
জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের এ ছবিটি ২০১৭ সালের ১১ ডিসেম্বর প্যারিসে তোলা হয়েছিল। ছবি: সংগৃহীত
জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। ১৮ আগস্ট, শনিবার ৮০ বছর বয়সে সুইজারল্যান্ডে মৃত্যু হয় আনানের।
জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসনবিষয়ক দফতর এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এক টুইটে তারা বলেছে, ‘একজন মহান ব্যক্তি, নেতা ও স্বপ্নবিলাসীকে হারিয়ে আমরা শোকগ্রস্ত।’
জাতিসংঘের সপ্তম মহাসচিব হিসেবে ১৯৯৭ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত টানা ১০ বছর দায়িত্ব পালন করেছিলেন ঘানার এ নাগরিক। তিনিই ছিলেন জাতিসংঘের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ আফ্রিকান মহাসচিব। পরে সিরিয়ায় জাতিসংঘের শান্তিদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। এ ছাড়া বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার রক্ষায় বরাবরই সোচ্চার ছিলেন ২০০১ সালে শান্তিতে নোবেলজয়ী এই ব্যক্তি।
মিয়ানমারে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর যে নিপীড়ন চালানো হয়েছে, সে বিষয়ে আনান দেশটির সরকারের অনুরোধে জাতিসংঘের প্রতিনিধি হিসেবে প্রতিবেদন তৈরি করেছিলেন।
২০১৩ সালে কফি আনান ‘দ্য এলডার্স’-এর চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন। এ সংগঠনটি বিশ্বের প্রবীণ রাজনীতিকদের একটি সংগঠন, যারা বিশ্বজুড়ে মানবাধিকার নিয়ে কাজ করে। ২০০৭ সালে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়।
কফি আনানের প্রতিষ্ঠিত ‘কফি আনান ফাউন্ডেশন’-এর এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘তিনি ছিলেন একজন বৈশ্বিক নেতা, যিনি সারা জীবন আরও শান্তিময় একটি বিশ্বের জন্য লড়াই করে গেছেন।’
আনানের মৃত্যুকে ‘সীমাহীন কষ্ট’ হিসেবেও বর্ণনা করা হয়েছে ওই বিবৃতিতে।
১৯৩৮ সালে আফ্রিকার দেশ ঘানায় জন্মগ্রহণ করেন আনান। ঘানায় পড়াশোনা শেষে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটার ম্যাকালেস্টার কলেজে ভর্তি হন। পরে দেশটির ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (এমআইটি) থেকে ব্যবস্থাপনায় উচ্চতর ডিগ্রি নেন তিনি।

মিয়ানমারের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর দুর্দশা দেখতে রাখাইন রাজ্যে যান কফি আনান। ছবি: সংগৃহীত
১৯৬২ সালে জেনেভায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নিম্নপদস্থ কর্মকর্তা হিসেবে তিনি জাতিসংঘে যোগদান করেন।
শনিবার সকালে হালকা অসুস্থ বোধ করছিলেন আনান। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তিনি স্বাভাবিক অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর সময় স্ত্রী ও তিন সন্তান তার পাশেই ছিলেন।
সূত্র:priyo.com;ডেস্ক।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.