
এম আবু হেনা সাগর; ঈদগাঁও :
কক্সবাজার সদরের ইসলামাবাদে ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন হাঁসের দীঘির অস্থিত্ব বর্তমানে সংকটের পথে বললেই চলে।
এমনকি সর্বত্র চলছে দীঘি-পুকুর-জলাশয়-জলাধার ভরাটের মহোৎসব। ভরাট হয়ে বিলুপ্তির পথে এগিয়ে যাচ্ছে ঈদগাঁওর ইসলামাবাদ এলাকার হাঁসের দীঘিটি। এদিকে হাঁসের দীঘি রক্ষার দাবীতে ঈদগাহ পৌরসভা বাস্তবায়নের আন্দোলনের উদ্যেগে ২১ এপ্রিল বাদে জুমা প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধনে ডাক দেওয়া হয়েছে। এই সমাবেশে সর্বশ্রেণি পেশার মানুষজনকে সমবেত হওয়ার আহবানও জানিয়েছেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দরা।
পরিবেশবিদদের মতে, কালের সাক্ষ্যবাহী প্রাচীন ও ঐতিহাসিক দীঘি-পুকুরগুলি একদিকে যেমন আমাদের নৈমিত্তিক জীবনযাত্রার চাহিদা পূরণ করছে তেমনি বাস্তুসংস্থান রক্ষা, দেশীয় মাছের ভান্ডার ও প্রজননক্ষেত্র , প্রাণী বৈচিত্র্যতা সংরক্ষণ, ভূ-গর্ভস্থ পানির স্তর রক্ষা, বৃষ্টির পানির সংরক্ষণাধার এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখছে ।
জানা যায়, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের সন্নিকটে সদরের ইসলামাবাদের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহাসিক হাঁসের দীঘি বিগত বহু বছর ধরে এতদাঞ্চলের গণমানুষের প্রয়োজন মিটানোর পাশাপাশি, জীববৈচিত্র্যতা সংরক্ষণ, পরিবেশের ভারসাম্যরক্ষা সহ দেশীয় প্রজাতির মৎস্যের অভয়ারণ্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে ।
দেখা যায়, হাঁসের দীঘির উত্তর অংশ থেকে পুরো দীঘির দুই-তৃতীয়াংশ ইতোমধ্যেই ভরাট করা হয়েছে। ভরাটকৃত জমির উপর কলাগাছ’সহ বিভিন্ন রকমের ফলজ বৃক্ষ রোপন করে আবাদী জমিতে পরিণত করা হয়েছে। দীঘির বাকী অংশটিও ভরাটের জন্য পানির সেচ করে শুকিয়ে ফেলা হয়েছে। দীঘিটি আপাত দৃষ্টিতে মনে হবে ধু ধু প্রান্তর। ভরাট ও সামীনা প্রাচীর নির্মাণের জন্য দীঘির পূর্বপাশের পাড় কেটে গাড়ী চলাচলের রাস্তা তৈরী করে মজুদ করা হয়েছে বালি, ইট ও কংক্রীট ।
স্থানীয় লোকজনের মতে, দীঘি ভরাটের ফলে ইতোমধ্যেই পরিবেশের উপর মারাত্মক প্রভাব পডতে শুরু করেছে। হাঁসের দীঘিকে ঘিরে থাকা পাখপাখালীর প্রাত্যাহিক কোলাহল হারিয়ে গেছে, হারিয়ে গেছে প্রাণী বৈচিত্র্যতাও।
ঈদগাহ পৌরসভা বাস্তবায়ন আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক হাসান তারেকের মতে, হাঁসের দীঘি প্রস্তাবিত ঈদগাহ পৌর এলাকার আওতাভুক্ত একটি প্রাচীন ও ঐতিহাসিক জলাধার। নিলামমুলে ব্যক্তি মালিকানাধীন হলে এটি মূলত রাষ্ট্রীয়, আমাদের পরিবেশের সম্পদ। ঐতিহ্যের স্বার্থে, পরিবেশের স্বার্থে, জীব বৈচিত্র্য রক্ষার স্বার্থে এবং বৃহৎ জনস্বার্থে এটি সংরক্ষণ করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। এছাড়া প্রস্তাবিত পৌর এলাকার জলাধার হিসেবে এটি যেকোন ধরনের অগ্নিনির্বাপনে ফায়ার সার্ভিসকে কার্যকর সহযোগিতা দিবে। তবে দুবৃত্তায়ন বন্ধ না হলে হাঁসের দীঘি রক্ষায় বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে ।
শতাব্দীর ঐতিহ্য বুকে নিয়ে হাঁসের দীঘি বৃহত্তর ঈদগাঁও’র লোকসংস্কৃতিকে ধারণ করে মাতৃস্নেহের মতো এতদাঞ্চলের পরিবেশ-প্রতিবেশ সংরক্ষণ এবং দেশীয় মাছের প্রজনন ও অভয়ারণ্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার পাশাপাশি স্থানীয় জনসাধারণের প্রাত্যহিক জীবনের তাগিদ মিটিয়ে আসছে ।
হাঁসের দীঘি বিলুপ্ত হলে বিলুপ্ত হবে একটি ইতিহাস একটি কিংবদন্তী, বিলুপ্ত হবে বাঙ্গালী সংস্কৃতির একটি অনুষঙ্গও। প্রশাসনিকভাবে দ্রুত ওই দীঘি ভরাটরোধ করা না গেলে বিদ্যমান অন্য সকল দীঘি কিংবা পুকুর কিংবা জলাধারও অস্তিত্ব সংকটে পড়ার আশংকা রয়েছে ।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.