মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম; লামা :
আগামী ২১ জুলাই পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে পার্বত্য জেলা বান্দরবানের লামায় জমে উঠেছে কোরবানীর পশুর হাট। লামা উপজেলার প্রাণকেন্দ্র লামা পৌর বাস টার্মিনালে বসেছে এই বিশাল পশুর হাট।
শনিবার (১৭ জুলাই) লামা বাজারের সাপ্তাহিক হাটের দিন হওয়ায় পৌর শহর সহ আশপাশের ইউনিয়ন থেকে পশুহাটে ছোট, মাঝারি ও বড় সাইজের কয়েক হাজার গরু উঠেছে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, লামা পৌর বাস টার্মিনালেন বিশাল মাঠ ভরেও পশুরহাটটি প্রায় আধা কিলোমিটার সড়কের দুইপাশ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। যার ফলে পশু বিক্রেতা ও ক্রেতাদের আগমনে বাজারে গাদাগাদি করে চলাচল করতে হচ্ছে। তবে এ অবস্থায় চলাচলে অধিকাংশরাই মাস্ক পড়ছেন না।
এদিকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাজারে কেনাবেচা করতে লামা থানা পুলিশ, লামা সার্কেল ও লামা পৌরসভা কর্তৃপক্ষ কাজ করছেন। তারা সকলকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কেনাবেচা করতে অনুরোধ করেছেন। লামা পৌরসভা থেকে বাজারে আসা লোকজনের মাঝে মাস্ক বিতরণ করতে দেখা যায়।
গরু ক্রয় করতে আসা লামা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়া এলাকার বাসিন্দা মো: সেলিম জানান, এবার পশুর দাম হাতের নাগালে আছে। এই বাজারে প্রচুর গরু ছাগল বিক্রি হয়েছে। তবে বাজারে পরিস্থিতি দেখে মনে হয়েছে করোনার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। কেউ সামাজিক দূরত্ব যেমন বজায় রাখছেন না। তেমনি স্বাস্থ্যবিধিও মানছেন না।
আরেক গরু ক্রেতা আবু তৈয়ব বলেন, অন্যান্য বছরে চেয়ে এবার গরু দাম কম হলেও এ বাজারের গরুর পাইকাররা দাম ছাড়ছেন না। পাইকাররা বলছেন করোনার কারণে বাহির থেকে গরু না আসায় এবার অন্যান্য বছরের চেয়ে এবার গরুর দাম বেশি।
এ ব্যাপারে গরুর পাইকারী ব্যবসায়ী মোঃ বেচু মিয়া জানান, গ্রাম অঞ্চলে যারা গরুর লালনপালন করেন তাদের কাছ থেকে যখন আমরা গরু ক্রয় করতে যাই, তখন তারা অতিরিক্ত দাম চান। গরুর দাম উপযুক্ত না হলে তারা গরুগুলো বিক্রি করতে চান না। বাধ্য হয়ে আমাদেরকে টার্গেটের চেয়ে বেশি দামে গরু ক্রয় করতে হচ্ছে। কিন্তু বাজারে নিয়ে আসার পর ক্রেতারা আমরা যে দামে ক্রয় করেছি এর চেয়ে কম দাম বলছেন। এ অবস্থায় আমাদের অনেক গরু ক্রয়কৃত দামের চেয়ে কমে বিক্রয় করতে হচ্ছে। এতে আমরা পাইকারী ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।
এদিকে, গরুর খামারিরা দাবি করেছেন- বড় সাইজের গরুগুলো লালনপালন করতে যে খরচ হয়েছে সেই হিসাবে বর্তমান বাজারে ক্রেতারা গরুর দাম অনেক কম বলছেন। ওই দামে গরু বিক্রি করলে তারা অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এছাড়াও করোনার কারণে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এখন বড় সাইজের গরু কোরবানি দিতে আগ্রহ নয়।
এ ব্যাপারে পশুরহাটের ইজারাদার মো: ফরিদ জানান, আজ বাজারে বড় সাইজের অনেক গরু বিক্রি হয়েছে। তবে মাঝারী ও ছোট সাইজের গরু বেশি বিক্রি হচ্ছে। বাজারের ক্রেতা-বিক্রেতাদের স্বাস্থ্যবিধি মানার জন্য বার বার মাইকিং করা হচ্ছে। কিন্তু তারা তা মানছেন না। এছাড়া অনেকেই মাস্ক পড়ছেন না। আমরা বার বার মাস্ক পড়ার জন্য অনুরোধ করছি। কিন্তু ক্রেতা ও বিক্রেতারা তা শুনছেন না।
এদিকে পশুরহাটে জাল নোট সনাক্ত করণের মেশিন বসানো ও জাল নোট সনাক্তের বিষয়ে সোনালী ব্যাংক, জনতা, কৃষি ও ইসলামী ব্যাংক অস্থায়ী বুথ স্থাপন করেছেন।
তবে লামা প্রাণী সম্পদ বিভাগ থেকে অনলাইনে গরু বেচাকেনা শুরু হলেও লামার ক্রেতারা অনলাইনে পশু ক্রয় করতে আগ্রহী নন। ক্রেতারা জানিয়েছেন, অনলাইনে যে পশুর ছবি দেখানো হয়, পরবর্তীতে সরাসরি গিয়ে ছবির সাথে এর মিল পাওয়া যায় না।
লামা পৌরসভার মেয়র মো: জহিরুল ইসলাম বলেন, পশুরহাটের সার্বিক ব্যবস্থাপনার কাজ লামা পৌরসভা করছে। আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাজ করছে।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"



You must be logged in to post a comment.