এম আবু হেনা সাগর, ঈদগাঁও :
আগামী ৭ অক্টোবর থেকে মহা ধুমধামে শুরু হতে যাচ্ছে প্রতিবারের ন্যায় শারদীয়া দূর্গোৎসব। এবার ৫টি ইউনিয়নের ২০টি পূজা মন্ডপে এ উৎসবে মাতোয়ারা হয়ে উঠছে সনাতন সম্প্রদায়ের লোকজন। যেন পাড়া-মহল্লায় সাজ সাজ রব বয়ে যাচ্ছে।
অন্যদিকে প্রতীমা তৈরি ও রংতুলির কাজ শেষ বললেই চলে। জানা যায়, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ এ ধর্মীয় অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে কক্সবাজার সদর উপজেলার ঈদগাঁওতে ২০টি পূজা মন্ডপে মৃৎ শিল্পীরা তাদের নিপূণ হাতে তৈরি করছে তাদের মা দূর্গাকে। এর পাশাপাশি পূজামন্ডপ ও মন্দিরগুলোতে নিরাপত্তার জন্য নেওয়া হচ্ছে ব্যাপক প্রস্তুতিও। ঈদগাঁও পালপাড়া ও কেন্দ্রীয় কালি মন্দির ঘুরে দেখা যায়, চলছে প্রতীমা তৈরি ও রংতুলির কাজের পাশাপাশি বাহিরের সাজ সজ্জার কাজও। সে সাথে পূজা মন্ডপগুলোতে প্যান্ডেল, বিশালাকার তোরণসহ আনুষাঙ্গিক ইত্যাদি কাজকর্মে মহাব্যস্ততায় দিন পার করছে শ্রমিকরা।
বৃহত্তর ঈদগাঁওর ২০টি পূজামন্ডপের মধ্যে এবার ঈদগাঁওতে ৫টি, ইসলামাবাদে ৮টি, জালালাবাদে ৩টি, চৌফলদন্ডীতে ৩টি ও ভারুয়াখালীতে ১টি পূজা মন্ডপে আগামী ৭ অক্টোবর থেকে ৫ দিন ব্যাপী ঝাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে শারদীয়া দূর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান কক্সবাজার সদর উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট বাপ্পী শর্মা।
অন্যদিকে ঈদগাঁও পালপাড়া প্রগতী সংঘ কর্তৃক আয়োজিত প্রতিবারের ন্যায় এবারও বৃহৎ আকারে পূজা মন্ডপে সাজ সজ্জা ও প্রতীমা তৈরিসহ নানা কাজকর্ম শেষ প্রান্তে বললেই চলে। পর্যটন শহর কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম বিভাগ পেরিয়ে এবার সুদূর পিরোজপুর থেকে অর্ধলক্ষাধিক টাকা বেতনে প্রতীমা তৈরির জন্য ২জন কারিগর এসেছে। তারা বেশ ক’দিন ধরে এ প্রতীমা তৈরির কাজে মহা ব্যস্ত সময় পার করছে বলে জানান প্রগতী সংঘ দূর্গাপূজার উপদেষ্টা বাচ্চু পাল।
অপরদিকে ঈদগাঁও বাজার সংলগ্ন কেন্দ্রীয় কালিবাড়িতে এবার বিশালাকার তোরণ নির্মাণের কাজ চলছে। যার খরচ লক্ষাধিক টাকা বলে জানা যায়।
এদিকে আসন্ন শারদীয়া দূর্গোৎসবের প্রস্তুতিমূলক কক্সবাজার সদর উপজেলার বৃহত্তর ঈদগাঁওতে আইন-শৃঙ্খলা ও মতবিনিময় সভা ঈদগাঁও পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ দেবাশীষ সরকারের সভাপতিত্বে ও সদর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট বাপ্পী শর্মার সঞ্চালনায় ৩০ সেপ্টেম্বর বিকালে তদন্ত কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন- সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আবু তালেব, উপদেষ্টা মাষ্টার নুরুল আজিম, ঈদগাঁও ইউপি চেয়ারম্যান ছৈয়দ আলম, জালালাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান ও জেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক ইমরুল হাসান রাশেদ, ইসলামাবাদ ইউপি চেয়ারম্যান নুর ছিদ্দিক, চৌফলদন্ডী ইউপি চেয়ারম্যান ওয়াজ করিম বাবুল, ঈদগাহ জাহানারা ইসলাম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গিয়াস উদ্দীন, সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ফরিদুল আলম চেয়ারম্যান, বাবলা পাল, জেলা যুবলীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক হুমায়ুন কবির চৌধুরী হিমু, সদর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক রাজিবুল হক চৌধুরী রিকো, পোকখালী আ’লীগ সভাপতি মোজাহের আহমদ, চৌফলদন্ডী আ’লীগ সভাপতি এহেছানুল হক, সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান মনির, ঈদগাঁও আ’লীগ সাধারণ সম্পাদক তারেক আজিজ, জালালাবাদ আ’লীগ সাধারণ সম্পাদক মমতাজুল হক, ইসলামাবাদ আ’লীগ সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, ঈদগাঁও পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই আমজাদ আলী, সদর উপজেলা পূজা পরিষদের উপদেষ্টা অনুপম পাল অনু, এডভোকেট অশোক আচার্য্য।
