মহাষষ্ঠীর বোধনের মধ্য দিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা শুরু হচ্ছে আজ। অবিরাম পরিশ্রম করে প্রতিমা বেদীতে স্থাপন করেছে কক্সবাজারের প্রতিমা শিল্পীরা। তারা শেষবেলায় রং-তুলির আঁচড় এঁকেছেন প্রতিমার গায়ে। একই সঙ্গে মণ্ডপ তৈরি আর হরেকরকম সাজসজ্জার কাজও শেষ করেছেন পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা। রবিবার কক্সবাজারের বিভিন্ন মণ্ডপ এলাকা সরেজমিন ঘুরে এমন চিত্রই দেখা গেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিভিন্ন বিপনী বিতানগুলোতে চলছে শেষমুহুর্তের কেনাকাটা। আবার কেউ কেউ মণ্ডপ সাজাতে, কেউবা প্রতিমা সাজাতে কাপড়, অলংকারসহ নানা সরঞ্জাম কিনছেন। কেউ কিনছেন পছন্দমতো শাড়ি, ধুতি, শাঁখা, সিঁদুরসহ পরিবার-পরিজনের পূজাসামগ্রী। এদিকে মণ্ডপ এলাকায় সতর্কাবস্থায় রয়েছেন পুলিশ, র্যাবসহ আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যরা।
রবিবার সায়ংকালে দেবীর বোধন, সোমবার দেবীর ষষ্ঠ্যাদি কল্পারম্ভ, ২০ অক্টোবর সপ্তমী, ২১ অক্টোবর মহাঅষ্টমী, ২২ অক্টোবর মহানবমী এবং ২৩ অক্টোবর বিজয়া দশমী। এ উৎসবকে যথাযথভাবে পালন করতে ১৮ অক্টোবর ভোরেই কক্সবাজার জেলায় ২৭৬টি পূজা মন্ডপের মধ্যে ১৩৩টি পূজা মন্ডপে প্রতিমা স্থাপন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সার্বজনীন পূজা উদযাপন পরিষদ, কক্সবাজার জেলার নেতৃবৃন্দরা।
শান্তিপূর্ণভাবে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনে প্রশাসন, সকল রাজনৈতিক দল, সাংবাদিক, সুশিল সমাজ সহ সকলের সর্বাত্মক সহায়তা চান বাংলাদেশ সার্বজনীন পূজা উদযাপন পরিষদ, কক্সবাজার জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট রনজিত দাশ ও সাধারণ সম্পাদক বাবুল শর্মা।
এ উৎসব জাতি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের। এ উৎসবে সকলকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে অংশ গ্রহন করার জন্য আহবান জানান এ হিন্দু নেতাদ্বয়।
কক্সবাজারস্থ রাম কৃষ্ণ মিশনের পৌরহিত পন্ডিত শ্রী বিজয় কৃষ্ণ চক্রবর্তী জানান, ষষ্ঠী তিথিতে বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। মূলত বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাস এই দিনের প্রধান ৩টি অঙ্গ হিসাবে ধরা হয়। সন্ধ্যা বেলায় বেল গাছের গোড়ায় ঘটে করে পবিত্র গঙ্গা জল রাখা হয় এবং বেল গাছটিকে শিব হিসেবে পূজা করা হয়। মনে করা হয়, বেশ কয়েক মাস পর দেবী আবার জেগে উঠেছেন। ষষ্ঠীর সারারাত দেবী বেল গাছের শাখাতেই অবস্থান করবেন।
এ উৎসব শেষ হবে ২২ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে। এবার মা দুর্গা ঘোড়ায় চেপে মর্ত্যে আগমণ করেছেন এবং আগামী ২২ অক্টোবর দশমী বিহিত পূজা সমাপন ও দর্পণ বিসর্জনের মধ্যদিয়ে দেবী আবার স্বর্গে ফিরে যাবেন গজে (হাতি)তে করে। এতে সুজলা, সুফলা শষ্য শ্যামল হয়ে উঠবে বসুন্ধরা।
হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী এ বছর নবমী ও দশমী তিথির পূজা একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে জানান তিনি।
অপরদিকে দুর্গাপূজার নিরাপত্তায় চারস্তরের নিরাপত্তা বলয় স্থাপনের বিধানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বলে জানালেন কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথ।
বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রত্যাশা, এবার এই মাতৃশক্তি অসুর শক্তির বিনাশ করে মানবজাতিকে দেখাবে শুভবুদ্ধির পথ।
অপরদিকে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট, কক্সবাজার জেলার শাখার পক্ষ থেকে শারদীয় দুর্গা পূজার অষ্টমী, নবমী ও দশমীতে মোট তিন দিনের সরকারি ছুটি দাবি করেছেন।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"



You must be logged in to post a comment.