
মুকুল কান্তি দাশ; চকরিয়া :
আগামী ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্টিতব্য একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন ফরম জমা দেয়া প্রার্থীদের প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিন আজ ৯ ডিসেম্বর। ৮ ডিসেম্বর মহাজোট ও ঐক্যফ্রন্টের সুনির্দিষ্ট প্রার্থী মনোনয়ন নিচ্ছিত হয়েছে। ফলে, ৯ ডিসেম্বর কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মতে অনেকেই প্রার্থীতা প্রত্যাহার করতে পারেন।
কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনে আওয়ামীলীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট চকরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব জাফর আলমকে ও বিএনপি’র নেতৃত্বাধীন ঐক্যফ্রন্ট সাবেক সংসদ সদস্য ও বিএনপি’র নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট হাসিনা আহমেদকে চুড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছেন। এই ঘোষনার পরপরই দু’উপজেলায় কর্মী-সমর্থকদের মাঝে নির্বাচনী আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে।
ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী বিএনপি নেতা হাসিনা আহমেদ ২০০৮ সালের ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তার স্বামী সাবেক যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদে আইনী বাধায় নির্বাচন করতে না পারায় তিনি নির্বাচনে অংশ নিয়ে নৌকার প্রার্থী সালাহউদ্দিন আহমদ সিআইপিকে পরাজিত করে হাসিনা আহমদ প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এর আগে তার স্বামী সালাহউদ্দিন আহমদ টানা তিনবার সঙসদ সদস্য নির্বাচিত হন চকরিয়া-পেকুয়া আসনে। ওই সময়ে নৌকা নিয়ে জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আহমদ তিনবার নির্বাচনে অংশ নিলেও প্রতিবারই পরাজিত হন।
তবে, এই আসনে ১৯৯১ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত অনুষ্টিত ৫টি সংসদ নির্বাচনে ভোট প্রাপ্তির দিক দিয়ে আওয়ামীলীগের ভোট ধীর গতিতে বাড়লেও বিএনপি’র ভোট বেড়েছে অতি দ্রুত।
পূর্বেকার নির্বাচনী ও ভোট প্রাপ্তির হিসাব-নিকাশ মাথায় রেখেই এবার ব্যাপক পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছেন মহাজোট তথা নৌকার প্রার্থী আলহাজ্ব জাফর আলম। তিনি শুধুমাত্র অনুষ্টিতব্য নির্বাচনের পূর্বে নয় গত ১০ বছর ধরেই ভোটারদের মন জয় করতে বিরামহীন উন্নয়ন ও গণসংযোগসহ নানাভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। বিশেষ করে ২০১৪ সালে মনোনয়ন পেয়েও দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার নির্দেশে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের পরও থেমে থাকেননি তিনি। হয়ে উঠেছেন সাধারণ মানুষ ছাড়াও কর্মী বান্ধব নেতা।
সরজমিন ঘুরে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের সাথে আলাপকালে আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মীরা জানান, জাফর আলমের পক্ষে নির্বাচন করে নৌকাকে বিজয়ী করতে ইতিপূর্বেই কর্মীরা একাট্টা হয়েছেন। কেন্দ্র কমিটিসহ নির্বাচন প্রচার অফিস নির্ধারণ করে রেখেছেন।
বিএনপির দূর্গ হয়ে উঠা চকরিয়া-পেকুয়া আসনটি দীর্ঘ ৪৩ বছর পর পুণরুদ্ধার করতে নেতা-কর্মীরা জাফর নয় নিজেরাই এক একজন নৌকার প্রার্থীর রুপ নিয়ে কাজ করবেন বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
পক্ষান্তরে ২০০৮ সালে হাসিনা আহমেদ সংসদ সদস্য নির্বাচনের পর থেকে চকরিয়া-পেকুয়ার মাঠে-ময়দানে তেমন ছিলেননা। তবুও বিএনপি নেতা-কর্মীদের প্রত্যাশা সাধারণ ও নিরব ভোটের জোরে এগিয়ে রয়েছেন তাদের প্রার্থী। শান্তিপূর্ণ ও নিরপেক্ষ ভোট হলে ধানের শীষের প্রার্থী আবারো বিপুল ভোটে জিতবেন বলে বিএনপি নেতা-কর্মীদের অভিমত।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.