এ আইন-শৃঙ্খলা ও মতবিনিময় সভা কক্সবাজার সদর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত একটি নির্দেশনাপত্র প্রদান করা হয়। ওই পত্রে পূজা মন্ডপের পাশে মসজিদ থাকলে, মসজিদ কমিটি এবং ইমাম সাহেবের সাথে আলাপ করে নামাজের সময়সূচী সংগ্রহ পূর্বক আজানের সময় মাইক ও সাউন্ড সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে হবে, পূজা চলাকালীন সময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে নিজস্ব পরিচয় পত্র ব্যবহারে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করবেন, মদ পান ও মাতাল অবস্থায় পূজা মন্ডপে কোন ব্যক্তি প্রবেশ বা উচ্ছৃঙ্খলতা করলে সংশ্লিষ্ট আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিতসহ নানা নির্দেশনা রয়েছে।
আবার ঈদগাঁও পালপাড়া-কানিয়াছড়া-ভোমরিয়াঘোনা যোগাযোগ সড়কটি এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়ে পড়েছে। যাতে করে পূজারীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে অনতিবিলম্বে সড়কটি সংস্কারের জোর দাবী জানান সনাতন ধর্মাবলম্বী লোকজন।
জানা যায়, ঈদগাঁও ঈদগড় সড়কের পালপাড়া-কানিয়াছড়া-ভোমরিয়াঘোনা পয়েন্টে গতবছর বন্যার পানিতে ভেসে যাওয়া চলাচল রাস্তা খালে পরিণত হয়ে পড়ায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাসহ এলাকার অসহায় লোকজন প্রতিনিয়ত বিপাকে পড়েছে। এমনকি ঐ সড়কে চলাচলরত হরেক রকমের যানবাহন বড় বড় গর্ত পেরিয়ে চলাচল করতে হিমশিম খাচ্ছে।
এছাড়াও ঈদগাঁও-পালপাড়া-ঈদগড় সড়ক দিয়ে লোকজন কানিয়ারছড়া, গজালিয়া, শিয়া পাড়া, ভোমরিয়াঘোনা, চৌধুরী পাড়া, পালপাড়ার বিভিন্ন এলাকাসহ নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারীর প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের মানুষজন কোন না কোনভাবে যাতায়াত করে থাকে। এমনকি বছরের অন্যান্য মাস এ সড়কে অবস্থানকারী লোকজন ভাল অবস্থায় দিনাতিপাত করলেও বর্ষা মৌসুমে তাদের অবস্থা কাহিল হয়ে পড়ে। সে সাথে উক্ত সড়কের একপাশ ভেঙ্গে ঈদগাঁও নদীর পার্শ্বে স্থানে দেবে যাচ্ছে। যত্রতত্র স্থানে খানা খন্দক আর বড় বড় গর্তে ছেয়ে গেছে সড়ক জুড়ে। যাতে করে রাতে নানা যানবাহন চলাচল করতে গিয়ে কোন না কোন দুর্ঘটনার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন এলাকার লোকজন। ইসলামাবাদ তেতুলতলির কমিউনিটি ক্লিনিকের স্বাস্থ্যকর্মী দেবাশীষ আচার্য্যের মতে, দীর্ঘ সময় ধরে রাস্তা সংস্কার নিয়ে কর্তৃপক্ষ এখনো নিরব থাকায় হতাশ হয়ে পড়েন। পাশাপাশি আসন্ন বিশালাকার ৪টি দূর্গোৎসবে পূজারীরা যাতায়াতে নানাভাবে দূর্ভোগের শিকার হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন। অন্যদিকে ঈদগড়-ঈদগাঁও সড়ক পথে বিকল হচ্ছে বহু যানবাহন।
অপরদিকে ঈদগাঁও ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের এমইউপি প্রদোষ পাল মুন্না আজকের কক্সবাজারের এ প্রতিনিধিকে – ঈদগাঁও-ঈদগড় সড়কের পালপাড়া অংশে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। যাতে করে বেশ কিছুদিনের মধ্যে কমপক্ষে ডজনাধিক টমটমসহ বিভিন্ন যানবাহন দুর্ঘটনার শিকার হয়। পাশাপাশি আসন্ন দূর্গোৎসবে পূজারীরা পূজামন্ডপে যাতায়াত করতে হিমশিম খাবে বলেও জানান। আবার ঈদগাঁও ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ সাধারণ সম্পাদক ডাঃ পিযুষ পালের মতে, প্রতিনিয়ত এ সড়ক দিয়ে হাজার হাজার লোকজন যাতায়াত করে থাকে। কিন্তু দীর্ঘদিনেও রাস্তা পুনঃসংস্কারের বিষয় নিয়েও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের ঘুম না ভাঙ্গায় দুঃখ প্রকাশ করেন। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের সড়ক সংস্কার এখন জরুরী হয়ে পড়েছে বলে জানান।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"



You must be logged in to post a comment.