
মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম; কক্সভিউ :
কক্সবাজার জেলা জামায়াতের সেক্রেটারী ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জি.এম রহিমুল্লাহ’র প্রথম জানাযা আজ (বুধবার) সকাল ১০টা ৫০ মিনিটে কক্সবাজার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
নামাজে জানাযায় ইমামতি করেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শীর্ষনেতা মাওলানা আবদুল হালিম।
জানাযার নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই কক্সবাজার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দান কাণায়-কাণায় ভরে যায়। পার্শ্ববর্তী কক্সবাজার বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্টেডিয়াম, পৌর প্রিপ্যারেটরী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠসহ আশপাশের সড়কে শোকাহত মানুষের অবস্থান ছিল লক্ষণীয়। যে যেখানে ছিল সেখান থেকে জানাযার নামাজে অংশ নেয়।

জানাযাপূর্ব সমাবেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু) আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল, চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের আমীর ও কক্সবাজার জেলার সাবেক আমীর মোহাম্মদ শাহজাহান, কক্সবাজার সদর-রামু আসনের সাবেক এমপি লুৎফুর রহমান কাজল, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের লে.কর্ণেল (অব.) ফোরকান অাহমদ, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান, জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমান, ঝিলংজা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুল গফুর, টেকনাফের হোয়াইক্ষ্যং ইউপি চেয়ারম্যান জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর অধ্যক্ষ মাওলানা নুর আহমদ আনোয়ারী, শিবিরের কেন্দ্রীয় ছাত্র আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক তৌহিদ হোসেন, চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এডভোকেট ফরিদ উদ্দিন খান, অধ্যক্ষ নুর হোসেন সিদ্দিকী, কুমিল্লা ভিকটোরিয়া কলেজের সাবেক ভিপি অধ্যক্ষ রেজাউল করিম, কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক মেয়র সরওয়ার কামাল, কক্সবাজার শহর জামায়াতের আমীর সাইয়েদুল আলম, ইসলামী ঐক্যজোটের কক্সবাজার জেলা সভাপতি হাফেজ মাওলানা সালামত উল্লাহ, রামু উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান উপজেলা জামায়াতের আমীর ফজলুল্লাহ মো: হাসান, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর কাশেম, সদর উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান এডভোকেট সলিম উল্লাহ বাহাদুর, সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শহিদুল আলম বাহাদুর, জেলা শিবির সভাপতি হেদায়েত উল্লাহ, জেলা শিবির সভাপতি রবিউল আলম, শহর সভাপতি রিদুয়ানুল হক জিসান প্রমুখ। পরিবাবের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন জাহিদ ইফতেখার।

মরহুম জি এম রহিমুল্লাহর একমাত্র পুত্র সন্তান
জানাযাপূর্ব সংক্ষিপ্ত সভায় বক্তারা বলেন- ‘তিনি সবার জন্য রাজনীতি করতেন, গরীব দু:খী মেহনতি মানুষের জন্য রাজনীতি করতেন। মানুষের যেকোন বিপদে তিনি সবার আগে এগিয়ে যেতেন। তাঁর সাথে রাজনৈতিক বিরোধ থাকতে পারে, তবে মানবতার খাতিরে কারো সাথে ব্যক্তিগত শত্রুতা ছিলনা। তিনি একটি রাজনৈতিক দলের সাথে সম্পৃক্ত থাকলেও সবার কাছে ছিলেন তিনি সমান।
সভা পরিচালনা করেন কক্সবাজার জেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক শামসুল আলম বাহাদুর, শহর জামায়াতের সেক্রেটারী আবদুল্লাহ আল ফারুক।
উল্লেখ্য যে, জি.এম রহিমুল্লাহ মঙ্গলবার (২০ নভেম্বর) কক্সবাজার শহরের হোটেল সাগরগাঁওতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। হোটেল সাগরগাঁ’র চতুর্থ তলার ৩১৬ নম্বর কক্ষে একাই ঘুমান। দুপুর পর্যন্ত ঘুম থেকে না ওঠায় তাকে ডাকতে যায় হোটেল বয়। সাড়াশব্দ না পেয়ে ঘুমে আছেন ভেবে চলে যান। পরবর্তীতে ডাকতে যায় হোটেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও জিএম রহিমুল্লাহর শ্যালক শাহেদুল ইসলাম। তিনিও গিয়ে প্রথমে দরজা ধাক্কা দেন। কোনো সাড়া-শব্দ পাননি। পরে ভ্যান্টিলেটর দিয়ে উঁকি মেরে দেখেন- জিএম রহিম উল্লাহ উপুড় হয়ে ঘুমিয়ে আছেন। ২টা ৪০ মিনিটের দিকে বিকল্প চাবি দিয়ে দরজা খুলে দেখেন তিনি মারা গেছেন। পরে পুলিশকে খবর দেয় তারা।
প্রসঙ্গত: জিএম রহিমুল্লাহ (৫৪) কক্সবাজার সদর উপজেলার ভারুয়াখালীর বানিয়াপাড়ার বাসিন্দা মৃত আব্দুল হাকিমের ছেলে। তিনি ভারুয়াখালী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান। তিনি ৪ মেয়ে ও ১ ছেলের জনক।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.