
জুনের প্রথমদিন থেকে দেশের কয়েকটি বিমানবন্দরে অভ্যন্তরীণ রুটের ফ্লাইট চলাচলের অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে ফ্লাইট চলাচলের ক্ষেত্রে কিছু শর্তও জুড়ে দিয়েছে তারা।
বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মফিদুর রহমান বলেন, ‘ইতিমধ্যে এয়ারলাইন্স প্রতিষ্ঠান ও বিমানবন্দরসমূহকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত এসব নির্দেশনা মেনেই ফ্লাইট পরিচালনা করতে হবে।’
নির্দেশনাগুলোর হলো-
>> প্রতিটি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট সংখ্যা নিয়মিত সংখ্যার চেয়ে কম হবে।
>> প্রতিটি ফ্লাইটের ভেতরে পাশাপাশি দুই সিটে যাত্রী বসতে পারবেন না। যদি প্লেনটির প্রতি সারিতে ৩টি করে মোট ৬টি সিট থাকে। তাহলে প্রতি সারির মাঝের সিটটি ফাঁকা রাখতে হবে। আর যদি প্রতি সারিতে দুইটি করে ৪টি সিট থাকে তাহলে একটি সিটে যাত্রী থাকবে অপরটি থাকবে ফাঁকা।
>> ফ্লাইটের ধারণক্ষমতার সর্বোচ্চ ৭৫ শতাংশ যাত্রী নেয়া যাবে।
>> প্রতিটি ফ্লাইটের আগে প্লেন ডিসইনফেক্টেড বা জীবাণুনাশক দিয়ে জীবাণুমুক্ত করতে হবে, প্রতিটি যাত্রীকে নতুন হ্যান্ড গ্লাভস ও মাস্ক দিতে হবে।
>> বিমানবন্দরগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করতে জীবাণুনাশক ছিটাতে হবে।
>> ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৩টি ফ্লাইট ছাড়ার অনুমতি দিতে হবে। ফ্লাইট উড্ডয়নের আগে ও অবতরণের পর প্লেনকে প্রত্যেকবার একে জীবাণুনাশক দিয়ে ডিসইনফেক্টেড বা জীবাণুমুক্ত করতে হবে। প্রতিবার জীবাণুমুক্ত করার পর বেবিচকের প্রতিনিধিরা এই প্রক্রিয়াটি দেখে সার্টিফাইড করবেন, এরপরই ফ্লাইটটি ছাড়বে।
>> প্লেনের প্রতিটি জানালা সিট, সিটের হাতলে জীবাণুনাশক দিতে হবে।
>> চেক-ইনের সময় কাউন্টার ও আশপাশের সহযোগীদের সার্বক্ষণিক মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস ও ডিস্পোজেবল ক্যাপ পরতে হবে। এছাড়াও কাউন্টারের পাশে হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখতে হবে।
>> সামাজিক দূরত্ব মেনে যাত্রীকে চেক-ইনের লাইনে দাঁড়াতে হবে। চেক-ইনের আগে যাত্রীর শরীরের তামপাত্রা মাপা হবে। তাপমাত্রা ৯৯ ডিগ্রি ফারেনহাইট হলে তাকে বোর্ডিং পাস বা বিমানে ওঠার অনুমতি দেয়া যাবে না।
>> ফ্লাইটে খাবার পরিবেশন করা যাবে না। তবে ডায়াবেটিকের রোগীদের জন্য সীমিত আকারে পানি ও জুস থাকবে যা আগে থেকেই ইন্টেক্ট রাখতে হবে। ফ্লাইটের ক্রুদের সার্জিক্যাল বা এন-৯৫ মাস্ক, চশমা, রাবারের হ্যান্ড গ্লাভস ও ফেসিয়াল মাস্ক পরতে হবে। হ্যান্ড গ্লোভস ও মাস্ক প্রতি ৪ ঘণ্টা অন্তর পরিবর্তন করতে হবে। ক্রুদের ককপিটে প্রবেশ যতদূর সম্ভব কমাতে হবে, ইন্টারকমে যোগাযোগ বাড়াতে হবে।
বর্তমানে বাংলাদেশে ৩টি এয়ারলাইন্স কোম্পানিই অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনা করে থাকে। রিজেন্ট এয়ারওয়েজ ২০ মার্চ থেকে ৩ মাসের জন্য ফ্লাইট চলাচল বন্ধ ঘোষণা করে। এক্ষেত্রে যদি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, নভোএয়ার এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করতে চায় সেক্ষেত্রে তাদের এসব নির্দেশনা মানতে হবে।
সূত্র: deshebideshe.com – ডেস্ক।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.