
এম আবু হেনা সাগর; চুনতি সীরাত ময়দান থেকে ..
আশেকে রসুল (সা.) অলিকুল শিরোমনি মুজাদ্দেদে মাহফিলে সীরতুন্নবী (সা.) প্রখ্যাত আলেমদ্বীন হযরত আলহাজ্ব শাহ মাওলানা হাফেজ আহমদ (রাহ.আ.) শাহ সাহেব কেবলা চুনতি কর্তৃক প্রবর্তিত ১৯ দিন ব্যাপী ৪৮ তম সীরতুন্নবী (সা.) চলছে। এ মাহফিলে কনকনে শীতকে উপেক্ষা করে ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা দূর-দুরান্ত থেকে আসা ওয়ায়েজগণের ওয়াজ শ্রবণ করে যাচ্ছে।
জানা যায়, হিজরি ১৩০০ শতাদ্বীতে সারা বিশ্বে ইসলামের চরম অবনতি পরিলক্ষিত হয়। প্রথম মহাযুদ্ধে শোচনীয় পরাজয়ে খেলাফতের ধ্বজা ধারী তুরস্ক সাম্রাজ্য ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় এবং সঙ্গে সঙ্গে খেলাফতের অবসানে ইসলামের ঐক্যবদ্ধ শক্তির উৎস নিষ্প্রাণ হয়ে পড়ে। অপর দিকে অশুভ প্রাশ্চাত্য জড়বাদ, নাস্তিক সমাজ তন্ত্রবাদ, ক্রমবিকাশমান বিশ্বে মুসলমানদের তৌহিদি প্রেরনাকে বিপর্যস্ত করে তুলে। এই সুযোগে ইহুদিরা বাইতুল মোকাদ্দাস দখল করে ইসলামকে ধ্বংস করার পাঁয়তারা করে থাকে। বাংলাদেশের মুসলমানেরাও এই ষড়যন্ত্রে পতিত হয়ে আল্লাহর প্রদত্ত ও হয়রত মুহাম্মদুর রসুলুল্লাহ (সা.) প্রদর্শিত মূল সত্য থেকে অনেক দূরে সরে পড়তে থাকে। বাংলার জমিনেও নবীজির সীরতের আলো নিষ্প্রাণ হয়ে যাচ্ছিল। বিভিন্ন মতবাদের বাতাস প্রবাহিত হতে লাগল।
ইসলামের এই দু:সময়ে ঘুণে ধরা সমাজের সংস্কার সাধনের জন্য আবিভূর্ত হলেন প্রখ্যাত, অলিয়ে কামেল, মোজাদ্দেদে মিল্লাত, বাণীয়ে মাহফিলে সীরতুন্নবী (সা.) হয়রত আলহাজ শাহ মাওলানা হাফেজ আহমদ (রাহ. আ.) প্রকাশ শাহ সাহেব কেবলা চুনতি। তিনি সুষ্পষ্টভাবে উপ লদ্বি করেছিলেন আল্লাহ প্রদত্ত ও রসুল (সা.) প্রদর্শিত মূল সত্য থেকে বিচ্যুতিই মুসলমান সমাজের দুরাবস্থা ও অধ:পতনের একমাত্র কারন। তাই তিনি সীরতুন্নবী (সা.) তথা আল কোরআনের শিক্ষা ও মহানবী (সা.) এর জীবনাদর্শ ব্যাপক প্রচার ও প্রসারের লক্ষে সর্ব প্রথম ১৯৭২ খ্রিষ্টাদ্ধ মোতাবেক ১৩৯২ হিজরী ১২ রবিউল আওয়াল অশ্রুতপূর্ব সীরতুন্নবী (সা.) নামে ১৯ দিন ব্যাপী এক ঐতিহাসিক মাহফিলের গোড়া পত্তন করেন।
২১ নভেম্বর চুনতির সীরত ময়দান কক্সভিউ ডট কম’র এ প্রতিবেদক পরিদর্শন করতে গেলে চোখে পড়ে, মাহফিলের প্যান্ডেল টিন দিয়ে তৈরী, দৃষ্টি নন্দন মঞ্চ, মাহফিলে আগত লোকজনদের কে দৈনিক খাবার, মেডিকেল টিমসহ আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের জন্য অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পও রয়েছে। গত ১৯ নভেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হওয়া এ মাহফিল সম্পন্ন হবে ৭ ডিসেম্বর। ১৯ দিন ব্যাপী এই মাহফিলে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ওয়ায়েজগণরা বিভিন্ন বিষয়ের উপর তাশরিফ পেশ করে যাচ্ছেন।
তবে প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ওয়ায়েজগণ অংশ নিয়েছেন এই মাহ ফিলে। স্থানীয় লোকজনদেরকে ওয়াজ শ্রবণ করতেও দেখা গেছে।
বক্তৃতাকালীন বিষয়বস্তু বহিভূর্ত অপ্রাসঙ্গিক ও রাজনৈতিক আলোচনা বর্জন করার প্রতিও হয়রত ওয়ায়েজীন কেরামের প্রতি সবিনয়ে আরজ করেন।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.