
মিয়ানমারের রাখাইনে সেনাবাহিনীর গণহত্যা আর ভয়ংকর নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে গত ২৫ আগস্ট থেকে গত ১৪ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অন্তত চার লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।
অবশেষে রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে মুখ খুলেছেন মিয়ানমারের গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সুচি। বিশ্বজুড়ে সমালোচনার প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার জাতির উদ্দেশ্যে প্রথম প্রকাশ্যে ভাষণ দেন তিনি। সু চির ভাষণ টেলিভিশনে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।
ভাষণে সু চি দাবি করেছেন, ৫ সেপ্টেম্বরের পর রাখাইনে কোনো ধরনের সহিংসতা বা অভিযান চালানো হয়নি। অধিকাংশ রাখাইন গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে যেসব খবর অন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এসেছে, সেটিও অস্বীকার করেছেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘বেশ কিছু মুসলিম বাংলাদেশে পালিয়ে গেছে- এ ধরনের খবর শুনে আমরা উদ্বিগ্ন। রাখাইন থেকে মুসলিমরা কেন পালিয়ে বাংলাদেশে যাচ্ছে, তা খুঁজে বের করতে চাই। অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ আছে। তাদের সব কথাই শুনতে হবে। কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার আগে অভিযোগগুলো যে তথ্য-প্রমাণনির্ভর, তা নিশ্চিত করতে হবে।’
সু চি বলেন, আমরা শান্তি চাই। ঐক্য চাই। যুদ্ধ চাই না। আমরা রাখাইনে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠায় প্রতিষ্ঠায় অঙ্গিকারাবদ্ধ। আমরা সব মানুষের দুর্ভোগ গভীরভাবে অনুভব করি। রাখাইনে ব্যাপক দমন পীড়ন, হত্যা, ধর্ষনের মূল অভিযোগ যাদের বিরুদ্ধে, সেই সেনাবাহিনীর সমালোচনা থেকে বিরত ছিলেন সু চি।
অধিকাংশ রাখাইন গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে যেসব খবর অন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এসেছে, সেটি অস্বীকার করেছেন সু চি। তিনি বলেন, ‘রাখাইনে শান্তি, স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারে কাজ করছি। রাখাইনে বাস্তুচ্যুতদের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তাদেরকে (সেনাবাহিনী) সংযম দেখানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
তার ভাষণে সব ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বেআইনি সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছেন সু চি। তিনি জানান, কফি আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে তার সরকার কাজ করবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের রাখাইন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের বিষয়ে মিয়ানমার সরকার ভীত নয়। পরিস্থিতি দেখার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রাখাইন পরিদর্শনে যাওয়ার আহবানও জানান তিনি।
সু চি বলেন, মিয়ানমার একটি নবীন ও ভঙ্গুর দেশ। তারা অনেক সমস্যা মোকাবিলা করছেন। সব সমস্যাই মোকাবিলা করতে হবে। কিছু সমস্যা নিয়ে পড়ে থাকলে হবে না। নব্বই দশকের প্রত্যাবাসন চুক্তির আওতায় ‘যাচাইয়ের মাধ্যমে’ বাংলাদেশে থাকা শরণার্থীদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার প্রস্তুত।
তিনি আরও বলেন, মিয়ানমারে যারা ফিরতে চায় ওই চুক্তির আওতায় যে কোনো সময় আমরা তাদের ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া শুরু করতে প্রস্তুত। যে কোনো ধরনের সমস্যা ছাড়াই নিরাপত্তা ও মানবিক সহায়তার পূর্ণ নিশ্চিয়তা দিয়ে আমরা তাদের গ্রহণ করব।
সূত্র:আয়েশা সিদ্দিকা শিরিন/priyo.com,ডেস্ক।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.