
গভীর রাতে হামলায় ভাংচুর করা গ্রাম পুলিশ কাজল বড়ুয়া বসতবাড়ি।
মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম; লামা :
ফ্রান্স প্রবাসী স্ত্রী পরকীয়ায় আসক্ত হয়ে নিজের বয়সের তুলনায় ছোট ছেলেকে নিয়ে পালানোর ঘটনায় দীর্ঘদিন বিরোধ চলছে লামার রূপসীপাড়ার দরদরী এলাকার প্রভাবশালী কোটিপতি বোধি রঞ্জন বড়ুয়া ও গ্রামপুলিশ কাজল বড়ুয়া দুই পরিবারের মাঝে। পুত্রবধূ পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় বোধিরঞ্জন বড়ুয়ার স্ত্রী সুজাতা বড়ুয়া বাদী হয়ে লামা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে ও লামা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে চুরির অভিযোগ এনে দুইটি মামলা করেছে কাজল বড়ুয়ার পরিবারের বিরুদ্ধে।
কাজল বড়ুয়া বলেন, বোধিরঞ্জন বড়ুয়ার ছেলে ফ্রান্স প্রবাসী জ্ঞান পাল বড়ুয়ার এর স্ত্রী ও ১ সন্তানের মা জয়ীতা বড়ুয়া (২৮) গত ১৭ জুলাই শনিবার দিনগত রাতে আমার ১৯ বছর বয়সী ছেলেকে পুসলিয়ে নিয়ে বিয়ে করেছে। এই বিষয়ে ঘটনাটি ভিন্নভাবে সাজিয়ে আমার পরিবারের নামে দুইটি মামলা করেছে বোধিরঞ্জন এর স্ত্রী সুজাতা বড়ুয়া। মামলায় এখনো আমার ছেলে সুভাত কুসুম বড়ুয়া জেল হাজতে রয়েছে।
আমরা পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা আদালত থেকে জামিনে থাকলেও প্রভাবশালীদের হুমকি-ধমকি ও মামলা হামলায় অতিষ্ট হয়ে উঠেছে আমাদের জীবন যাত্রা। তাদের ভয়ে আমরা রাস্তাঘাটে চলতে পারছিনা। সবসময় আমরা ভয়ে ভয়ে থাকি।

গভীর রাতে হামলায় ভাংচুর করা গ্রাম পুলিশ কাজল বড়ুয়া বসতবাড়ি।
তারই সূত্র থেকে রোববার দিবাগত রাত ৯টায় আমি বাড়ির পাশে দরদরী সুনন্দ বৌদ্ধ বিহার থেকে কঠিন চীবর দান অনুষ্ঠান শেষ করে নাতনি পুষ্পিতা বড়ুয়াকে কোলে নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে দরদরী বাজারের প্রণিত বড়ুয়ার দোকানের সামনে সুজাতা বড়ুয়া কিছু বুঝে উঠার আগে পায়ের জুতা খুলে আমাকে মারধর শুরু করে। তার সাথে সাথে তার আত্মীয় সাধন বড়ুয়া ছেলে ছোটন বড়ুয়া আমাকে প্রচন্ড মারধর করতে থাকে। কোনমতে তাদের হাত থেকে পালিয়ে দৌঁড়ে বাড়িতে চলে আসলে, তারা ১৫/২০ জন রাত ১০টায় আবারো বাড়িতে এসে বাড়িঘর ভাংচুর করে, ইটপাটকেল মারে এবং আমি আমার স্ত্রী শুষিলা বড়ুয়াকে মারধর করে। বোধিরঞ্জন এর স্ত্রী সুজাতা বড়ুয়ার নেতৃত্বে ছোটন বড়ুয়া, সাধন বড়ুয়া, সুমন বড়ুয়া, বাবুটি বড়ুয়া, লাকী বড়ুয়া, নিপু বড়ুয়া, রাহুল বড়ুয়া ও মিন্টু বড়ুয়া সহ ১৫/২০ জন হামলা চালায়। আমরা পুরো পরিবার এখন জীবনের শংঙ্কায় আছি।
কাজল বড়–য়ার মেয়ে সুপর্ন্না বড়ুয়া বলেন, বোধিরঞ্জন ও সাধন বড়ুয়া পরিবারের লোকজন ভাড়াটিয়া লোকজন নিয়ে আমাদের বাড়িঘর ভাংচুর করে। তারা আমার বাবা ও মাকে মারধর করে। আমরা গরীব বলে কেউ আমাদের বাঁচাতে এগিয়ে আসে নাই। তারা আইনের কাছে বিচার দিয়েছে। আদালত যা সিদ্ধান্ত দিবে আমরা মেনে নিব। কিন্তু তারা নিজেরা মামলা দিয়ে আবার নিজেরা সন্ত্রাসী নিয়ে এসে আমাদের মারধর ও বাড়িঘরে হামলার বিষয়টি খুবই দুঃখজনক।
এই বিষয়ে কথা হয় প্রতিপক্ষের সাধন বড়ুয়ার সাথে। তিনি বলেন, নিউজ করিয়েন না। আপনার সাথে কথা বলবো।
রূপসীপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান ছাচিং প্রু মার্মা বলেন, বিষয়টি আমি জেনেছি। আদালতে মামলা করে আবার নিজের হাতে আইন তুলে নেয়া ঠিক হয়নি। বিষয়টি আমি সমাধান করে দিব বলেছি।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.