এম আবুহেনা সাগর; ঈদগাঁও :
কক্সবাজার জেলা সদরের শিল্পনগরী খ্যাত ইসলামপুর সড়কে খোলা লবণ পরিবহণ নিষিদ্ধ হলেও চলছে লবণ পরিবহন। খোলা লবণ পরিবহনের কারণে সড়কে লবণ পানি পড়ে তার সাথে ধূলো জমে তৈরি হয়েছে কাদা। এর ফলে সড়ক পিচ্ছিল হয়ে উঠেছে। সকাল-বিকালের হালকা কুয়াশায় সড়ক হয়ে উঠেছে মৃত্যুর ফাঁদ। পিচ্ছিল আস্তরণের কারণে সড়কে চলাচলরত গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে যত্রতত্র দুর্ঘটনায় পতিত হচ্ছে। বাড়ছে দুর্ঘটনা ও পঙুত্বের সংখ্যা। লবণ পানির কারণে সড়কের আয়ু কমে যাচ্ছে।
কক্সবাজার সড়ক ও জনপদ বিভাগ সূত্রে মতে, ট্রাকে দুই স্তর পলিথিন দিয়ে লবণ পরিবহনের নিয়ম থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। সড়ক বিভাগের পক্ষ থেকে প্রশাসনকে একাধিকবার চিঠি দেয়া হলেও এখনো সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। সরকার কোটি কোটি টাকায় রাস্তা তৈরি করছে আর লবণ পানিতে তা দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে অহরহ দুর্ঘটনা ঘটছে।
স্থানীয়দের মতে, লবণবাহী ট্রাক থেকে পানি পড়ে পিচ্ছিল হয়ে পড়ে সড়ক। শুকনো মওসুম শুরুর পর লবণ পানিতে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে নাপিতখালী বটতল থেকে ইসলামপুর বাজার পেরিয়ে দক্ষিণ খাঁনঘোনা পোকখালী গোমাতলী সড়ক পর্যন্ত। কোনো সুরক্ষা ছাড়াই উপকূলীয় এলাকা থেকে ট্রাকে করে সড়ক দিয়ে পরিবহন করা হচ্ছে লবণ। এ সময় ট্রাক থেকে লবণ পানি পড়ে পিচ্ছিল হয়ে মৃত্যু ফাঁদে পরিণত হয়েছে এসব সড়ক।
জানা যায়, সদরের উপকূল থেকে ট্রাকে বেশির ভাগ লবণ আসে ইসলামপুরের লবণ মিলগুলোতে। এসব লবণ যায় চট্টগ্রামের পটিয়া, বোয়ালখালী, মাঝিরঘাট,ঢাকাসহ কয়েকটি কারখানায়। লবণ পরিবহনের কারণে বিকাল থেকে ভোর পর্যন্ত এসব সড়ক সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। বিগত একমাসে ইসলামপুর সড়কে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে ইসলামপুর ঘাট, বাজার ও নাপিতখালীতে। তাতে আহতের সংখ্যাও বেশি। দিনের বেলায় সামান্য পরিমাণ লবণবাহী ট্রাক চলাচল করলেও সন্ধ্যার পর বেশি সংখ্যক লবণের ট্রাক চলাচল করে এ সড়কে। এ সময় লবণ পানি আর কুয়াশায় সড়কে লবণ আর ধূলোয় জমাট বাধাঁ আস্তরণ তেলতেলে হয়ে উঠে। এ সময় কোন যানবাহন প্রয়োজনের সময় ব্রেক কষলেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনায় পতিত হয়।
ইসলামপুরের এক লবণ ব্যবসায়ীর মতে, খোলা ট্রাকে করে লবণ পরিবহন কিছুতেই রোধ করা যাচ্ছে না। এ কারণে এলাকার লবণ ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। খোলা লবণ পরিবহন বন্ধে সুনির্দিষ্ট আইন না থাকায় লবণ পরিবহন কারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হচ্ছেনা বলে জানিয়েছেন পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র ইনচার্জ।
তার মতে, ঈদগাঁও-চৌফলদন্ডী সড়ক, গোমাতলী-ইসলামপুর সড়ক, কালিরছড়া থেকে নাপিতখালী পর্যন্ত মহাসড়কের অবস্থা খুবই বিপজ্জনক। আবার বেশ কজন পথচারীদের মতে, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে শুধু লবণ পানির কারণে সড়ক বিপজ্জনক হওয়ায় দুর্ঘটনা বেড়েছে। এসবের পরও খোলা ট্রাকে লবণ পরিবহন দমানো যাচ্ছে না। পিচ্ছিল হওয়া ছাড়াও লবণ পানি পড়ে মহাসড়কের কার্পেটিং ওঠে যাচ্ছে।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.