সাম্প্রতিক....
Home / প্রচ্ছদ / সাম্প্রতিক... / উপকূলবাসীকে তাড়া করে সেই ২৯শে এপ্রিলের ভয়াল স্মৃতি…..

উপকূলবাসীকে তাড়া করে সেই ২৯শে এপ্রিলের ভয়াল স্মৃতি…..

এম আবুহেনা সাগর; ঈদগাঁও :

২৬শে এপ্রিল থেকে ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি হয়। বাড়িতে স্ত্রী, সন্তান ও অসুস্থ বৃদ্ধা মা। কাঁচা রাস্তা হওয়ায় তাদের নিয়ে ডাক্তারের কাছে যাওয়াও দুরহ ছিল। অভাবের কারণে ডাক্তারকে বাড়ি আনাও সম্ভব হচ্ছিলনা। অপেক্ষায় ছিলাম বৃষ্টি থামলে তাদেরকে চিকিৎসকের কাছে নেব। ২৯ এপ্রিলের জলোচ্ছ্বাস বৃষ্টি থামিয়েছিল, কিন্তু অসুস্থ স্বজনদের ডাক্তারের কাছে নেয়ার সুযোগ দেয়নি। প্রায় ২০ ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাস তাদের সবার হৃদস্পন্দন থামিয়ে দেয়। তাদের মরদেহ গুলোও আর দেখা হয়নি। দীর্ঘবছরে এলাকার অনেক কিছুর পরিবর্তন হয়েছে। সব হারিয়ে অন্য এলাকায় বাসা গড়েছি, তারপরও হারানো ধনদের স্মৃতি পিছু ছাড়েনা।

ইসলামাবাদ টেকপাড়ার বাড়িতে ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের রাতে স্বজন হারানোর সেই স্মৃতি আওড়াতে গিয়ে আবেগ আপ্লুত হন প্রবীন এক ব্যক্তি। তিনি সেদিন মা-সন্তান, স্ত্রীসহ সব হারান।

ঈদগাঁওর মাছুয়াখালীর কৃষক মোহাম্মদ আমির (৬১) এ প্রতিবেদককে জানান, ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের কথা মনে পড়লে এখনো গাঁ শিউরে উঠে। তখন সময় ঈদগাঁও ইউনিয়নের মাছুয়াখালী উত্তর পাড়া এলাকার ব্যাপক ক্ষতি হয়ে ছিল। ক্ষেত-খামারসহ শতাধিক ঘরবাড়ী ভেঙ্গে যায়। এমনকি তার প্রায় দেড়শত মন লবন পানিতে বিলিন হয়ে যায়। সে সময়ের কথা প্রবীন ব্যক্তিদের মাঝে এখনো তাড়া করে ফিরে।

১৯৯১ সালের ২৯শে এপ্রিল সোমবার দিবাগত রাতে ১১টায় শুরু হয়।পোকখালীর গোমাতলীর ৭, ৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডে বহু মানুষ মারা যায়। সমস্ত গোমাতলীর ৭০ ভাগ বাড়িঘর সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে যায়। বাকি বাড়িঘরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সে বিভীষিকার রাতে দেলোয়ার নামের এক ছাত্র জোয়ারের পানিতে ভেষে আরেকটি বাড়িতে আশ্রয় নিয়ে ছিল, তখনকার সময়ে দেলোয়ার চতুর্থ শ্রেনীর ছাত্র। ১২ থেকে ১৫ ফুট পানির নিচে ছিল গোমাতলী। সে স্বপ্ন মনে পড়লে চোখে এখনো ঘুম আসেনা।

শুধু তিনি নন, উপকূলের শত শত মানুষ তার মতো আপনজনকে হারিয়ে এখনো স্মৃতি হাতড়ে বেড়াচ্ছেন। হারানোর বেদনা তাদের কখনো নিস্তার দেয়নি। ১৯৯১ সালের এ দিনে স্মরণ কালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস কক্সবাজারের দ্বীপাঞ্চলসহ উপকূলীয় এলাকা তছনছ করে মহা ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টি করেছিল। রাতের আঁধারে মুহূর্তের মধ্যে লন্ডভণ্ড হয়ে যায় উপকূলীয় এলাকা। দেশের মানুষ বাকরুদ্ধ হয়ে সেদিন প্রত্যক্ষ করেছিল প্রকৃতির করুণ এই অবস্থা। ১৯৯১ সালের পর থেকে ২৯ এপ্রিল এলেই স্বজনহারা মানুষের কান্নায় ভারী হয় উপকূলের পরিবেশ।

Share

Leave a Reply

x

Check Also

কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে মহান বিজয় দিবস উদযাপিত

—V প্রেস বিজ্ঞপ্তি :কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদায় বিজয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। দিবসের ...

Portrait of a professional, showcasing contact details and role information.