
মুকুল কান্তি দাশ; চকরিয়া :
স্কুলের একটি কক্ষে কয়েকটি থাক বসানো হয়েছে। এসব তাকে থরে থরে সাজিয়ে রাখা হয়েছে খাতা-কলম-পেন্সিল, জ্যামিতি বক্স, রাবার, বিস্কুট, চানাচুর, চকলেটসহ বিভিন্ন রকমের শিক্ষাসামগ্রী। কিন্তু কোনো মালিক নেই, বিক্রয়কর্মী নেই, এমনকি নজরদারির জন্য নেই কোনো সিসি ক্যামেরা। পণ্যের গায়ে দাম লেখা আছে। ক্রেতরাা সেই দাম দেখে পণ্য নিয়ে নির্ধারিত বক্সে টাকা রেখে দেবেন নিজ দায়িত্বে।
কক্সবাজারের চকরিয়ায় ‘সততা স্টোর’ নামের একটি দোকান থেকে থেকে এভাবেই পণ্য ক্রয় করতে হয়। কক্সবাজারের চকরিয়া সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে এই ‘সততা স্টোর’ স্থাপন করা হয়েছে। এই দোকানের ক্রেতা মূলত শিক্ষার্থীরাই। পণ্য হিসেবে রয়েছে নানা শিক্ষা উপকরণ। শিক্ষার্থীদের মধ্যে সততা ও ন্যায়-নীতির অনুশীলনের সুযোগ করে দিতেই সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) এ ব্যতিক্রমী দোকানের উদ্বোধনের উদ্যোগ নেন।
জানা গেছে, নির্দিষ্ট কিছু নির্দেশনা মেনে ওই দোকান থেকে তাদের প্রয়োজনীয় যেকোনো পণ্য কিনতে পারবে শিক্ষার্থীরা। দোকানের চারপাশে থাকে সাজানো আছে কলম, পেন্সিল, খাতা, জ্যামিতি বক্স, রাবার, বিস্কুট, চানাচুর, চকলেটসহ বিভিন্ন রকমের শিক্ষাসামগ্রী। একটি পণ্য অতিরিক্ত নিলে বা টাকা না দিলে দেখার কেউ নেই। তবু সততার পরীক্ষায় পাস করতে পারে কি না, তা দেখার পালা। প্রতিদিন স্কুল চলাকালীন ওই দোকান খোলা থাকবে। কেবল স্কুলের শিক্ষার্থী-শিক্ষকরাই এ দোকান থেকে পণ্য ক্রয় করতে পারবে। শিক্ষার্থীরা ক্রয় করার পদ্ধতি সম্পর্কে শিক্ষকদের পাশাপাশি ক্যাপ্টেনের সহযোগিতা নিতে পারবে।
গত ১৮ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার দুপুরে অনুষ্টানের প্রধান অতিথি চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নূরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান ‘সততা স্টোর’র উদ্বোধন করেন। চকরিয়া সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জি এম এনামুল হকের সভাপতিত্বে এবং টিআইবি’র এরিয়া ম্যানেজার এজিএম জাহাঙ্গীর আলমের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) চকরিয়ার সভাপতি অধ্যাপক একেএম শাহাবুদ্দিন।
এসময় বক্তব্য রাখেন সনাক সদস্য মোহব্বত চৌধুরী, জিয়া উদ্দিন, বিদ্যালয়ের শিক্ষক এসএম রিফাতুল ইসলাম প্রমূখ। বক্তব্য শেষে শিক্ষার্থীদের শপথ বাক্য পাঠ করান ইউএনও শিবলী নোমান।
উদ্বোধনী অনুষ্টানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূরুদ্দীন মুহাম্মদ শিবলী নোমান শিক্ষার্থীদের উদ্যোশে বলেন, স্বপ্ন, বিশ্বাস ও কর্ম এই ৩ টি লক্ষ্য নিয়ে অগ্রসর হলে প্রতিটি শিক্ষার্থী জীবনে সফলতা আসবে। তিনি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে নিজেকে কি ভাবতে চাও তার ছবি এঁকে পড়ার টেবিলের সাথে টাঙিয়ে রাখার পরামর্শ দেন যাতে প্রতিনিয়ত সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে তাড়িয়ে বেড়ায়। তিনি ছাত্রদের সুশিক্ষিত হয়ে নিজেকে দেশের যোগ্যতম নাগরিক হিসেবে দেশের কাজে আত্মনিয়োগ করার আহবান জানান। একই সাথে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের গুরুদায়িত্ব পালনের আহবান জানিয়ে বলেন চকরিয়া সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় এক সময় দক্ষিণ চট্টগ্রামের সেরা ছিলো। শিক্ষার্থী-শিক্ষক-অভিভাবকসহ সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আবারো সেরা প্রতিষ্টানের তালিকায় এ বিদ্যালয়কে দেখার প্রত্যাশা করছি।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.