
এম আবুহেনা সাগর; ঈদগাঁও :
শিক্ষা-শান্তি ও প্রগতির হাতে গড়া ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, দীর্ঘ দুই বছর পর ঈদগাঁও সাংগঠনিক উপজেলা কমিটি বিলুপ্তির পরপরই নতুন কমিটিতে আসতে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছে ঈদগাঁওর ছাত্রনেতারা।
তৃণমুল কর্মীদের মতে, দলের দু:সময়ে মাঠে অবস্থান করা পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতাদের মুল্যায়ন করলে আগামী দিনে ছাত্রলীগের অবস্থান হবে শক্তিশালী। অন্যথায় মাঠ চাঙ্গা রাখা কষ্টকর হবে বলেও মত প্রকাশ করেন তারা। ইতোমধ্য উপজেলা ছাত্রলীগের আসন্ন কমিটিতে নিজে দেরকে স্থান করে নিতে জেলা পর্যায়ে ছাত্রলীগের সিনিয়র নেতাদের কাছে ধর্ণা দিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘকাল মাঠে আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে লড়াই করে যাওয়া পদ প্রত্যাশী ছাত্র নেতারা জেলা সদরে সাবর্ক্ষণিকভাবে অবস্থান করে চলছে। সে সাথে ছাত্রলীগের নতুন কান্ডারী হতে ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে দৌড়ঝাঁপ। লক্ষ্য একটাই নতুন নেত্বত্বে হাল ধরা।
চলতি মাসের শেষের দিকে বা আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহের দিকে ঈদগাঁও সাংগঠনিক উপজেলা ছাত্রলীগের নতুন কমিটি ঘোষনার খবরে তৃণমূল ছাত্রনেতা সহ দলীয় শোভাকাংখীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দিপনা বিরাজ করছে। তবে নতুন নেতৃত্বে কারা আসছে এমন প্রশ্নে ঘোরপাক খাচ্ছে মাঠে ময়দানে চষে বেড়ানো ছাত্রনেতাদের মধ্যে। কারা আসছে, কারা এলে সামনের দিন গুলোতে আন্দোলনে রাজপথ দখলে রাখতে পারবে এবং চাঙ্গা থাকবে মাঠ। সবকিছুর চুলচেড়া বিশ্লেষণ চলছে বলেও সূত্রে প্রকাশ। তবে দীর্ঘসময় ধরে কমিটি না হওয়ার কারণে নেতা কর্মীরা অনেকটা সক্রিয়তার পরিবর্তে ঝিমিয়ে পড়েছে। নব কমিটিতে আসতে ইতোমধ্যে জেলা নেতৃবৃন্দের সাথে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রক্ষা করে চলছে নেতারা। এ নিয়ে কঠিন সমিকরণে তৃণমূলের ছাত্রনেতারা।
তৎমধ্য সভাপতি পদে ছাত্রনেতা দেলোয়ার কামাল, আবুহেনা বিশাদ, রাশেল উদ্দিন রাশেল,তানজিদ ওয়াহিদ লোটাস। সাধারণ সম্পাদক পদে ২/১জন নাম রয়েছে। তবে সভাপতি ও সম্পাদক পদে নতুন মুখও আসার সম্ভবনা রয়েছে।
এলাকার সচেতন রাজনৈতিকবোদ্ধাদের মতে- সৎ, যোগ্য, নম্র, ভদ্র ও ছাত্রলীগের দু:সময়ে আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে লড়াই করে ঠিকে থাকা নেতাদের হাতে কমিটি দেওয়া হোক।
তৎকালীন উত্তর থানা ছাত্রলীগের আহবায়ক সেলিম মোর্শেদ ফরাজী এ প্রতিবেদককে জানান, যারা মাঠে ময়দানে আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে পাশাপাশি দলের জন্য ত্যাগী তাদেরকে মূল্যায়ন করলে ভাল হয়।
সাবেক ছাত্রনেতা বদিউল আলম আমির জানান মেধাবী, শিক্ষিত, ভদ্র এবং যাদের জনসমর্থন আছে কিংবা রাজপথ দখলে রাখতে পারবে এমন দুইজনকে কমিটি দেওয়া হোক। তবে কোন কালেই অপরাধীরা যেন কমিটিতে আসার সুযোগ না পায়।
উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাজিবুল হক চৌধুরী রিকো জানান, যারা ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগের জন্য নিবেদিত প্রাণ হয়ে রাজপথে অবস্থান করেছে বা ওয়ার্ড, ইউনিয়ন এবং স্কুল-কলেজ রাজনীতির মাধ্যমে উঠে এসেছে তাদেরকে মূল্যায়ন করলে সংগঠন উপকৃত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইমরুল হাসান রাশেদ জানান, যারা আগামী জাতীয় সংসদ নিবাচর্নে বলিষ্ট ভূমিকা পালন করতে পারবে, ত্যাগী, মেধাবী, শিক্ষিত এবং জনপ্রিয়তাকে কাজে লাগিয়ে গ্রামাঞ্চল লোকজনের মাঝে জনসমর্থন আদায় করতে পারবে তাদেরকে মূল্যায়ন করলে ভাল হয়।
এ ব্যাপারে জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি ইসতিয়াক আহমেদ জয় মুঠোফোন রিসিভ না করায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
তবে ভারপ্রাপ্ত সাধারন সম্পাদক মোর্শদ হোসাইন তানিমের মোবাইলে সংযোগ না পাওয়ায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
প্রসঙ্গত: ২০১৬ সালে ২৯ জুলাই ঈদগাঁও সাংগঠনিক উপজেলা ছাত্রলীগের আংশিক কমিটি অনুমোদন দেন জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি ইসতিয়াক আহমেদ জয়, তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ইমরুল হাসান রাশেদ। গত ৩১ জুলাই জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সাক্ষরিত ছাত্রলীগ জেলা শাখার সিদ্ধান্ত মোতাবেক মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ায় ঈদগাঁও সাংগঠনিক উপজেলা শাখার কমিটি বিলুপ্ত করা হয়।
প্রাপ্ত তথ্য মতে, উপজেলা পর্যায়ে প্রথম দফে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য আহমদ করিম সিকদার উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি, সদর যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক রাজিবুল হক চৌধুরী রিকো উপজেলা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক, দ্বিতীয় দফে উপজেলা সভাপতি নওশাদ মাহমুদ, সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুন, তৃতীয় দফে শেফায়েত হোসেন সাগর উপজেলা সভাপতি আবুহেনা বিশাদ সাধারণ সম্পাদক। পরে সেফায়েত সরকারী চাকরীতে অর্ন্তভূক্ত হওয়ায় ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে রাশেদ উদ্দিন রাশেলকে মনোনীত করা হয়।
চতূর্থ দফে নতুন নেতৃত্বে কারা আসছে, এ নিয়ে ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান নেতাদের মাঝে চলছে নানা কথাবার্তা।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.