
আগামী ১০ নভেম্বরের মধ্যেএকাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল এবং ডিসেম্বরের শেষ দিকে ভোটগ্রহণের পরিকল্পনা নিয়ে নির্বাচনি প্রস্তুতি নিয়ে রাখছে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়। ওই সময়সীমা অনুযায়ী ভোটের রোডম্যাপ (প্রাথমিক কর্মপরিকল্পনা) চূড়ান্ত করতে যাচ্ছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি।
এছাড়া আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মাঠপর্যায়ে মতবিনিময় করতে নির্বাচনী সফরে বের হয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা। ইসি সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সূত্র জানায়, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো গোপনীয়তার সঙ্গে আলাদাভাবে নিজ দপ্তরের কর্মপরিকল্পনা তৈরি করছে। এতে নির্বাচনের প্রস্তুতিমূলক কাজ কখন ও কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে তা নির্ধারণ করা হচ্ছে। এরপর তা একীভূত করে অনুমোদন করবে কমিশন। সম্প্রতি সিইসি ভোটের কর্মপরিকল্পনা দ্রুত শেষ করতে ইসির উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগামী ২৫ ডিসেম্বর খ্রিস্ট ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ‘বড়দিন’।ওই দিনের খুব কাছাকাছি সময়ে ভোটগ্রহণ না করার জন্য খ্রিস্টান সম্প্রদায় থেকে ইসিকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। এছাড়া নির্বাচন পর্যবেক্ষণে অনেক বিদেশী পর্যবেক্ষক ও সংস্থা আসে। বড় দিনের কাছাকাছি সময়ে ভোটগ্রহণের তারিখ হলে তাদের জন্য সমস্যা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সূত্র আরো জানায়, প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভোটের আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে এক বা একাধিকবার বৈঠক করবে ইসি। তবে নির্বাচনে সবদলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠকে বসার কোনো পরিকল্পনা আপাতত কমিশনের নেই। এছাড়া গত দশম সংসদ নির্বাচনের মতো এবারও একইভাবে ভোটের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সদস্যদের রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। দেশী-বিদেশী পর্যবেক্ষকদের ব্রিফিংয়ের পরিকল্পনা রয়েছে ইসির।
এছাড়া মাঠ প্রশাসনকে উজ্জীবিত করা ও নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে জেলা প্রশাসক, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় করতে পারেন সিইসি। এরই অংশ হিসেবে সিইসি দিনাজপুর ও বগুড়া সফরে বেরিয়েছেন বলে জানা গেছে।
সফরের বিষয়ে সিইসির একান্ত সচিব একিউএম মাজহারুল ইসলাম বলেন, স্যার মাঠপর্যায়ে মতবিনিময় করতে চার দিনের নির্বাচনী সফরে বেরিয়েছেন। পরবর্তীতে আরো কোনো জেলা সফর করবেন কি না সেটি এখনো ঠিক হয়নি।
ভোটের প্রস্তুতির বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শাহাদাত হোসেন চৌধুরী জানান, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতিমূলক কাজ এগিয়ে চলছে। ইতোমধ্যে ভোটার তালিকার কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। সংসদীয় আসনের সীমানা চূড়ান্ত করা হয়েছে। নির্বাচনের সামগ্রী কেনার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন। এছাড়া ভোটকেন্দ্রের খসড়া তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে।
ইসির সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সংবিধান অনুযায়ী আগামী ৩০ অক্টোবর থেকে আগামী ২৮ জানুয়ারির মধ্যে সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন করার উদ্যোগ নিচ্ছে কমিশন। এ সময়সীমার মধ্যে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হচ্ছে। তবে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনী চূড়ান্ত না হওয়ায় ইভিএম ব্যবহার সংক্রান্ত বিধিমালা চূড়ান্ত ও নির্বাচনী ম্যানুয়েল তৈরি করতে পারছে না কমিশন।
নির্বাচনী প্রস্তুতির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শাখা থেকে জানা যায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটার তালিকার সিডি প্রস্তুত করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহে ভোটার তালিকা প্রিন্টিংয়ের কাজ শুরু হবে। নির্বাচনী সামগ্রীর মধ্যে গানিব্যাগ ও হেসিয়ান ব্যাগ সরকারি সংস্থা বিজেএমসি থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। স্ট্যাম্প প্যাড, সিল গালা, অফিসিয়াল সীল, মার্কিং সিল, ব্রাস সিল ও অমোচনীয় কালি সংগ্রহে ঠিকাদার নিয়োগ করা হয়েছে। অক্টোবর মাসের মধ্যে এসব সামগ্রী ইসির ভাণ্ডারে পৌঁছবে।
এছাড়া গত এপ্রিলে ২৫টি আসনের সীমানা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে সংসদীয় আসনের সীমানা চূড়ান্ত করে ইসি। এ নির্বাচন উপলক্ষ্যে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন প্রক্রিয়া শেষ করা হয়েছে। এতে নতুন কোনো দল নিবন্ধন পায়নি। নিবন্ধন দেয়া হয়েছে ১১৯টি দেশীয় পর্যবেক্ষক সংস্থাকে।
সূত্র:deshebideshe.com;ডেস্ক।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.