হুমায়ুন কবির জুশান; উখিয়া :
কক্সবাজারে অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা (মিয়ানমার নাগরিক) সংখ্যা কত, তার সঠিক তথ্য উদঘাটন করতে আজ শুক্রবার ১২ ফেব্রুয়ারী শুরু হচ্ছে শুমারি কার্যক্রম ২০১৬। শুমারিতে রোহিঙ্গার তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি তাদের ছবিও তোলা হবে। জেলা পরিসংখ্যান ব্যুরোর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত শুমারির আওতায় রোহিঙ্গাদের খানা তালিকা প্রণয়নের কাজ চলবে ১৭ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত।
গত বুধবার বিকাল ৩টায় উখিয়া উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশে অবস্থানরত মায়ানমার নাগরিক শুমারি ২০১৬ শীর্ষক আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা শুমারি প্রকল্পের সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাঈন উদ্দিন। সেমিনারে বক্তারা বলেন, মিয়ানমারের জাতিগত দাঙ্গা ও বাংলাদেশের আর্থসামাজিক সুযোগ-সুবিধার কারণে সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে অবৈধভাবে মিয়ানমার নাগরিক এদেশে অনুপ্রবেশ করছে। এরই ধারাবাহিকতায় ৩ থেকে ৫ লাখ রোহিঙ্গা এদেশে বাস করলেও সঠিক পরিসংখ্যান কারো জানা নেই। অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গারা যত্রতত্র বাসস্থান গড়ে তোলায় বনভূমি ও পরিবেশের উপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়বে। এসব রোহিঙ্গারা জীবিকার তাগিদে জড়িয়ে পড়ছে নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ডে। এছাড়া রোহিঙ্গা জীবন যাত্রাও অত্যন্ত মানবেতর। তাদের মানবিক চাহিদা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকে অনুরোধ রয়েছে।
সেমিনারে বক্তারা আরো বলেন, রোহিঙ্গা শুমারিতে বি, এম ও এক্স এ ৩ ক্যাটাগরীতে খানা তল্লাশি করা হবে। বি ক্যাটাগরীতে হবে যে খানার প্রত্যেক সদস্য বাংলাদেশী, এম ক্যাটাগরিতে হচ্ছে যে খানার প্রত্যেক সদস্য বাংলাদেশে অবস্থানরত মিয়ানমার নাগরিক এবং এক্স ক্যাটারিতে হচ্ছে যে খানায় বাংলাদেশী ও অনিবন্ধিত মিয়ানমার নাগরিক বসবাস করছে। অর্থাৎ যে সব রোহিঙ্গা এ দেশে বিয়ে করেছেন, তারা এক্স ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত হবেন। এসব রোহিঙ্গাদের চিহ্নিত করতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সহযোগীতার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আজ ১২ ফেব্রুয়ারী থেকে অনুষ্ঠিত এ শুমারি কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে উখিয়া উপজেলাকে ৪টি জোনে ভাগ করা হয়েছে। তৎমধ্যে ১নং জোন রাজাপালং ইউনিয়ন, ২নং জোন রতœাপালং ও হলদিয়াপালং ইউনিয়ন, ৩নং জোন জালিয়াপালং ইউনিয়ন ও ৪নং জোন পালংখালী ইউনিয়ন। এ চার জোনে ১৩০ জন গণনাকারী ও ৪ জন সুপারভাইজার জরিপ কাজে সম্পৃক্ত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। সেমিনারে আইওএম-এর ন্যাশনাল প্রোগ্রাম অফিসার আসিফ মুনির, কুতুপালং ক্যাম্প ইনচার্জ মোঃ মাহমুদুল হক, উখিয়া প্রেস ক্লাব সভাপতি রফিকুল ইসলাম, উপজেলা শুমারি পরিচালনার দায়িত্বে নিয়োজিত পালংখালী ইউনিয়নের পরিসংখ্যান সহকারী রাসেল উদ্দিন, রত্নাপালং ও হলদিয়াপালং ইউনিয়নের পরিসংখ্যান সহকারী মিজবাউল ইসলাম মুন্না, রাজাপালং ইউনিয়নের পরিসংখ্যান সহকারী নুরুল কবির, জালিয়াপালং ইউনিয়নের জোনাল অফিসার মোঃ রেজাউল করিম, পরিসংখ্যান সহকারী অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা বস্তির চেয়ারম্যান আবু ছিদ্দিক সহ বিজিবি, পুলিশ, এনএসআই, ডিএসবি, আইওএম, ইউএনএইচসিআর, আনসার, ভিডিপি প্রতিনিধি সহ সরকারি কর্মকর্তারা, এনজিও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"



You must be logged in to post a comment.