
এম আবু হেনা সাগর; ঈদগাঁও :
কক্সবাজার সদরের বৃহত্তর ঈদগাঁওতে এসএসসি (ভোকেশনাল) কোর্স চালু না থাকায় সম্ভাবনাময় অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীর প্রয়োজনীয় কর্মসংস্থান হচ্ছে না। এতে করে উক্ত শিক্ষার্থীরা বেকার থাকার কারণে অনৈতিক বা অসামাজিক কাজে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রাপ্ত তথ্যে মতে, বৃহত্তর ঈদগাঁওতে উচ্চ শিক্ষার ৪টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রতিষ্ঠান গুলো হচ্ছে ঈদগাঁও আলমাছিয়া ফাজিল ডিগ্রী মাদ্রাসা, ঈদগাহ ফরিদ আহমদ ডিগ্রী কলেজ, ভারুয়াখালী আলিম মাদ্রাসা এবং মমতাজুল উলুম ফরিদিয়া সিনিয়র মাদ্রাসা। এ প্রতিষ্ঠান গুলোর কোনটিতেই বৃত্তি বা কারিগরি শিক্ষার ব্যবস্থা নেই। অথচ এগুলোতে এইচএসসি ও স্নাতকোত্তর পর্যন্ত কয়েক হাজার শিক্ষার্থী প্রতি বছর পড়ালেখা করছে। আর মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে একাধিক। এগুলো হচ্ছে ঈদগাহ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, ঈদগাহ জাহানারা ইসলাম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, ঈদগাহ আদর্শ শিক্ষা নিকেতন, নাপিতখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পোকখালী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, গোমাতলী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, চৌফলদন্ডী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, সাগরমনি উচ্চ বিদ্যালয়, সবুজবাগ আদর্শ মডেল স্কুল এন্ড কলেজ, ভারুয়াখালী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, পালাকাটা এডভোকেট মুজিবুর রহমান আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ আহমদ গ্রামার স্কুল এন্ড কলেজ, ঈদগাঁও প্রি-ক্যাডেট স্কুল এন্ড কলেজ, পোকখালী আইডিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ প্রভৃতি।
জানা যায়, এসব প্রতিষ্ঠানের কোনটিতেই কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ব্যবস্থা তথা ভোকেশনাল কোর্স চালু নেই। অন্যদিকে রয়েছে ডজনাধিক দাখিল মাদ্রাসা। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে পালাকাটা গোলজার বেগম দাখিল মাদ্রাসা, নাইক্ষ্যংদিয়া এস.টি দাখিল মাদ্রাসা, খোদাইবাড়ী এ.জি লুৎফুল কবির বালিকা মাদ্রাসা, ইছাখালী ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা, ইসলামপুর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসা, মেহেরঘোনা শাহ জব্বারিয়া দাখিল মাদ্রাসা, ভোমরিয়াঘোনা হাজী শফিক দাখিল মাদ্রাসা, হযরত উম্মেহানি (রাঃ) বালিকা দাখিল মাদ্রাসা, গোমাতলী মুনছেহেরিয়া বালিকা দাখিল মাদ্রাসা, রহমানিয়া দাখিল মাদ্রাসা, কালু ফকির পাড়া বালিকা দাখিল মাদ্রাসা প্রভৃতি। এসব মাদ্রাসায় ক্ষেত্র বিশেষে ১ম থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত অথবা ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী সাধারণ শিক্ষা গ্রহণ করছে। পরবর্তীতে তাদের কেউ কেউ উচ্চ শিক্ষার দ্বারস্থ হচ্ছে। সিংহভাগ মাদ্রাসায় বিজ্ঞান বিভাগ চালু না থাকায় সম্ভাবনাময়ী অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী ইচ্ছা স্বত্ত্বেও মেডিকেল, প্রকৌশল ও কারিগরি শিক্ষার উচ্চ স্তরে যেতে পারছে না।
