কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কে ভটভটি, টমটম ব্যাটারিচালিত রিকসা ভ্যানসহ বিভিন্ন যানবাহনের কারণে বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা। অপ্রত্যাশিত হলেও সড়ক দুর্ঘটনা যেন নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে উঠেছে। এ ছাড়াও সড়ক দুর্ঘটনার জন্য কারণগুলো হলো, আকাবাঁকা রাস্তা, পুরোনো ও ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, চালকের অদক্ষতা, ড্রাইভিং পেশায় অনুৎকর্ষ, যুগোপযোগী আইন প্রণয়ন ও প্রয়োগের অভাব। এখানকার অধিকাংশ চালকের বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। এই অবৈধ চালকদের মধ্যে অনেক চালক লাল লাইসেন্সধারী। যাবাহনের বড় একটি অংশই যান্ত্রিক ও অবকাঠামোগতভাবে ত্রুটিপূর্ণ। আর এসব কারণেই কক্সবাজার-টেকনাফ আরাকান সড়কে দুর্ঘটনা মহামারিতে রুপ নিয়েছে। সরকারের ভয়ঙ্কর যান হিসেবে চিহ্নিত নসিমন, করিমন, ভটভটি, ব্যাটারিচালিত রিকসা চলাচল বন্ধ করা যাচ্ছে না। এসব যাবাহনের কারণে প্রতিদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা। গত বছর কাজের সন্ধ্যানে রোহিঙ্গারা চাঁদের গাড়িতে করে কক্সবাজার যাওয়ার পথে উখিয়া ডিগ্রী কলেজ সংলগ্ন টিএনটি এলাকায় আকাবাঁকা রাস্তার উপর ৯জন রোহিঙ্গা শ্রমিক নিহত হয়।
এরপর থেকে প্রায় প্রতিবছর কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থীরা রাস্তা পারাপারের সময় শিশুসহ দুর্ঘটায় পতিত হয়ে প্রাণ হারাচ্ছে। বেশিরভাগ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী থাকে চালকের অদক্ষতা। দুর্ঘটনার পরও এসব চালকের বিরুদ্ধে আইনগত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। আবার এও সত্য যে, অধিকাংশ চালকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়ার মতো অবকাঠামো সরকারের নেই। এটি সরকারের ব্যর্থতা।
ড্রাইভিং পেশাকে এখনো নিম্নমানের পেশা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশেষ করে, বাস ও ট্রাক ড্রাইভাররা ২৪ ঘন্টার মধ্যে ১৬ থেকে ১৮ ঘন্টাই পরিশ্রম করেন। দীর্ঘ সময় এরা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পথেঘাটে থাকতে তাদের মধ্যে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়। এরা শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। ফলে পেশায় মনোনিবেশ করতে পারে না তারা। এটিও দুর্ঘটনার আরেক বড় কারণ বলে মনে করছেন অনেকে। বাংলাদেশে এখনো অনেক কিছুই পুরাতন পদ্ধতি অনুসারে চলছে।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"



You must be logged in to post a comment.