অজিত কুমার দাশ হিমু, কক্সভিউ :
কক্সবাজার পর্যটন শহরে রুমালিয়ারছড়াস্থ মাতৃছোঁয়া ছাত্রী নিবাসে ভবন মালিকের বিরুদ্ধে ভাংচুর, লুটপাট, সীমানা দেয়াল ভেঙ্গে ফেলা, মহিলাদের উক্ত্যাক্ত করার, শ্লীলতাহানীসহ নানা অপকর্মের অভিযোগ উঠেছে। এ ব্যাপারে মাতৃছোঁয়া ছাত্রী নিবাসের পরিচালক আকবর খাঁন কক্সবাজার সদর মডেল থানায় একাধিক সাধারণ ডাইরী এবং পুলিশ সুপার বরাবরে অভিযোগসহ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। যার মামলা নং- ৯৩২/২০১৬।
ছাত্রী নিবাসের পরিচালক আকবর খাঁন জানিয়েছেন, ভবন ভাড়ার চুক্তিনামা লঙ্ঘন করে ভবন মালিক আবু নাছের মোঃ নাছির উদ্দিন নানাভাবে হয়রানি নির্যাতন ও ভবন থেকে বের করে দেয়ার নানা রকম চক্রান্ত, ষড়যন্ত্র ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। শুধু তাই নয় ছাত্রী নিবাসের সকল কক্ষে পানি সরবরাহ বন্ধ করে দেয়া হয়। এ কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছে প্রায় বিভিন্ন কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া শতাধিক শিক্ষার্থী।
শহরের দূর-দুরান্ত থেকে আসা কলেজ পড়ুয়া ছাত্রীদের আবাসন সংকট নিরসনকল্পে উক্ত প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ২০১৩ সালের অক্টোবর মাসের মাসিক ভাড়া ৭২হাজার টাকা নির্ধারণ সাপেক্ষে নাছের কমপ্লেক্স ভবনটি ভাড়া নেন। এরপর কক্সবাজারে আবাসিক ছাত্রী নিবাস সংকট নিরসনের উদ্দেশ্যে তিনি সেখানে মাতৃছোঁয়া ছাত্রী নিবাস কেন্দ্রটি গড়ে তুলেন। ভাড়াকৃত ভবনের ২য়, ৩য়, ৪র্থ ও ৫ম তলায় ছাত্রীদের আবাসন সংকট নিরসন করার লক্ষ্যে এই কার্যক্রমটি হাতে নেয়া হলেও ভবনটি ভাড়া নেয়ার পর থেকে ওই ভবনের মালিক ভাড়াটিয়াকে উচ্ছেদ করতে নানাভাবে হয়রানী ও নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছে।
চুক্তি অনুযায়ী ভবনের মেয়াদ কাল শেষ হবে ২০১৮ সালের সেপ্টম্বর মাসে। তারপরও অতিলোভের বশবর্তী হয়ে আরো অধিক টাকা লাভের লোভে পড়ে ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ সাধারণ ছাত্রীদের উপর বর্বর নির্যাতন চালাচ্ছেন। এতে করে ছাত্রীরা শারীরিক ও মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়ছে। ফলে ভয়-ভীতির কারণে অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের ছাত্রী নিবাস থেকে নিয়ে অন্যত্র নিরাপদ স্থানে চলে যাচ্ছেন বলে অভিযোগে বলা হয়।
ইতোমধ্যে ভবন মালিক মাতৃছোঁয়া ছাত্রী নিবাস কেন্দ্রের সাইন বোর্ডটিও ভেঙ্গে ফেলে। মাতৃছোঁয়া ছাত্রী নিবাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আকবর খাঁন জানান, ভবন মালিক অধিক প্রভাবশালী হওয়ায়, প্রশাসন ও তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হিমশিম খাচ্ছে। তার চলাচলে গতিবিধি লক্ষ্য করে একাধিক সন্ত্রাসী গ্রুপকে তার বিরুদ্ধে লেলিয়ে দেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে তিনি একাধিক বার সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন বলেও জানান।
ভবন মালিক আবু নাছের জানান, ৩য় তলার বেলখনিতে জ্বালানি কাঠ নিয়ে ১শ জনের রান্নাবান্না করা হয় যা চুক্তিপত্রে উলেখ ছিল না। এতে করে ভবনের অবকাঠামো নষ্ট হচ্ছে। পুরো ভবনটি অপরিচ্ছন্ন ও ব্যবহারের অনুপযোগী করা হয়েছে। ভাড়া বাকী আছে বেশ কয়েক মাসের। এ ক্ষেত্রে যিনি ভাড়া নিয়েছেন তিনি জানান, কোন মাসের ভাড়া এখনও পর্যন্ত বকেয়া নেই। ভবন মালিক আবু নাছের এখনও পানি সরবরাহ বন্ধ করা আছে। প্রয়োজনে বিদ্যুৎ সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হবে।
মাতৃছোঁয়া নিবাসের শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তারা নানা রকম সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। পানি সরবরাহ বন্ধ থাকায় তারা পড়েছে চরম দুর্ভোগে। খাবার পানিও বাহির থেকে কিনে খেতে হচ্ছে। সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত। ছাত্রীরা লেখা পাড়ার বাহিরে থাকেন। এরপর বাকি সময় তাদের নিবাসে থাকতে হয়।
কক্সবাজার পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত রয়েছেন। যেখানে পানির জন্য শিক্ষার্থীদের সমস্যা হচ্ছে তেমনি উৎপেতে থাকা বকাটেদের নানারকম ইভটিজিং এর স্বীকার হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।
তিনি আরও জানান, এ ব্যাপারে ভবন মালিকের সাথে কথা বলেছি। উভয় পক্ষ ভবন ও ভাড়াটিয়া বসে সমস্যার সমাধান করবেন বলে কথা দিয়েও ভবন মালিককে বৈঠকে বসানো যায়নি। তাই এতচরম দুর্ভোগ ও দুর্দশার মধ্যেও প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী ছাত্রী নিবাসে মানবেতর জীবন যাপন করছে। ক্ষতিগ্রস্তরা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"



You must be logged in to post a comment.