
সংবাদপত্র নিয়ে বসে আছেন পত্রিকার এজেন্ট উখিয়ার আমিন উল্লাহ।
হুমায়ুন কবির জুশান; উখিয়া :
আমিন উল্লাহ; বয়স (৬২)। সমাজের কুসংস্কার আর দারিদ্র্যের সঙ্গে নিরন্তর লড়াই চলছে তার। অদম্য ইচ্ছা আর নিরলস প্রচেষ্টায় এগিয়েছে অনেক দূর। তার প্রত্যাশা মানুষের কাছে পত্রিকা পৌঁছে দিয়ে সমাজকে আলোকিত করা। অবহেলিত এই মানুষটি বেকার যুবদের স্বপ্ন দেখাচ্ছেন। এরই মধ্যে তার প্রচেষ্টায়ই স্বপ্ন সত্যি হয়েছে প্রায় অর্ধশতাধিক যুবকের।
কাকডাকা ভোরে এসব যুবকেরা ছুটে আসেন তার কাছে। তার দিকনির্দেশনা নিয়ে যুবরা কয়েকভাগে ভাগ হয়ে যায়। কেউ ছুটে চলেছেন কক্সবাজারে জাতীয় ও আঞ্চলিক পত্রিকা আনতে। আবার কেউ কোটবাজারে পত্রিকা নিয়ে যেতে। পত্রিকা ভাজ করে মানুষ হাটবাজারে অফিস-আদালতে যাওয়ার আগেই হাতে ধরিয়ে দিচ্ছেন জাতীয়, আঞ্চলিক ও স্থানীয় পত্রিকা। এসব বেকার যুবকের এটি প্রতিদিনের কাজ। যেসব যুবক ছিল বেকার তারা এখন কর্মক্ষম। রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে দেশ-বিদেশের নানান খবর জানান দিতে এদের পথে পথে ছুটে চলা।
উখিয়ার সংবাদ বিতানের একমাত্র এজেন্ট আমিন উল্লাহ রাস্তার ধারে ছাতা মাথায় বসে বসে পত্রিকা বিক্রি করছেন। অনেক জনপ্রতিনিধিসহ বড় বড় অফিসাররা পত্রিকা কিনে নেন।কিন্তু তার খবর কেউ রাখেন না। রাস্তার ধারে ভূমি অফিস সংলগ্ন দেয়াল ঘেষে বসে পত্রিকার একমাত্র এজেন্ট আমিন উল্লাহর দিন কাটছে অতি কষ্টে। পত্রিকা রাখার মতো কোনো জায়গা আমিন উল্লাহর ভাগ্যে জুটে না। অথচ সড়ক ও জনপথ বিভাগের জায়গা বেহাত হয়ে যাচ্ছে দিন দিন।সরকারি বা ব্যক্তি মালিকানায় গড়ে ওঠা মার্কেটের সামনে একটু জায়গা দিয়ে কেউ তার সহযোগীতায় এগিয়ে আসেননি। সমাজকে আলোকিত করতে সংগ্রামী এই সংবাদসেবী সকলের আন্তরিক সহযোগীতা কামনা করছেন। সমাজকে কুসংস্কারমুক্ত করতে সংগ্রামী এই আমিন উল্লাহ উখিয়া সদর রাজাপালং ইউনিয়নের ঘিলাতলিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সাংবাদিক কায়সার হামিদ মানিকের পিতা।
কথা হয় আমিন উল্লাহর সঙ্গে। তিনি জানালেন, বাবা মায়ের অভাবের সংসারে আমি ছিলাম বেকার। বেকারত্বের সংসারে ছিল অভাব-অনটন। এছাড়া প্রত্যন্ত গ্রামে তার আয়ের কোনো মাধ্যম ছিল না। তাতে দমে যাননি। সামাজিক নানান বাধা উপেক্ষা করে ১৯৭৩ সালে উখিয়ার প্রথম পত্রিকার এজেন্ট হিসেবে এই পেশায় শুরু করেন পত্রিকা বিক্রির কাজ। পত্রিকা বিক্রির আয়ের মাধ্যমে সংসারে সচ্ছলতা ফিরে আসে। নবম শ্রেণি পাশের পর ১৯৮১ সালে তার বিয়ে হয়। তখন স্কুল জীবনের এক সাথে পড়া লেখা করেছেন বর্তমান উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ হামিদুল হক চৌধুরীর সঙ্গে, তিনি আমার বন্ধু ছিলেন। আমিন উল্লাহর ৬ ছেলে ১ মেয়ে। ৩ ছেলে বাবার কাজে সহযোগী হয়েছেন। অন্য তিন ছেলে বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত আছেন। এই অবস্থায় তাকে পত্রিকার বিক্রির স্থান থেকে উচ্ছেদ করা হলে সন্তান সন্তুতি ও পরিবার নিয়ে অর্ধাহারে থাকতে হবে। তিনি তার প্রতি সদয় হয়ে পত্রিকা বিক্রি করে দুমুটো অন্ন যোগাতে প্রশাসনের সহযোগীতা কামনা করছেন। তার পাশে থাকা জুতা সেলাই করে জীবিকা নির্বাহ করেন নিকুঞ্জ ঋষি ও চিত্তরঞ্জন। তারাও তাদের এই ছোট কাজ করে খাওয়ার জন্যে কেউ যেন তাদের পেটের আহার কেড়ে না নেন এবং সেদিকে খেয়াল রাখতে অনুরোধ করেছেন।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.