
আর্মি স্টেডিয়ামে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
নেপালে বিমান দুর্ঘটনায় নিহত দুজন পাইলট ও একজন কেবিন ক্রুসহ ২৩ বাংলাদেশির জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। এখন স্বজনদের কাছে মরদেহগুলো হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। সেখানে আগে থেকে অবস্থান করা স্বজনদের কান্নায় হৃদয়বিদারক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
১৯ মার্চ, সোমবার বিকেল ৫ টা ২৪ মিনিটে রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে জানাজা সম্পন্ন হয়। সেনাবাহিনীর কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম মাওলানা মাহমুদুল হক জানাযা পরিচালনা করেন।
জানাজা শেষে নিহতদের কফিনগুলোতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়। এ সময় রাষ্ট্রপতির পক্ষে থেকে সামরিক সচিব, প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ওবায়দুল কাদের ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। এ ছাড়া জাতীয় সংসদের স্পিকারর ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
এ সময় সেখানে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, বিএনপি নেতা মেজর হাফিজ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলতাফ হোসেন, জাপা নেতা আবু হোসেন বাবলা, সেনাবাহিনীর প্রধান, বিমান বাহিনীর প্রধানসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সোমবার বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে মরদেহগুলো বহনকারী একটি কার্গো বিমান ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
এ সময় সেখানে উপস্থিত মানুষের মধ্যে এক শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। পরে আনুষ্ঠানিকভাবে নিহতদের মরদেহগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এবং বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটনমন্ত্রী শাহজাহান কামাল।
আর্মি স্টেডিয়ামে আগে থেকেই স্বজনরা অপেক্ষায় ছিলেন। যারা নিহতদের শনাক্ত করতে নেপাল গিয়েছিলেন, তাদেরও ইউএস-বাংলার একটি বিশেষ বিমানে সকালে নিয়ে আসা হয়। বিমানবন্দর থেকে তারা সরাসরি আর্মি স্টেডিয়ামে যান। দেশে থাকা স্বজনরাও যান সেখানে।
এ সময় দেখা গেছে, কেউ ছেলের ছবি নিয়ে বসে আছেন, চোখ বেয়ে ঝরছে পানি। কেউ কেউ স্বামীর মরদেহ পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। প্রিয়জনের মরদেহের অপেক্ষায় কারও কারও কান্না থামছে না।

ছেলের ছবি বুকে জড়িয়ে কাঁদছেন এক মা।
জানাজা শেষে নিহতদের মরদেহ তাদের স্বজনদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হবে।
যাদের মরদেহ আনা হয়েছে–ফয়সাল আহমেদ, বিলকিস আরা, বেগম হুরুন নাহার বিলকিস বানু, আকতারা বেগম, নাজিয়া আফরীন চৌধুরী, ফারুক হোসেন প্রিয়ক, প্রিয়ন্ময়ী তামারা, রকিবুল হাসান, হাসান ইমাম, আঁখিমনি, মিনহাজ বিন নাসির, মতিউর রহমান, এসএম মাহমুদুর রহমান, তাহিরা তানভীন শশী রেজা, উম্মে সালমা, মো. নুরুজ্জামান, রফিক জামান, সানজিদা হক বিপাশা, অনিরুদ্ধ জামান।
এর আগে সকাল ৯টায় কাঠমান্ডুতে বাংলাদেশ দূতাবাসে তাদের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
নেপালের কাঠমান্ডুর ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলার উড়োজাহাজ বিধ্বস্তের ঘটনায় বাংলাদেশি ৩৬ যাত্রীর মধ্যে ২৬ জন নিহত হন। বাকি ১০ জন ভাগ্যক্রমে বেঁচে যান। তাদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৬ জনকে দেশে ফেরত আনার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
চিকিৎসক রেজওয়ানুল হক ও ইমরানা কবির হাসিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। নেপালের নরভিক হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে ইয়াকুব অালী ও কবির হোসেনের।
সূত্র:মোস্তফা ইমরুল কায়েস-priyo.com;ডেস্ক।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.