
কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের বালুখালী এলাকায় ট্রাক ভর্তি গাছের গাড়ি উল্টে দুর্ঘটনায় পতিত হয়।
হুমায়ুন কবির জুশান; উখিয়া :
কক্সবাজার জেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি সিরাজুল হক বিএ ও সদস্য সিরাজুল হক ডালিমের মৃত্যুতে শুভাকাঙ্খি ও দলীয় নেতা-কর্মীদের কান্না থামতে না থামতেই ঐ সিএনজি চালকও তার পরিবারকে কাঁদিয়ে চলে গেল গত সোমবার (৭ মে)।সিএনজিতে আরেক আরোহী সাইফুল সিকদার জীবন মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনিও সংকটে আছেন বলে জানিয়েছেন, বিএনপি নেতা সালাম সিকদার। এই সড়কে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় অঙ্গহানি হলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে হাসপাতালে কাতরাতে কাতরাতে প্রাণও যায় আহতদের। এভাবে সড়কে হত্যা বা দুর্ঘটনা বাড়ছেই।
পরিকল্পিত উখিয়া চাই এর আহবায়ক সাংবাদিক নুর মোহাম্মদ সিকদার বলেন, সড়কে হত্যা এখন পরিণত হয়েছে গণহত্যায়। চালকরা সরাসরি গাড়ি উঠিয়ে দিচ্ছে আরেক চালকের পায়ের ওপর। দেশজুড়ে চালকরা গাড়ি চালাচ্ছে বেপরোয়াভাবে। সী লাইন, কক্স লাইন ও স্পেশাল সার্ভিসসহ অধিকাংশ গাড়ির চালকের নিয়োগপত্র নেই। এক চালকের সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমাদের নিয়োগপত্র লাগে না। মালিককে দেওয়ার পর সব খরচ করে নিজের ৫০০ টাকাও থাকে না। বেশি ট্রিপ দিতে পারি না। তাই রাস্তা খালি পেতে বেশি দৌড়াতে হয়। না হলে তো পেট চালানো যাবে না। দিনে তিন চারটি ট্রিপ দিতে পারি। শ্রম আইনে মোটরযান শ্রমিকদের নিয়োগপত্র দেওয়া এবং দিনে সর্বোচ্চ আট ঘন্টার বেশি কাজ না করানোর বাধ্যবাধকতা আছে। তবে অনেক চালককে ১৬ ঘন্টাও বসে থাকতে হয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সী লাইন মালিকের কাছে চালককে কেন নিয়োগপত্র দেওয়া হয়না জানতে চাইলে তিনি বলেন, নিয়োগপত্র না দেওয়ার বড় কারণ চালকেরা সব শর্ত পূরণ করতে পারে না। বেশির ভাগ চালক ওস্তাদের কাছে গাড়ি চালানো শিখেছে। তাদের বড় অংশ নিরক্ষর। শিক্ষিত ও প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত চালকদের নিয়োগপত্র দেওয়া হলে দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমে আসতো। এখানে শুধু সী-লাইন, কক্স লাইন নয়, টমটম, ডাম্পার, বটবটি, সিএনজি স্পেশাল সার্ভিসসহ অধিকাংশ যানবাহনে দক্ষ প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত চালকের যথেষ্ট অভাব রয়েছে।
ট্রাক চালক জাফর আলম জানান, সপ্তাহের বেশির ভাগ সময়ই তাকে বেশ ক্লান্ত থাকতে হয়। দূরে ট্রিপ নিয়ে গেলে রাস্তায় ঘুমাতে হয়। সেখানেও পুলিশের ঝামেলা। তিনি সরকারের কাছে মহাসড়কে গাড়ির চালকদের জন্য বিশ্রামাগার তৈরির দাবি জানান।
সোলতান মাহমুদ চৌধুরী বলেন, পরিবহন শ্রমিকদের ১০ ঘন্টা কাজের পর ২৪ ঘন্টা বিশ্রাম নেওয়ার নিয়ম থাকলেও মালিকের নির্দেশে তাদের যেকোনো সময় ছুটে চলতে হয়। মালিকের চাহিদা মেটাতে চোখে ঘুম নিয়েই তাদের আবার গাড়ি নিয়ে ছুটতে হয়।তিনি বলেন, মালিকদের দায়দায়িত্ব এবং বেতন বা মজুরির নির্দিষ্ট কাটামো না থাকায় তাদের অন্যায্য দাবি মেনে নিয়েই গাড়ি চালাতে হয় চালকদের।
সূর্যোদয় সংঘের সভাপতি নুরুল আলম বলেন, পরিবহন শ্রমিকদের নির্দিষ্ট কর্মঘন্টা না থাকা, প্রশিক্ষণের অভাব এবং চলন্ত অবস্থায় চালকের মোবাই ব্যবহার দুর্ঘটনায় বড় প্রভাব ফেলে। কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কে প্রশিক্ষণহীন, লাইসেন্সবিহীন চালকের আধিপত্য বাড়ছে। তাদের পেছনে আছেন পরিবহন নেতারা। চাঁদা আদায়ের জন্য চালকদের ব্যবহার করে পরিবহন নেতা ও মালিকরা মুনাফা লুটে নিচ্ছেন। শ্রম আইনে চালকদের আট ঘন্টা খাটানোর কথা থাকলেও দ্বিগুণ সময় পর্যন্ত খাটানো হচ্ছে, যাতে বেশি ট্রিপ দিয়ে বেশি লাভ ওঠে। এ জন্য চালকদের নিয়োগপত্র দেওয়া হয়না। কারণ নিয়োগপত্র থাকলে নায্য অধিকার না পেলে চালকরা আদালতে যেতে পারবে, মালিক বা পরিবহন নেতাদের প্রভাব কমে যাবে। ফলে সড়কগুলোতে প্রাণহানি ও অঙ্গহানি বাড়ছে।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.