
আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে বিভিন্ন সময় হত্যার চেষ্টা হয়েছে ১৯বার। বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব ঘটনায় সরাসরি অংশ নিয়েছে যারা তাদের বিচারের মুখোমুখি করার পাশাপাশি একটি কমিশন গঠন করে পেছনের কারিগরদের পরিচয় উদঘাটন করা দরকার। আর আওয়ামী লীগ নেতারা বলছেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বিনাশ করতে চায় যারা তারাই শেখ হাসিনাকে হত্যা করে নিশ্চিহ্ন করতে চায় আওয়ামী লীগকে। এরা সবাই একই সূত্রে গাঁথা বলেও মনে করে আওয়ামী লীগ।
১৮৮১ সালে দেশে ফেরার পর শেখ হাসিনাকে প্রথম হত্যার চেষ্টা হয় ১৯৮৮ সালের ২৪ জানুয়ারি। চট্টগ্রাামের লালদীঘি ময়দানে শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে চাালানো গুলিতে নিহত আটজন। ৮৯ সালের ১১ আগস্ট রাতে ফ্রিডম পার্টির একদল সন্ত্রাসী ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাড়িতে গুলিবর্ষণ ও গ্রেনেড হামলা চালায়। ‘৯১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর গ্রিনরোডের কাছাকাছি ধানমন্ডি স্কুলে গুলি বর্ষণ ও বোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। অভিযোগ বিএনপি কর্মীদের বিরুদ্ধে। ৯৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর ঈশ্বরদী ও নাটোর রেলস্টেশনে প্রবেশের মুখে তাকে বহনকারী ট্রেনের কামরা লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়া হয়। ‘৯৫ সালের ৭ ডিসেম্বর শেখ রাসেল স্কোয়ারে সমাবেশে ভাষণরত অবস্থায় গুলি করা হয় আওয়ামী লীগ সভাপতির উপর।’ ৯৬’র ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে একটি মাইক্রোবাস থেকে শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ্য করে গুলি ও বোমার বিস্ফোরণ করা হয়। ৯৭ সালে শেখ হাসিনা ও তার পুত্রকন্যাসহ ৩১জনকে হত্যার হুমকি দিয়ে ইমেইল পাঠায় ইন্টার এশিয়া টিভির মালিক শোয়েব চৌধুরী। ২০০০ সালের ২০ জুলাই কোটালিপাড়ায় জনসভাস্থলে ৭৬ কেজি ওজনের বোমা পুতেঁ রাখে হরকাতুল জিহাদ বাংলাদেশ। ২০০১ সালের ২৯শে মে খুলনার রুপসা সেতু উদ্বোধন করতে যাওয়ার কথা ছিলো শেখ হাসিনার। সেখান থেকে বোমা উদ্ধার করে গোয়েন্দা পুলিশ। ২০০২ সালের ৪ মার্চ নওগাঁয়, ৩০ আগস্ট সাতক্ষীরার হিজলিগ্রামে, ২৯ সেপ্টেম্বর কলারোয়ায় শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গাড়ি বহরে হামলা হয়। ২০০৪ সালের ২ এপ্রিল গৌরনদীতে গুলি চালানো হয় তার গাড়ি বহরে। তবে সব ঘটনা ছাপিয়ে যায় ২০০৪;র ২১শে আগস্ট। ভয়াবহ ও নৃশংস জঙ্গি হামলায় শেখ হাসিনা ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেলেও নিহত হন ২৪ জন নেতাকর্মী।
রাজনৈতিক বিশ্লেষক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘বিচারিক আদালতের পাশাপাশি তদন্ত কমিশনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে প্রকাশের জন্য যেন তুলে ধরা হয়। কেনেডির হত্যাকাণ্ডের পরে দেখেছি ওয়ারেন্ট কমিশন, ইন্দিরা গান্ধীর হত্যাকাণ্ডের পরে দেখেছি ঠাকুর কমিশন, রাজীব গান্ধী হত্যাকাণ্ডের পরে দেখেছি জৈন কমিশন।’
আওয়ামী লীগ বলছে, ৭৫;র ঘাতক এবং শেখ হাসিনাকে হত্যা চেষ্টাকারীরা সবাই একই সুত্রে গাঁথা।
আওয়ামীলীগ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, ‘ফ্রিডম পার্টির এক্টিভিটির মানেই হচ্ছে বিএনপি জামায়াত এরা সবাই একই সূত্রে গাঁথা। হরকাতুল জিহাদ প্রধান তারেক জিয়ার সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছেন।’
এছাড়া ২০০৭ সালে সাবজেলে বন্দি থাকা অবস্থায় খাবারে বিষ প্রয়োগে শেখ হাসিনাকে হত্যা চেষ্টা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০১১ সালে শ্রীলঙ্কার একটি সন্ত্রাসীদলের সঙ্গে শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে চুক্তি করেছিলো একটি রাষ্ট্র। ২০১৫ সালের ৭ই মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাওয়ার সময় জেএমবি গাড়ি বহরে বোমা হামলার চেষ্টা করেছিলো।
সূত্র: somoynews.tv – ডেস্ক।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.