রফিক মাহামুদ; কোটবাজার :
উখিয়ার পালংখালীতে বনবিট কর্মকর্তাকে ঘুষ দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় বসতভিটার রোপিত ফলজ ও বনজ প্রায় ৫শ বৃক্ষের চারা কর্তন করেছে মোছারখোলা টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত বিট কর্মকর্তা মাসুদ সরকার। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশকে বাঁচাতে সবুজ বৃক্ষ রোপন করে সবুজের সমারোহ সৃষ্টি করার নির্দেশ দিলেও ক্ষুব্ধ বিট কর্মকর্তা নিজেই বৃক্ষচারা কর্তন করার প্রতিযোগীতায় মেতে উঠেছে। যে একটি তুলতে অনেক শ্রম আর অর্থ ত্যাগ করতে হয় সেখানে দুর্নীতিবাজ বিট কর্মকর্তা মাসুদ সরকার মাত্র ৫ হাজার টাকার জন্য প্রায় ৮শ গাছের চারা নিমিশেই সাবাড় করে দিল। এই নিয়ে এলাকায় লোকমুখে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এই নির্মমতার শাস্তির জোর দাবী জানান।
১ আগস্ট ভোর রাতে বিট অফিসার মাসুদ সরকার ও মুন্সি জহির সহ ৪/৫ জনের একটি বনপ্রহরী পোর্স উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের পশ্চিম পালংখালী চৌয়াখালী গ্রামের মৃত আব্দুল মাবুদ এর পুত্র আবুল কাশেম প্রকাশ আবু এর বসতবাড়িতে এঘটনা ঘটে। ঘটনায় বাধাঁ দিতে গিয়ে আবুল কাশেমের স্ত্রী সাবেকুন্নাহারকে শারীরিক ভাবে লাঞ্ছিতও করেছে ক্ষুব্ধ বিট কর্মকর্তা।
সরজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, পশ্চিম পালংখালী চৌয়াখালী গ্রামের আবুল কাশেম গত ৩ বছর পূর্বে দুর্নীতিবাজ বিট কর্মকর্তা মাসুদ সরকারকে ১০ হাজার টাকা ঘুষ দিয়ে বনভূমির উপর একটি বসত বাড়ি তৈরী করে বসবাস করে আসছিল। এছাড়াও প্রতিমাসে বিট কর্মকর্তাকে মাসিক মাসুহারা দিতে হয় বলে আবুল কাশেম অভিযোগ করেন। তারই ধারাবাহিকতায় গত দুই পূর্বে পালংখালী বাজারে এককালীন ৫ হাজার টাকা দিতে হবে মর্মে দাবী করে। অন্যতায় বসতভিটা গুটিয়ে দেওয়ার হুমকি দেয়। কিন্তু দুঃখের বিষয় অসহায় আবুল কাশেম হতদরিদ্র হওয়ায় বিট কর্মকর্তার কথামত তাকে ৫ হাজার টাকা দিতে না পারায় ১ আগস্ট ভোর রাতে আবুল কাশেমের অগোছরে বিট কর্মকর্তা ও তার সহযোগীরা আবুল কাশেমের বসতভিটায় রোপিত ৩শ বিদেশী আমের চারা, ৫০ এর বেশি কাঠাল, ২শ পেয়ারা, শিমুল তুলার অসংখ্য চারা উপড়ে পেলে চলে যায়। যাওয়ার সময় তার স্ত্রী সাবেকুন্নাহারকে হুমকি দিয়ে যায় যে, তার স্বামী আবুল কাশেমকে বিভিন্ন বনমামলায় জড়িয়ে হয়রানি করে যাবে রীতিমত।
এ ব্যাপারে হতদরিদ্র আবুল কাশেম বলেন, আমার জীবনের শেষ সম্বল দিয়ে অতি কষ্টের বিনিময়ে জীবিকা নির্বাহের জন্য রোপিত সবুজ বৃক্ষের বিভিন্ন প্রজাতির মূল্যবান (ফলজ ও বনজ) বৃক্ষ চারা তারা কেটে সাবাড় করে দিয়েছে। যা দেখে আমার কান্না আর কোন উপায় নেই। উল্টো আমাকে মামলায় জড়িয়ে হয়রানির করার হুমকি দিচ্ছে। আমি বনবিভাগের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে তদন্ত সাপেক্ষে দুর্নীতিবাজ বিট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেওয়ার জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এ প্রসঙ্গে বিট কর্মকর্তা মাসুদ সরকার ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, বন বিভাগের জায়গার উপর বসতি স্থাপন করায় আমরা অভিযান চালিয়েছি।
এবিষয়ে থাইংখালী বিট কর্মকর্তা আব্দুল মান্নান বলেন, স্থানীয় চেয়ারম্যান এম গফুর উদ্দিন চৌধুরী আমাকে ফোন করে বিষয়টি জানিয়েছে। আমি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছি।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"



You must be logged in to post a comment.