
মুকুল কান্তি দাশ; চকরিয়া :
আগাম টানা বৃষ্টিতে কক্সবাজারের চকরিয়া ও পেকুয়ায় লবণ, বোরো ও সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মৌসুমের একমাস আগেই বন্ধ হয়ে গেছে লবণ উৎপাদন। নিচু বিল ও ডেবায় পানি জমে পাকা বোরো ধান ঘরে তুলতে পারছেনা কৃষকরা। পাশাপাশি বিভিন্ন সবজি ক্ষেত নষ্ট হয়েছে মুষলধারে বৃষ্টিতে। বৃষ্টির সাথে হালকা ও মাঝারি দমকা হাওয়া বয়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ বিপর্যয় ঘটেছে দু’উপজেলায়। টানা দু’দিন বিদ্যুৎ বিহীন রয়েছে পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের আট উপজেলায় ৬১ হাজার একর জমিতে লবণ চাষ হয়। তিন মাস টানা লবণ উৎপাদন করে কৃষকরা। চৈতালী হালকা বৃষ্টিতে লবণ উৎপাদন আরো বেড়ে যায়। কিন্তু বৈশাখে হঠাৎ ভারী টানা বর্ষণ শুরু হলে বিপাকে পড়ে লবণ চাষীরা। সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্ত হয় চকরিয়া ও পেকুয়ার লবণ চাষীরা। এই দু’উপজেলায় বুধবার দিবাগত রাত থেকে বৃষ্টি শুরু হয়ে শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। ফলে, মৌসুম শেষ হওয়ার একমাস আগেই লবণ উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয় চাষীরা। বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় ক্ষতির পরিমাণ নিরুপন করতে পারেনি বিসিক।
এদিকে, শুষ্ক মৌসুমে চকরিয়া-পেকুয়ার ৬০ হাজার একরের অধিক জমিতে বোরো চাষ হয়। কিছু কিছু ক্ষেতের ধান ঘরে তোলা হলেও সিংহভাগ জমিতে ধান কাটা হয়নি। বিশেষ করে নিচু ও ডেবার পাঁকা ধান কাটার আগ মুহুর্তে টানা বর্ষণে পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বৃষ্টি না থামলে ওই ধান ঘরে তোলা সম্ভব হবেনা। এতে কয়েকশত কৃষক পরিবারের ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।
অন্যদিকে, উচু জমিতে বেগুন, চিচিংগা, জিঙ্গা, তিতকরলা, মরিচসহ নানা জাতের সবজি চাষ করে কৃষকরা যখন লাভের মুখ দেখছিল ঠিক ওই সময় বৈশাখী ঝড়ে লন্ডভন্ড হয়ে গেছে সবজি ক্ষেত। এতে হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে কৃষক পরিবারে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো.আতিক উল্লাহ বলেন, বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় কোথায় কি পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তাৎক্ষণিত তার হিসাব-নিকাশ করা সম্ভব হয়নি। বৃষ্টি বন্ধ হলে ইউনিয়ন পর্যায়ের সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করা হবে।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.