
ব্রিটিশ নারী লুসি হেলেন ফ্রান্সিস হোল্টের পাশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ফাইল ছবি
ব্রিটিশ নারী লুসি হেলেন ফ্রান্সিস হোল্টেকে (৮৭) নাগরিকত্বের সনদ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি গত ৫৭ বছর ধরে বাংলাদেশে বসবাস করছেন।
৩১ মার্চ, শনিবার বিকেল ৪টায় প্রধানমন্ত্রী গণভবনে লুসি হেলেনকে নাগরিকত্বের সনদ দেবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেসসচিব আশরাফুল আলম খোকন।
এর আগে গত ৮ ফেব্রুয়ারি, প্রতি বছর ভিসা নবায়নের অবসান ঘটিয়ে ১৫ বছরের মাল্টিপল বাংলাদেশি ভিসাসহ লুসি হেলেনের হাতে তার পাসপোর্ট তুলে দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী।
জন হোল্ট ও ফ্রান্সিস হোল্টের মেয়ে লুসি ১৯৩০ সালের ১৬ ডিসেম্বর যুক্তরাজ্যের সেন্ট হেলেন শহরে জন্মগ্রহণ করেন। শিক্ষা সমাপ্ত করে তিনি ১৯৬০ সালে প্রথম বাংলাদেশ সফর করেন। সে বছর তিনি বরিশাল অক্সফোর্ড মিশনে যোগ দেন এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুদের শিক্ষা দেন। এরপর তিনি আর স্বদেশে ফিরে যাননি। বাংলাদেশের মাটি ও মানুষের প্রতি ভালোবাসার টানে এখানেই থেকে যান। তিনি যশোর, খুলনা, নওগাঁ, ঢাকা ও গোপালগঞ্জে ৫৭ বছর ধরে কাজ করেন।
২০০৪ সালে অবসর নেওয়ার পর লুসি বরিশাল অক্সফোর্ড মিশনে ফিরে আসেন। অবসর জীবনে তিনি ইংরেজি শিক্ষা দেন ও দুস্থ শিশুদের মানসিক প্রণোদনা দেন। পাশাপাশি দুস্থ শিশুদের জন্য সামর্থ্যবানদের কাছ থেকে তহবিল সংগ্রহ করেন।
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে লুসি হেলেনের অসামান্য অবদান রয়েছে। সে সময় তিনি আহত মানুষের সেবা-শুশ্রুষা করেছেন। সে সময় তিনি যশোর ক্যাথলিক চার্চে কর্মরত ছিলেন। সেখানে তিনি শিশুদের ইংরেজি শিক্ষা দিতেন। যুদ্ধ শুরু হলে লুসি ছাড়া অন্য সবাই স্কুল বন্ধ করে দিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে খুলনা চলে যায়।
ভয়ংকর ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও পাশের ফাতেমা হাসপাতালে যান লুসি। সেখানে যুদ্ধাহত বেসামরিক নাগরিকদের সেবা দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেন।
হাসপাতালের চিকিৎসকরা একজন বিদেশি নারীর এমন আগ্রহ দেখে অবাক হন। পরে তাকে এ বিষয়ে কাজ করার অনুমতি দেন। এরপর থেকে তিনি যুদ্ধাহত মানুষের সেবা শুরু করেন। গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর বরিশাল মহানগর পুলিশ মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান রাখায় লুসিকে সম্মাননা দেয়।
সূত্র:মুহম্মদ আকবর-priyo.com;ডেস্ক।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.