সাম্প্রতিক....
Home / প্রচ্ছদ / সাম্প্রতিক... / চকরিয়া খুটাখালীর পীর আবদুল হাই আর নেই

চকরিয়া খুটাখালীর পীর আবদুল হাই আর নেই

মুকুল কান্তি দাশ; চকরিয়া :

দক্ষিণ চট্টগ্রামের পীরে কামেল কক্সবাজারের চকরিয়ার খুটাখালীর হযরত আলহাজ্ব হাফেজ আবদুল হাই (রা.) আর নেই। সোমবার ভোররাত ২টা ৪০মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন) মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ৫ ছেলে, ২ মেয়ে ও আত্মীয়স্বজনসহ অসংখ্য মুরিদ, ভক্ত ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। মঙ্গলবার বিকাল ৫টায় খুটাখালী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মরহুমের নামাজে জানাজা অনুষ্টিত হবে।

ভক্ত ও পারিবারিক সূত্র জানায়,রবিবার দিবাগত রাতে পার্বত্য জেলা বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার আলীকদম বাজার ব্যবসায়ীদের উদ্যোগে আয়োজিত সিরাতুন্নবী (সা:) মাহফিলের দ্বিতীয় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করার কথা ছিলো। কিন্তু তিনি সেখানে পৌছে অসুস্থ হয়ে পড়ায় বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। তাঁর শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে রাত সোয়া ১টায় আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়।

হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক মো.আমিনুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালের জরুরী বিভাগে আনার পর হুজুরের শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল। তাই তাকে স্যালাইন ও অক্সিজেন দেয়া কিন্তু এক পর্যায়ে তিনি ইশারায় এসব খুলে ফেলার তাগিদ দেন। এক পর্যায়ে তিনি উঠে বসতে চাইলে তাকে বসানো হয়। কিছুক্ষণ পর উত্তরমুখী হয়ে শুয়ে যান। এসময় তার শরীর নিস্তেজ হতে থাকে। এবং তাকে অস্পষ্টস্বরে কিছু পড়তে দেখা যায়। রাত ২টা ৪০ মিনিটে তিনি ইন্তেকাল করেন। তার মৃত্যুর সংবাদ জানাজানি হলে শেষ রাতেই হাসপাতালে ভীড় করেন অসংখ্য মুরিদ ও শুভাকাঙ্খীসহ সর্বস্তরের মানুষ। পরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে এ্যাম্বুলেন্স করে তাকে খুটাখালীতে নিয়ে আসা হয়।

পীর হযরত আবদুল হাই ইন্তেকাল করেছেন খবর পেয়ে সোমবার সকাল থেকেই খুটাখালীস্থ তার বাসভবনে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে মুরিদ ভক্তরা আসতে শুরু করেন। দুপুর থেকে ভক্তদের ভীড়ে লোকেলোকারণ্য হয়ে পড়ে খুটাখালী।

কয়েকজন মুরিদ বলেন, হাফেজ আবদুল হাই কোরআনে হাফেজ হওয়ার পর ১৯৬৪ সালে কাকারা ইউনিয়নে প্রপার কাকারার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে ইমামতি করেন। ১৯৭৪ সাল থেকে তিনি পীর হিসেবে পরিচিতি লাভ করলেও তার পীরের প্রসার ঘটে আশির দশক থেকে। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল ছাড়াও বেশ কয়েকটি দেশে তার মুরিদ ভক্ত রয়েছে। মুরিদদের জানাজায় অংশ নেয়ার সুবিাধার্তে এবং বিদেশে অবস্থানরত দুই ছেলে বিদেশ থেকে আসতে বিলম্বের কারণে মঙ্গলবার বিকাল ৫টায় জানাজার সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

হাফেজ আবদুল হাই গতানুগতিক ধারার পীর ছিলেননা। তিনি মুসলিম উম্মাহর ঐক্যসাধন ও ইসলামী ভাবধারার আলোকে আদর্শ সুনাগরিক তৈরীর ক্ষেত্রে প্রচেষ্টা চালিয়ে গেছেন। দ্বীনি ও আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ে প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থাকে ঢেলে সাজিয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রের সুদক্ষ, সুনাগরিক ও তাকাওয়াবান মানুষ তৈরীর লক্ষ্যে হাফেজখানা, এতিমখানা ও মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্টান গড়ে তুলেছেন।

তিনি মেহনতি মানুষের আধ্যাত্বিক, নৈতিকমান উন্নয়ন, ইমানী দৃঢ়তা ও চারিত্রিক পরিশুদ্ধির জন্য জিকির মাহফিল এবং প্রতিষ্টান প্রতিষ্টার ক্ষেত্রে নিজেকে উৎসর্গ করেছেন।

হাফেজ আবদুল হাই এর মৃত্যুর খবর শুনে তাকে দেখতে সর্বস্থরের মানুষ তাকে এক নজর দেখতে ছুটে আসছেন। তার মৃত্যুতে পুরো কক্সবাজারে শোকের ছায়া নেমে আসে।

Share

Leave a Reply

x

Check Also

কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে মহান বিজয় দিবস উদযাপিত

—V প্রেস বিজ্ঞপ্তি :কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদায় বিজয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। দিবসের ...

Portrait of a professional, showcasing contact details and role information.