অজিত কুমার দাশ হিমু, কক্সভিউ:
কক্সবাজার উন্নয়ন ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানে ৬৮ নারী শ্রমিকদের বকেয়া বেতনের দাবীতে বিক্ষোভ করেছে। ২৩ সেপ্টেম্বর বুধবার সকালের দিকে শহরের এন্ডারসন রোডস্থ এ প্রতিষ্ঠানের সামনে বকেয়া বেতনের প্রত্যাশী শ্রমিকরা অবস্থান নেন। এ সময় উন্নয়ন ইন্টারন্যাশনাল এর স্বত্বাধিকারী আতিকুল ইসলামসহ তার অফিসের কর্মকর্তারা ওই শ্রমিকদের গালিগালাজ করে তাড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে, শ্রমিকরা বেতন পাওয়ার জন্য প্রয়োজনে মানববন্ধন সহ জেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হবে বলে বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। এসময় কর্তৃপক্ষ অবস্থা বেগতিক দেখে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের ২মাসের বেতন দেওয়ার আশ্বাস প্রদান করে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে পাঠায়। ব্যাংকে গিয়ে ঘটে বিপত্তি।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানান, তাদের একাউন্টে ১মাসের বেতন জমা হয়েছে। পরে ওই শ্রমিকদের নেতা আবদুল আমিন সিআইপি আতিকুল ইসলামের কাছে কেন ১মাসের বেতন দেবেন জানতে চাইলে, সিআইপি বলেন, বেশি বাড়াবাড়ি করলে বেতন তো দূরের কথা চাকুরী থেকেও বহিস্কার করা হবে।
এব্যাপারে বিক্ষুব্ধ নারী শ্রমিক মনিরা বেগম, ছালেহা বেগম সহ অন্যান্য শ্রমিকরা জানান, আমরা বেতনের দাবীতে মানববন্ধনসহ জেলা প্রশাসককে বিষয়টি অবহিত করব বলে বিক্ষোভ প্রদর্শন করলে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান কর্তৃক সংশ্লিষ্ট ব্যাংক থেকে ২মাসের বেতনের টাকা নেওয়ার প্রস্তাব দিলে শ্রমিকরা শান্ত হন।
জানা যায়, কক্সবাজার উন্নয়ন ইন্টারন্যাশনাল নামে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান উখিয়া-কোটবাজার-সোনারপাড়া-মনখালী-শামলাপুর-টেকনাফ সড়কের উভয় পাশের বিভিন্ন মেরামতের জন্য গত আগষ্টে (আরটিআইপি) প্রকল্পের অধিনে ৪জন সুপারভাইজারসহ ৬৪জন নারী শ্রমিক নিয়োগ প্রদান করে। প্রতিজন নারী শ্রমিকদের মাসিক বেতন ৫হাজার টাকা ও সুপারভাইজারের বেতন ৭হাজার টাকা চুক্তিছিল বলে দাবী করেন উক্ত শ্রমিকরা। নিয়োগের পর থেকে বেতন-ভাতা নিয়ে চরম অনিয়মের শিকার হচ্ছে।
ওই প্রকল্পের সুপারভাইজার অলি উল্লাহ, বশির আহমদ, আবদুল আমিন ও ছৈয়দ আমিন জানান, এ পর্যন্ত শ্রমিকরা ১৩মাস চাকুরী করে বেতন পেয়েছে মাত্র ৪মাসের। তাও ৫হাজার টাকার মধ্যে প্রতিজন মাসে ৩৬শ টাকা করে পেয়েছে বলে দাবী করেন তারা।
তারা আরও জানান, বেতন না পেয়ে গত রোজার ঈদেও বেতন না পেয়ে আন্দোলন করেছিল উক্ত শ্রমিকরা। ওই সময় কক্সবাজার এলজিইডি অফিসে ও একই সাথে উন্নয়ন ইন্টারন্যাশনাল অফিসে বিক্ষোভ করেছিল। পরে এলজিইডি এবং উন্নয়ন ইন্টারন্যাশনাল কর্তৃপক্ষ ওইসময় শ্রমিকদের ২মাসের বেতনভাতা প্রদান করেন। একই কায়দায় এবারের আসন্ন কোরবানীর ঈদেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে। এভাবে তারা হয়রানির শিকার হয়ে অসহায় হয়ে পড়েছে।
বিষয়টি সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন নির্যাতিত শ্রমিকরা।
এ বিষয়ে উন্নয়ন ইন্টারন্যাশনাল এর স্বত্বাধিকারী আতিকুল ইসলাম(সিআইপি)’র মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করেও সংযোগ না পাওয়ায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"



You must be logged in to post a comment.