
গাড়ি চালকের মাথার উপর ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় দুইজন হেলপার
হুমায়ুন কবির জুশান; উখিয়া :
কিছুতেই অতিরিক্ত মালবাহী ও গণপরিবহনকে শৃঙ্খলায় আনা যাচ্ছে না। বরং দিন দিন আরো বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠছে পরিবহন ব্যবস্থাপনা। জিম্মি হয়ে পড়েছে এনজিও কর্মীসহ সাধারণ যাত্রীরা। সামনের অন্য গাড়ির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেপরোয়া গতির পাশাপাশি অদক্ষ ও মাদকসেবি চালকের কারণে প্রতিদিনই অসংখ্য দুর্ঘটনা ঘটছে উখিয়া-টেকনাফ সড়কে।
এনজিও মহিলা কর্মীদের বাইকের পেছনে বসিয়ে বেপরোয়া গতিতে, আনাড়ি-অদক্ষ টমটম, ভটভটি, মাহেন্দ্রা, সিএনজি চালকের ট্রাফিক আইন এবং রাস্তায় গাড়ি চালানোর নিয়ম-কানুন না জানা, পিকআপ, চাঁদের গাড়ি, ট্রাক, সী-লাইন, কক্স লাইন, কার-মাইক্রো, দুর পাল্লার বাসসহ হেলপারদের অধিকাংশই মাদকাসক্তির ফলে এই সড়কে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা বাড়ছে বলে মনে করছেন এখানকার সচেতন মহল। গ্লাস ভেঙ্গে, ধাক্কা খেয়ে বা চাপা পড়ে আহত ও নিহত হচ্ছেন যাত্রী এবং পথচারিরা। এ সময় যাত্রীরা ভয়ে ও ব্যথায় কান্না করলেও চালকের মুখে হাসিই দেখা যায়। আর আইন লঙ্ঘনের এসব ঘটনা দেখার দায়িত্ব যাদের, তারাই আজ বরাবরই নির্বিকার।
উখিয়ায় নির্ধারিত ভাড়ার বিপরীতে অবস্থা ভেদে দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ ভাড়া আদায় করছে তারা। আবার সব পরিবহনেই সিট অনুযায়ী যাত্রী ওঠানোর কথা থাকলেও ওই পরিবহনগুলো অতিরিক্ত যাত্রী তুলছে। পিকআপ ও ট্রাকে অতিরিক্ত মালামাল বহন এখনো অব্যাহত রয়েছে। এ ছাড়া বাড়ছে ফিটনেসবিহীন গাড়ির সংখ্যাও। আবার পরিবহনে উঠতে গিয়ে এনজিও নারী কর্মী ও ছাত্রী এবং মহিলারা হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
যাত্রীদের মধ্যে নারীরা গণপরিবহন কর্মীদের দ্বারা যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন। ভাড়া আদায় নিয়ে প্রতিদিনই হেলপার, চালক ও যাত্রীদের মধ্যে বাকাবতন্ডা লেগেই থাকছে।এই নিয়ে উদ্বিগ্ন স্থানীয় উখিয়াবাসি। পরিকল্পিত উখিয়া চাই এর আহবায়ক সাংবাদিক নুর মোহাম্মদ সিকদার বলেন, বর্তমানে উখিয়া-টেকনাফের পরিবহন ব্যবস্থা বিশৃঙ্খল। স্থানীয় প্রশাসন একটু আন্তরিক না হওয়ার কারণে চালকদের মধ্যে কার আগে কে যাবে-এ রকম অসুস্থ প্রতিযোগিতা চলছে। তা ছাড়া গাড়ি চলন্ত অবস্থায় চালকের মোবাইলে কথা বলা, অদক্ষ ইয়াবাসেবি চালক, মোবাইল কোর্ট জব্দ গাড়ি আটক চালককে রাজনীতিকদের সহযোগিতা এবং অনৈতিকতায় অভ্যস্থ ট্রাফিক পুলিশসহ বেপরোয়া গতি, ফিটনেসবিহীন গাড়ি, যাত্রী হয়বানি, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়সহ পরিবহন ব্যবস্থাপনায়ও গাফিলতি আছে। ফলে উখিয়া-টেকনাফে প্রায় প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটছে, নির্মম বলি হচ্ছে একের পর এক প্রাণ।
উখিয়া উপজেলা যুব লীগের সভাপতি মুজিবুল হক আজাদ বলেন, উখিয়াতে সড়ক দুর্ঘটনার হার আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌছেছে। বেপরোয়া চালকের নির্মমতা থেকে রাজনীতিবিদ, শিক্ষক, মেধাবী শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, নারী ও শিশু, সাংবাদিক কেউই রেহায় পাচ্ছেন না।অনেকে বেঁচে গেলেও পঙ্গুত্ব বরণ করছেন আজীবনের জন্য। বিশ্ব নেতারা মানবতার দুয়ারে আমাদের উখিয়ায় আসছেন। এটি এখন টাঙ্গল রোড। সড়ক বিভাগের দুর্নীতির কারণে রাস্তায় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ট্রাফিক পুলিশের চাদাবাজি বন্ধসহ অতিরিক্ত বাঁশ বোঝাই ট্রাক দিনের বেলায় প্রবেশ না করার জন্যে সংশ্লিষ্টদের আহবান জানায়। অন্যথায় আমজনতা নিয়ে উখিয়ায় বৃহত্তর কর্মসূচির মাধ্যমে দাবি আদায় করা হবে।এব্যাপারে সরকার যথেষ্ট আন্তরিক।অনিয়ম, দুর্নীতি, চাদাবাজি আর বর্দাস্ত করা হবে না।
উপজেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও আলোকিত উখিয়ার সম্পাদক মিজানুর রশিদ মিজান বলেন, এনজিওতে কর্মরত একজনে একটি গাড়ি নিয়ে ক্যাম্পে যাতায়াতের ফলে সড়কে অতিরিক্ত গাড়ির চাপে দীর্ঘ যানজটে পড়ে অর্থ ও সময়ের অপচয় হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের আগমনের পর থেকে এই এগারো মাসে জানা অজানা প্রায় এক হাজার মানুষের প্রাণ এই সড়ক কেড়ে নিয়েছে।
উখিয়া বাঁচাও ব্যানারে রক্ষা কর উখিয়াকে সহযোগিতা কর রোহিঙ্গাকে, নিরাপদ সড়ক চাই এই শ্লোগান সামনে রেখে আমরা স্মারকলিপি, মানব বন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছি।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.