
মুকুল কান্তি দাশ; চকরিয়া :
কক্সবাজারের চকরিয়া পৌরশহর রক্ষা বাঁধ নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। পাহাড়ি ঢলের আগ্রাসন থেকে রক্ষায় পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদের যৌথ অর্থায়নে ভাঙ্গারমুখ স্টেশন থেকে ঘুনিয়া বাজার পর্যন্ত সাত কিলোমিটার দৈর্ঘের বেড়িবাঁধটি নির্মাণ হলে পৌরসভার একাংশ বন্যার কবল থেকে রক্ষা পাওয়ার পাশাপাশি অন্তত ২০ হাজার মানুষ ওই বাঁধ দিয়ে হাটা-চলার মাধ্যমে যোগাযোগ সমস্যা থেকে মুক্তি পাবে। গত সোমবার থেকে ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে বাঁধ কাম রাস্তাটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পানি উন্নয়ন বোর্ডের রক্ষনা-বেক্ষণে পৌরশহর রক্ষায় বেড়িবাঁধটি নির্মাণ করা হয়। কিন্তু বন্যার কারণে বেড়িবাঁধটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে পাউবো একাধিকবার বেড়িবাঁধটি সংস্কার করলেও কয়েক বছরের বন্যার প্রবল ধাক্কায় বাঁধের বেশির ভাগ অংশ আবারও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অনেক স্থানে মাটি সরে গিয়ে নীচু হয়ে যাওয়ায় বন্যার সময় এসব পয়েন্ট দিয়ে লোকালয়ে অনায়াসে ঢুকে পড়ছে পাহাড়ি ঢলের পানি। এ কারনে পৌরসভার ৯নম্বর ওয়ার্ডের দিগরপানখালী, ভাঙ্গারমুখ, রাজধানীপাড়া, ৮নম্বর ওয়ার্ডের কোচপাড়া মজিদিয়া মাদরাসা, নামার চিরিঙ্গা, বাঁশঘাটাসহ আট গ্রামের লোকালয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল বানের পানি। পানিতে তলিয়ে যেত এলাকার বসতবাড়ি। এতে স্থানীয় সাধারণ মানুষ বর্ষাকালে চরম দুভোর্গের শিকার হচ্ছে।
এ অবস্থার উত্তোরনের লক্ষ্যে চকরিয়া পৌরসভা ও উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে গত সোমবার থেকে শুরু করা হয়েছে ক্ষতিগ্রস্থ বেড়িবাঁধ সংস্কার কাজ। চকরিয়া-পেকুয়া আসনের এমপি হাজি মোহাম্মদ ইলিয়াছ উপস্থিত থেকে নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেছেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন চকরিয়া পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক আলমগীর চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ফাঁসিয়াখালী ইউপি চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী, পৌরসভার সচিব মাস-উদ মোর্শেদ, সংরক্ষিত ওয়ার্ডের নারী কাউন্সিলর আঞ্জুমান আরা বেগম, ৯নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নজরুল ইসলামসহ স্থানীয় এলাকাবাসি।
চকরিয়া পৌরসভার মেয়র আলমগীর চৌধুরী বলেন, পৌরশহর রক্ষা বাঁধটি মুলত কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের একটি প্রকল্প। কয়েকবছর ধরে বর্ষাকালে বন্যার তান্ডবে বাঁধটির বেশির ভাগ অংশে মাটি সরে গেছে। বেড়িবাঁধ নীচু হয়ে পড়ায় বন্যার সময় অনায়াসে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ দিয়ে নদীর পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। এতে পৌরসভার ৯ নম্বর ও ৮নম্বর ওয়ার্ডের এবং উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের ২০ হাজার মানুষ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে।
মেয়র আরো বলেন, বরাদ্দ সংকটের কারনে পানি উন্নয়ন বোর্ড তাৎক্ষণিকভাবে সংস্কার কাজ বাস্তবায়ন করতে পারছেনা। এ অবস্থার ফলে জনগনের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে উপজেলা পরিষদ ও পৌরসভার অর্থায়নে ২০লাখ টাকা ব্যয়ে বেড়িবাঁধটি সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এই সাত কিলোমিটার বাঁধ কাম রাস্তা সংস্কারে অতিরিক্ত বরাদ্দ প্রয়োজন হলেও সংগ্রহ পূর্বক ব্যয় করা হবে।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.