
নিজস্ব প্রতিনিধি :
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত চট্টগ্রাম বিভাগের একটি প্রশাসনিক অঞ্চল কক্সবাজার জেলা। এ জেলার উত্তরে চট্টগ্রাম জেলা; পূর্বে বান্দরবান জেলা, নাফ নদী ও মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য এবং দক্ষিণে ও পশ্চিমে বঙ্গোপসাগর অবস্থিত। সবুজঘেরা পাহাড় আর অপরদিকে সমুদ্রের নীল জলরাশি মনোমুগ্ধকর অভাবনীয় সৌন্দর্যে ভরপুর কক্সবাজার তার নৈসর্গিক সৌন্দর্য্যের জন্য বিখ্যাত। নীল জলরাশি আর শোঁ শোঁ গর্জনের মনোমুগ্ধকর সমুদ্র সৈকতের নাম কক্সবাজার। অপরূপ সৌদর্য্য বিশ্বের দীর্ঘতম অখন্ডিত সমুদ্র সৈকত কক্সবাজার। এখানকার সমুদ্রের পানিতে বড় বড় ঢেউয়ের মাঝে গোসল, সূর্যাস্তের মনোহারা দৃশ্য সকল পযটকের মূল আকর্ষণ।
সড়কপথে ঢাকা থেকে প্রায় সাড়ে চারশ কিলোমিটার এবং চট্টগ্রাম থেকে প্রায় দেড়শ কিলোমিটার দূরে রয়েছে নয়নাভিরাম এ সমুদ্র সৈকত। কক্সবাজারে থাকার জন্য এখন অনেক আধুনিক হোটেল মোটেল রয়েছে। পর্যটন শিল্পকে কেন্দ্র করে এখানে গড়ে উঠেছে অনেক প্রতিষ্ঠান। বেসরকারি উদ্যোগে নির্মিত অনেক হোটেল, বাংলাদেশ পর্যটন কেন্দ্র নির্মিত মোটেল ছাড়াও সৈকতের নিকটেই রয়েছে পাঁচতারা হোটেল। ৫০,০০০টাকার হোটেল যেমন রয়েছে, তেমনি মাত্র ৫০০টাকার হোটেলে থাকার ব্যবস্থা রয়েছে।
বাংলাদেশের দখিণা শহর কক্সবাজার থেকে দক্ষিণে অবস্থিত হিমছড়ি ও প্রবালগঠিত সমুদ্র সৈকত ইনানী।

ইনানী সমুদ্র সৈকত :
বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের একটি অপরূপ নামকরা স্থান হলো ইনানী সমুদ্র সৈকত। পশ্চিমে সমুদ্র আর পূর্বে পাহাড়ের এক অপূর্ব জায়গাটি বাংলাদেশের অন্যতম একটি পর্যটন আকর্ষণ। ইনানী সমুদ্র সৈকতে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, শান্ত সমুদ্র এবং আশ্চর্যজনক পাথর। এখানে রয়েছে বিস্তীর্ণ পাথুরে সৈকত। সমুদ্র থেকে ভেসে এসে এখানকার ভেলাভূমিতে জমা হয়েছে প্রচুর প্রবাল। ভাটার সময় ইনানী সমুদ্র সৈকতে সেন্টমার্টিনের মত প্রবাল পাথরের দেখা মিলে।

হিমছড়ি :
কক্সবাজারের একটি জনপ্রিয় ও উল্লেখযোগ্য পর্যটন স্পট হলো হিমছড়ি। হিমছড়ি বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিভাগের কক্সবাজার জেলায় অবস্থিত একটি পর্যটনস্থল। হিমছড়ির একপাশে রয়েছে সুবিস্তৃত সমুদ্র সৈকত আর অন্যপাশে রয়েছে সবুজ পাহাড়ের সারি। কক্সবাজার থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার দূরত্বে হিমছড়ি অবস্থিত।
মূলত হিমছড়ি ইকোপার্ককে কেন্দ্র করে হিমছড়ি পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠেছে। আর হিমছড়ি পর্যটন কেন্দ্রের মূল আকর্ষণ হলো হিমছড়ি পাহাড়। ইকোপার্কে প্রবেশ করতে ২০ টাকা মূল্যে টিকেট কাটতে হবে। টিকিট কেটে প্রবেশ করলে উপভোগ করতে পারবেন হিমছড়ির আসল সৌন্দর্য।
