কক্সবাজারের চকরিয়ায় চিংড়িজোন খ্যাত রামপুর ও চরণদ্বীপ মৌজায় ঘের দখলসহ লুটপাটের আদিপত্য বিস্তার নিয়ে একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী প্রতিপক্ষের দুই সন্ত্রাসীর চোখ উৎপাটন ও অপর একজনকে পিটিয়ে জখম করেছে। আহতদের মধ্যে উপকূলীয় এলাকার ত্রাস নৌ-ডাকাত হিসেবে পরিচিত লেদু বাহিনী প্রধান লেদু ও তার সহযোগী সাদ্দাম হোসেনের চোখ উৎপাটন করার পর থেকে অজ্ঞান অবস্থায় রয়েছে লেদু ডাকাত।
সোমবার ভোর ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহত তিনজনকে পুলিশ উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরে তাদের অবস্থার অবনতি ঘটলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়।
আহতদের মধ্যে লেদু (৪০) মহেশখালী উপজেলার কালারমার ছড়াস্থ উত্তর নলবিলা গ্রামের মৃত আসাদ আলীর ছেলে, একই উপজেলার সাদ্দাম হোসেন (২৮) মাতারবাড়ী ইউনিয়নের নতুন বাজার গ্রামের আবদুল করিমের ছেলে ও চকরিয়া উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের ছনুয়া পাড়া গ্রামের মৃত আবদুল হামিদের ছেলে আবুল হোছাইন ওরফে পাখি (৩২) ডাকাত।
আহত পাখি ডাকাত বলেন, আমরা পাঁচজন একষট্টি প্লটের একটি খামারে ঘুমাচ্ছিলাম। ভোর ৫টায় ১৪-১৫জন সশস্ত্র ডাকাত হানা দিয়ে আমাদের হাত-পা বেঁধে ফেলে। সেখান থেকে আমাদের অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার সময় কৌশলে ২জন পালিয়ে যায়। আমিসহ তিনজনকে নৌকায় করে সওদাগরঘোনা এলাকার বাটামুনির মুখ নামক স্থানে নিয়ে গিয়ে আমাকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে জখম করে। লেদুর দু’চোখ সম্পূর্ণ তুলে ফেলে ও সাদ্দামের দু’চোখ নষ্ট করে দেয়। এরপর আমরা তিনজনকে চরণদ্বীপের একটি চরে ফেলে রেখে হামলাকারীরা চলে যায়।
চকরিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) কামরুল আজম বলেন, জখমী তিন সন্ত্রাসী চরণদ্বীপের চরে পড়ে রয়েছে খবর পেয়ে একদল পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। আহত তিনজনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। তাই তাদের পুলিশ পাহারায় চিকিৎসা করানো হচ্ছে।
চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার মোহাম্মদ ছাবের বলেন, আহতদের মধ্যে দুই জনের চোখ একেবারেই নষ্ট হয়ে গেছে। তিনজনই গুরুতর হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চমেক হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
এদিকে হাসপাতালে দেখতে আসা অসংখ্য লোক স্বস্তি প্রকাশ করে বলেন, অন্য ডাকাত দলের হাতে হলেও উপকূলীয় এলাকার ত্রাস লেুদ বাহিনীর প্রধান লেদু সহযোগীসহ জখমী অবস্থায় আটক হওয়ায় এলাকায় সন্ত্রাস ডাকাতি অনেকাংশে কমে আসবে।
অন্যদিকে আহতাবস্থায় আটক পাখি ডাকাত বদরখালীর কুতুবদিয়া পাড়ায় হেলাল উদ্দিন শিপু হত্যা মামলার এজাহার নামীয় আসামী। তাই পাখি ডাকাতকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে শিপু হত্যার নেপথ্য ক্লুসহ কে বা কারা হত্যা করেছে তা উদঘাটন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবং হেলাল হত্যার পর হয়রানীর মুখে পড়া ব্যক্তিরা নির্দোষ হলে তারাও রক্ষা পাবে বলে এলাকাবাসীর অভিমত।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"



You must be logged in to post a comment.