
মুকুল কান্তি দাশ; চকরিয়া :
কক্সবাজারের চকরিয়ায় জমির বিরোধকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের দা’য়ের কোপ ও লাঠির আঘাতে হাফেজ মাওলানা রুহুল আমিন (৬০) নিহত হয়েছেন। ওই সময় তার বড় ভাই আমিনুর রশিদ (৬২) গুরুতর আহত হয়। ঘটনার পরপর স্থানীয় লোকজন হতাহত দুই ভাইকে উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। ওই সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক ছোট ভাইকে মৃত ঘোষণা করেন এবং বড় ভাইয়ের অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।
শনিবার (৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের নয়াপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ রয়েছে জমির বিরোধ নিয়ে ৬১ বছর পূর্বে শফির পিটুনিতে দাদা নিহত হয়। সেই শফির ছেলে বেলালের নেতৃত্বে এবার হামলা চালিয়ে নাতিকে হত্যা করা হয়েছে। নিহত হাফেজ মৌলানা রুহুল আমিন ও আহত আমিনুর রশিদ নয়াপাড়া গ্রামের মৃত মাওলানা আমিন উল্লাহর ছেলে।
ঘটনায় জড়িত অভিযোগে পুলিশ মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন (৫৫)কে আটক করেছে। আটক বেলাল উদ্দিন একই এলাকার মৃত মোহাম্মদ শফির ছেলে।
কৈয়ারবিল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মক্কী ইকবাল হোসেন বলেন, আহত আমিনুর রশিদের পরিবারের সাথে একই এলাকার মো. বেলাল উদ্দিনের পরিবারের মধ্যে ২০শতক জমি নিয়ে বিরোধ চলে আসছিলো। এই বিরোধের জেরে দুই পক্ষ ইউনিয়ন পরিষদসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু কেউ তাদের বিরোধ নিষ্পত্তি করতে পারেনি। কয়েকদিন আগে জমির বিরোধ নিয়ে নিহত মৌলানা রুহুল আমিনের বড় ভাই আমিনুর রশিদ চকরিয়া জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ও চকরিয়া থানায় পৃথক অভিযোগ দায়ের করেন। এই অভিযোগ দায়েরের রেশ ধরে হত্যাকান্ডের এ ঘটনা ঘটতে পারে।
উল্লেখ্য, ১৯৫৮ সালে মো. বেলাল উদ্দিনের পিতা মৃত মো.শফিও জমির বিরোধ নিয়ে নিহত মৌলানা রুহুল আমিনের দাদা (চাচাত) গণি উল্লাহ মুন্সিকেও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে খুন করে।
চকরিয়া থানার এসআই প্রিয়লাল নিহত রুহুল আমিনের মরদেহের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরী করেন। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয় বাম রানে কোপ ও বাম কানের পাশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
ঘটনার পরপর চকরিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার কাজী মো. মতিউল ইসলাম ও থানার ওসি মো. হাবিবুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ হাবিবুর রহমান বলেন, কৈয়ারবিল এলাকায় জমির বিরোধের জের ধরে এক ব্যক্তিকে হত্যার ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার সাথে সরাসরি জড়িত অন্য অভিযুক্তদের আটক করতে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নেমেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসকের প্রতিবেদন পাওয়ার পর বলা যাবে শরীরের কোন অংশে আঘাতের কারণে রুহুল আমিন মারা গেছেন।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.