সাম্প্রতিক....
Home / প্রচ্ছদ / প্রাকৃতিক ও পরিবেশ / কক্সবাজারের বাঁকখালী থেকে বালি উত্তোলন : সংকটাপন্ন ছমুদাব্রিজ, বেড়ীবাঁধ, মসজিদ

কক্সবাজারের বাঁকখালী থেকে বালি উত্তোলন : সংকটাপন্ন ছমুদাব্রিজ, বেড়ীবাঁধ, মসজিদ

Balo Uttalan Ajit Himu 29-08-2016 news 1pic

অজিত কুমার দাশ হিমু, কক্সভিউ :

কক্সবাজার সদর উপজেলার বাকঁখালী নদী থেকে শ্যালো মেশিন দিয়ে নির্বিচারে বালি উত্তোলনের ফলে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের ছমুদা ব্রীজ সংলগ্ন প্রবাহমান নদীর গতিপথ পরিবর্তন করে গ্রামের মাঝে ঢুকে পড়েছে। এতে নদীর উপরদিয়ে যাওয়া ছমুদা ব্রীজ, তীরবর্তী গ্রামের ফসলী জমি, প্রাচীন উত্তর মুহুরী পাড়া জামে মসজিদ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়ীবাঁধ সহ অসংখ্য ঘর-বাড়ী হুমকির মুখে পড়েছে। পাশাপাশি নদীর গতি পরিবর্তন হয়ে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে এলাকার শত শত পরিবার। ফলে নদীর তীরবর্তী উত্তর মুহুরী পাড়া গ্রামের মানুষের মাঝে আতঙ্ক বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে বিপন্ন হচ্ছে পরিবেশ। সংকটাপন্ন চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের ছমুদা ব্রীজ।

তথ্যনুসন্ধানে জানা গেছে, ঝিলংজা ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের উত্তর মুহুরী পাড়ার মৃত হোসেন ফকিরের ছেলে মুবিনুল হক ও জিয়াউল হক এর নেতৃত্বে শক্তিশালী সিন্ডিকেটের লোকজন ‘মাটি ও বালি ব্যবস্থাপনা আইন-২০১০’ উপেক্ষা করে বাকঁখালী নদী থেকে শ্যালো মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলনের ফলে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।

ওই সিন্ডিকেটের লোকজন বাঁকখালী নদী থেকে বালু উত্তোলন করে বিভিন্ন নির্মিতব্য ভবনে ও রাস্তাঘাটে কিংবা ফসলী জমি ভরাটের কাজে এসব বালু বিক্রি করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।

কোন প্রকার আইনের তোয়াক্কা না করে ওই সিন্ডিকেট উত্তর মুহুরী পাড়া ও আল-বয়ান ইনষ্টিটিউট সংলগ্ন বাঁকখালী নদী থেকে শ্যালো মেশিন দিয়ে বালি উত্তোলনের ফলে বাঁকখালী নদীর উপরদিয়ে যাওয়া চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের ছমুদা ব্রীজ, ফসলী জমি, প্রাচীন মসজিদ, বেড়ীবাঁধ ও শত শত বসত বাড়ী নদী গর্ভে বিলিন হওয়ার আশঙ্কা করছেন এলাকার সাধারণ মানুষ। তবুও প্রশাসনের নজর পড়ছে না এসব বালু উত্তোলনকারীদের উপর। কোনো পদক্ষেপ গ্রহণতো দূরের কথা গোপন আঁতাতের অভিযোগও উঠেছে।

সরেজমিনে দেখা যায় বাকঁখালী নদীর শাখা উপশাখার বিভিন্ন স্থানে বর্তমানে ভাঙ্গনের ভয়াবহ চিত্র দেখা গেছে। ওই সিন্ডিকেট সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে ম্যনেজ করে নিয়মিত হাজার হাজার ঘনফুট বালু উত্তোলন করে তা বিক্রি করছে।

দীর্ঘদিন যাবৎ অবৈধভাবে শ্যালো মেশিন দিয়ে বাকঁখালী নদীর গর্ভ থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। ফলে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন করার কারনে ছমুদা ব্রীজ সংলগ্ন দক্ষিনাংশে নদীর গভীরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে করে নদীর পানি প্রবাহের ভারসাম্য না থাকায় বিপর্যয়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে ব্রীজ, প্রাচীন মসজিদ ও জনবসতি। এইভাবে চলতে থাকলে অচিরেই ভেঙ্গে যাবে ছমুদা ব্রীজ সংলগ্ন কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহা সড়ক।

স্থানীয় অধিবাসি টিটু এ প্রতিবেদককে জানান, বর্তমানে বাকঁখালী নদীর কোন গতি নেই। এটি এখন সর্বনাশা নদীতে পরিণত হয়েছে। নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করে এ নদী থেকে বালু উত্তোলনের কারনে বর্ষা মৌসুম এলেই উত্তর মুহুরী পাড়ার প্রাচীন মসজিদ, পানিউন্নয়ন বোর্ডের বেড়ীবাঁধ ও জায়গা-জমিসহ বসতবাড়ী তলিয়ে যাবে নদীতে।

তাদের দাবী জরুরী ভিক্তিতে মুবিনুল হক ও জিয়াউল হক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা না হলে বাকখালী নদীতে নতুন করে আরো ভাঙ্গন সৃষ্টি হবে বলে আশংকা করছেন এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঝিলংজা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান টিপু সুলতান এ প্রতিবেদককে জানান, কিছু জায়গায় নদীর গভীরতা কমে গেছে আবার অনেক স্থানে গভীরতা তৈরী হচ্ছে। এছাড়াও সম্পূর্ণ অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারনে বর্তমানে নদী ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগের তদারকি জোরদার করে প্রয়োজনীয় আইনী ব্যবস্থা গ্রহন করা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। এছাড়াও এভাবে বালু উত্তোলন করা হলে নদীর তীর রক্ষা করা সম্ভব নয় বলেও তিনি জানান।

ওই এলাকার বাসিন্দা জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি জালাল উদ্দিন ও ছাত্রলীগ নেতা কপিল উদ্দিন জানান, বাকঁখালী নদীর ভাঙ্গনে ব্রীজ, প্রাচীন মসজিদ ও জনবসতী ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। অনতিবিলম্বে বাকঁখালী নদীর ভাঙ্গন রোধে বালী উত্তোলনকারী মোবিনুল হক ও জিয়াউল হক গংদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

Share

Leave a Reply

x

Check Also

কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে মহান বিজয় দিবস উদযাপিত

—V প্রেস বিজ্ঞপ্তি :কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদায় বিজয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। দিবসের ...

Portrait of a professional, showcasing contact details and role information.