
প্রতিবেশী দেশ ভারতের পর এবার বাংলাদেশ থেকে ব্যান্ডউইথ যাচ্ছে ভুটানে। দীর্ঘদিন ধরে এই নিয়ে পরিকল্পনা শেষে আগামী মে মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে ভুটানে এই ব্যান্ডউইথ সরবরাহ করা হবে। প্রাথমিক অবস্থায় ২.৫ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ সরবরাহ করা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ সব তথ্য জানা গেছে।
টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয় বলছে, বাংলাদেশ থেকে ভুটানে ব্যান্ডউইথ রফতানির সকল কার্যক্রম গত মার্চ মাসেই শুরু করা সম্ভব হতো। তবে ভারতের পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির (পিজিসিআইএল) ইন্টারন্যাশনাল টেরেস্ট্রিয়াল কেবল (আইটিসি) লাইসেন্স না থাকার কারণে এই প্রক্রিয়াটি ঝুলে ছিল। তবে এখন বিষয়টি সমাধান করা সম্ভব হয়েছে বলে আগামী মে মাসে ব্যান্ডউইথ রফতানি করা সম্ভব হচ্ছে।
এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি লিমিটেডের (বিএসসিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মনোয়ার হোসেন বলেন, ভুটানে ব্যান্ডউইথ সরবরাহ করার জন্য ইতিমধ্যে একটি লিংক স্থাপন করা হয়েছে। ভারতের পাওয়ার গ্রিড কোর্পরেশনের (পিজিসিআইএল) মাধ্যমে আখাউড়া-ত্রিপুরা রাজ্য দিয়ে এই ব্যান্ডউইথ নেবে ভুটান।
মনোয়ার হোসেন বলেন, ‘ভুটানের ২.৫ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথের জন্য আমরা প্রতি মেগাবাইটের (এমবি) মূল্য রাখছি ১৫ ডলার। তবে তারা ১০ জিবিপিএস নিলে প্রতি মেগাবাইটের মূল্য রাখা হবে ৬ ডলার। সম্প্রতি ভুটান ৬৫ জিবিপিএস ব্যান্ডউইথ নিয়েছে ভারত থেকে। এ জন্য প্রতি জিবিপিএসের দাম দেয় প্রায় ৫২ হাজার ডলার।’
ভুটান বর্তমানে ফোরজি ইন্টারনেট সেবা দিচ্ছে। ফলে সে দেশের মানুষ বাংলাদেশের চেয়েও বেশি ব্যান্ডউইথ ব্যবহার করে বলে জানান মনোয়ার হোসেন। ভারত থেকে যে দামে ব্যান্ডউইথ নেওয়া হচ্ছে তার চেয়ে তুলনামূলক বাংলাদেশের ব্যান্ডউইথের মূল্য কম। দামের দিক থেকে বাংলাদেশের ব্যান্ডউইথের মূল্য কম হওয়ার কারণে এ দেশ থেকে ব্যান্ডউইথ নিতে তড়িঘড়ি করছে ভুটান।
বাংলাদেশ সাবমেরিন কেবল কোম্পানি (বিএসসিএল) প্রাথমিকভাবে পাঁচটি রুট দিয়ে ভুটানে ব্যান্ডউইথ রফতানির চিন্তা করেছিল। এর মধ্যে রয়েছে, আখাউড়া-ত্রিপুরা, সিলেট-তামাবিল-শিলিগুড়ি-গোহাটি, ঢাকা-রংপুর-কুড়িগ্রাম-ভূরুঙ্গামারী-আসাম, ময়মনসিংহ-হালুয়াঘাট-মেঘালয় এবং পঞ্চগড়-বাংলাবান্ধা। তবে সবার আগে সিলেট-তামাবিল-শিলিগুড়ি-গোহাটি দিয়ে ব্যান্ডউইথ পাঠানোর প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ থেকে ভুটানে ব্যান্ডউইথ নেওয়ার বিষয়ে গত বছর আগস্টে প্রথম আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়। এর পরের মাস সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহে ভুটান থেকে এ বিষয়ে একটি বিশেষজ্ঞ টিম বাংলাদেশের প্রথম সাবমেরিন কেবল স্টেশন পরিদর্শনে আসেন। বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমও ভুটানে দেশে গিয়ে এই নিয়ে আলোচনা করেন। এ ছাড়া গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভুটান সফরে বাংলাদেশ থেকে সে দেশে ব্যান্ডউইথ রপ্তানির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সূত্র:priyo.com,ডেস্ক।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.