বিদ্যমান উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মাধ্যমিক প্রতিষ্ঠান ও দাখিল মাদ্রাসা সমূহের কোনটিতে এসএসসি (ভোকেশনাল) কোর্স চালু নেই। যার কারণে ঘনবসতিপূর্ণ ৬/৭টি ইউনিয়নের সমন্বয়ে বৃহত্তর ঈদগাঁও এলাকার হাজার হাজার শিক্ষার্থী উপযুক্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছে না। বৃত্তিমূলক শিক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় এসএসসি, দাখিল, এইচএসসি, আলিম, স্নাতক বা ফাজিল পাস করেও কর্মসংস্থানের অভাবে অকালে ঝরে পড়ছে। যারা বৃত্তিমূলক বা কারিগরি শিক্ষা গ্রহণ করতে ইচ্ছুক তাদেরকে জেলা সদর অথবা দূরবর্তী ভিন্ন উপজেলায় গিয়ে ভর্তি হতে হয়। আর বৃহত্তর ঈদগাঁও এলাকাটি জেলা সদর থেকে প্রায় ৩৬ কিলোমিটার দূরে। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শিক্ষার্থীদের পক্ষে আত্মনির্ভরশীল ও স্বাবলম্বী হতে অনেক সময় দূরবর্তী প্রতিষ্ঠানে গিয়ে বৃত্তিমূলক শিক্ষা গ্রহণ করা সম্ভবপর হয়ে উঠে না। তাছাড়া প্রথাগত ও পূঁথিগত শিক্ষায় শিক্ষিত বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী তীব্র প্রতিযোগিতামূলক চাকরির বাজার থেকে অনেকাংশে ছিটকে পড়ছে। যার কারণে পরে তারা পরিবারের জন্য বোঝা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। চাকরির অভাবে বেকার থাকায় অনেকে অনৈতিক বা অসামাজিক কাজে জড়িয়ে পড়ছে।
এলাকার সম্ভাবনাময় হাজার হাজার শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় কর্মসংস্থান এবং বিশ্ব বাজারে নিজেদের যোগ্যতা প্রমাণের জন্য কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার কোন বিকল্প নেই। কারণ, উক্ত শিক্ষা অর্জনের মাধ্যমে তারা নিজেদের দক্ষ ও যোগ্য করে তুলতে পারবে। এ শিক্ষা ব্যবস্থা চালু হলে এলাকায় বেকারের সংখ্যা অনেকাংশে কমে যাবে। বৃত্তিমূলক শিক্ষায় শিক্ষিতরা দেশ ও সমাজের উন্নয়নে আত্মনিয়োগ করতে পারবে। বেকার বা চাকরিজনিত যে কোন ধরণের হতাশা থেকে মুক্ত থাকবে। ফলে তাদের অসামাজিক কাজে জড়িত থাকার আশঙ্কা কমে যাবে।
এ ব্যাপারে ঈদগাহ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষকের মতে, তাঁর বিদ্যালয়ে ভোকেশনাল কোর্সের যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। কিন্তু কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক উক্ত কোর্স চালুর অনুমতি না থাকায় বাধ্য হয়ে অনেক শিক্ষার্থীকে ফেরত দিতে হচ্ছে। তবে বর্তমান চাহিদা বিবেচনায় তিনি তাঁর বিদ্যালয়ে বৃত্তিমূলক বা কারিগরি শিক্ষা কোর্স চালু করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট আবেদন জানাচ্ছেন।
ঈদগাহ জাহানারা ইসলাম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষকের মতে, নারী শিক্ষার প্রতিষ্ঠান হলেও তাঁর বিদ্যালয়ে ভোকেশনাল কোর্স অতীব জরুরী। এর মাধ্যমে নারী শিক্ষার্থীরা চাকুরির বাজারে নিজেদের দক্ষ ও যোগ্য করে তুলতে পারবে। নারীরা বৃত্তিমূলক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে নিজেদের আত্মকর্মসংস্থানের পাশাপাশি পরিবার-পরিজনের ভরণ-পোষণে সহায়তা এবং নিজেদের সন্তান-সন্ততিদেরও উপযুক্ত শিক্ষায় শিক্ষিত করতে পারবে।
অপরদিকে সচেতন অভিভাবক মহলের মতে, তাদের ছেলেমেয়েদের উচ্চশিক্ষার স্বার্থে অবিলম্বে ঈদগাঁওতে ভোকেশনাল কোর্স চালু করার জোর দাবী জানান।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.