপস্থিত সাংবাকিদের এক প্রশ্নের জবাবে উপ-অধিনায়ক বলেন, বাংলাদেশের যে সমস্ত নাগরিক দীর্ঘ দিন ধরে মিয়ানমারে কারাগারে আটকা পড়ে আছে তাদেরকেও পর্যাক্রমে স্বদেশে ফেরত আনা হবে।
অপরদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শফিউল আলম সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, আমাদের বাংলাদেশী জেলেরা মিয়ানমার জলসীমায় মাছ শিকার করতে যায় তাদের হাতে আটক হয়। এতে দিনের পর দিন বিপদগ্রস্ত হচ্ছে আমাদের বাংলাদেশী জেলেরা। তাই আপনাদের লেখনির মাধ্যমে টেকনাফ সীমান্ত এলাকার জেলেদেরকে সজাগ রাখতে হবে। সেই ধারাবাহিকতা যদি আপনারা বজায় রাখেন তাহলে জেলেদের আটকের সংখ্যা অনেক কমে যাবে।
ফেরত আনা প্রায় ৫ বছর সাজা ভোগ করা মহেশখালীর ১৭ বছরের যুবকটি কান্না বিজড়িত কন্ঠে জানান, বিগত ২০১২ সালের জুন মাসে বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকার করতে গিয়ে মিয়ানমার বিজিপি সদস্যদের হাতে আটক হই। এরপর তাকে মিয়ানমার কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। দুই একদিন যেতে না যেতেই মিয়ানমার প্রসাশন তাকে ৮ বছরের সাজা প্রধান করে। অনেক নির্যাতন, অনেক অত্যাচার, জুলুম সহ্য করে দীর্ঘ ৪ বছর ৭ মাস পর বাংলাদেশ সরকার ও বিজিবি সদস্যদের বিশেষ সহযোগীতায় নিজের দেশে ফিরে আসতে সক্ষম হয়েছি।
যুবকটি কান্না জড়িত কন্ঠে আরো বলেন, দীর্ঘ কয়েক বছর মিয়ানমার কারাগারে থাকা অবস্থায় আমার পরিবারের কোন সদস্যদের সাথে কোন প্রকার যোগাযোগ করতে পারেনি। তবে আমার পরিবার আমি কি জিবিত না মৃত এখনো তারা জানেনা।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.