হিমছড়ি ঝরনা, সমুদ্র ও পাহাড়ের সমন্বয়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ এক লীলাভূমি। হিমছড়ি পয়েন্টে পৌঁছালেই দেখা যায়- মানুষ দলবেঁধে ঝর্ণার দিকে ছুটছে। কিছুটা পথ হাটলেই চোখে পড়বে স্বচ্ছ পানির শীতল ঝর্ণাধারা। পাহাড়ের খাদ বেয়ে বিরতিহীনভাবে জলধারা নেমে তা মিলিয়ে যাচ্ছে সমুদ্রের উত্তাল ঢেউয়ের সাথে। বর্ষার সময় হিমছড়ি ঝর্ণার গর্জন যেন একরকম দাপটে পরিনত হয়।
হিমছড়ি পয়েন্টে প্রবেশ করে সিঁড়ি বেয়ে একদম পাহাড়ের চূঁড়ায় উঠতে পারবেন। এই পাহাড়ের পাদদেশ এর ইকোপার্ক হতে সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠতে পাহাড়ের উচ্চতা প্রায় ৩০০ ফুট। সিঁড়ি বেয়ে ওপরে ওঠা যেমন কষ্টকর তেমনই আবার আনন্দদায়ক। আর হিমছড়ির মূল আকর্ষণ পাহাড়ের চূঁড়ায়। এটাই মূলত হিমছড়ি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। পাহাড় চূঁড়ায় দাঁড়িয়ে সমুদ্রের একটি চমৎকার ভিউ উপভোগ করতে পারবেন। আর পাহাড়ের চূঁড়ায় দাঁড়িয়ে সূর্যাস্তের এক অসাধারণ দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন। মনে হবে সাগরের অতল জলরাশির মধ্যে সূর্যটি ডুবে যাচ্ছে। চাইলেই হাতে ৪ থেকে ৫ ঘন্টা সময় নিয়ে সেখান থেকে ঘুরে আসতে পারেন।
কীভাবে যাবেন :
দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে সরাসরি বাস বা ঢাকা, চট্টগ্রাম থেকে ট্রেনযোগে অথবা বিমান পথে কক্সবাজার। সড়ক পথে এমন বেশকিছু এসি বা নন-এসি পরিবহন পাওয়া যায়। শ্রেণিভেদে ভাড়া ১০০০ টাকা থেকে শুরু।
কক্সবাজার থেকে হিমছড়ি পাড় হয়ে আরও ৮কি.মি পূবে রয়েছে আরেক আকর্ষণ সৈকত ইনানী, মেরিন ড্রাইভ সড়ক ধরে কক্সবাজার থেকে ইনানী যেতে হয়।
কক্সবাজার থেকে দুইভাবে যাওয়া যায়। জিপ ভাড়া করে অথবা রিকশায়। আবার বেবি ট্যাক্সিও ও ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাও ভাড়া পাওয়া যায়। শহরের যেকোন প্রান্ত থেকে অটো বাইক ইজিবাইক বা সিএনজি নিয়ে হিমছড়ি হতে ঘুরে আসা যায়। যদি অটো বা সিএনজি রিজার্ভ নিতে চান তবে সিজন অনুযায়ী ভাড়া কম বেশি হয়ে থাকে। সে ক্ষেত্রে থেকে ৬০০ টাকা লাগতে পারে। তবে কলাতলী মোড় থেকে লোকাল সিএনজি বা ইজিবাইক করেও হিমছড়ি যাওয়া যায়। তবে সবচেয়ে ভালো হয় কয়েকজন মিলে ঘুরতে গিয়ে জীপ রিজার্ভ করে হিমছড়ি ঘুরে আসা।
এ ছাড়া কলাতলী ডলফিন মোড় থেকে অটোরিকশা, সিএনজি অথবা চান্দের গাড়িতে করে মাত্র ১৫ মিনিটে হিমছড়িতে পৌঁছানো যায়। আবার বাজার থেকেও গাড়ি ভাড়া করা যায়।
হিমছড়ি যাওয়ার পথে ইনানী বীচ একই রোডে পড়ে। তবে গাড়ি রিজার্ভ করার সময় অবশ্যই দরদাম ঠিক করে নেবেন এবং কোথায় কতক্ষণ সময় ব্যয় করবেন এবং কোন কোন জায়গায় ঘুরে দেখবেন সেটিও আগে আলোচনা করবেন।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.