সাম্প্রতিক....
Home / জাতীয় / জেলার নাম পরিবর্তন : কারো দাবি অনিয়ম, কেউ ভাবছেন ইতিবাচক

জেলার নাম পরিবর্তন : কারো দাবি অনিয়ম, কেউ ভাবছেন ইতিবাচক

মানচিত্র

ধ্বনি থেকে বর্ণে যাওয়াকে বর্ণীকরণ বা ধ্বনিকরণ (ট্রান্সক্রিপশন) বলে। আর বর্ণ থেকে আরেকটা বর্ণে যাওয়াকে প্রতিবর্ণীকরণ (ট্রান্সলিটারেশন) বলে। ২ এপ্রিল, সোমবার পাঁচ জেলার ইংরেজি নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে এই বর্ণীকরণ কিংবা প্রতিবর্ণীকরণের কোনো নীতিই সুনির্দিষ্টভাবে অনুসরণ করা হয়নি বলে মত দিয়েছেন একজন ভাষাবিদ। অন্যদিকে এই পরিবর্তনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিশিষ্ট এক নাগরিক।

নাম পরিবর্তনের বিষয়ে জানতে চাইলে ভাষাবিদ ও ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিজের পরিচালক স্বরোচিষ সরকার। তার মতে, ইংরেজি নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে যেকোনো একটি নীতি অনুসরণ করা উচিত ছিল। হয় বর্ণীকরণ, নয় তো প্রতিবর্ণীকরণ।

কলকাতা ও ঢাকার ইংরেজি বানান যে নীতিতে করা হয়েছে, সেই নীতিতেই পাঁচ জেলার ইংরেজি বানান পরিবর্তন করা দরকার ছিল। ঢাকা ও কলকাতার ইংরেজি বানানের ক্ষেত্রে প্রতিবর্ণীকরণ অনুসরণ করা হয়েছে। এভাবে করা হলে প্রথম একটু খারাপ লাগবে, পরে হয়তো ঠিক হয়ে যাবে। কারণ সারা বিশ্বের বর্তমান প্রবণতাই এমন যে, শব্দের বানানের কাছাকাছি উচ্চারণ যাওয়া।

পাঁচটি জেলার নামের ইংরেজি বানান ছিল Chittagong, Barisal, Comilla, Jessore ও Bogra পরিবর্তন করে নতুন ইংরেজি বানান করা হয়েছে Chattogram, Barishal, Cumilla, Jashore ও Bogura।

স্বরোচিষ সরকারের মতে, প্রতিবর্ণীকরণ করলে শব্দগুলো হওয়ার কথা ছিল Chattagram, Kumilla, Barishal, Jashor, Bagura কিন্তু এর মধ্যে শুধু ‘Barishal’কে প্রতিবর্ণীকরণ বা ট্রান্সলিটারেশন করে বাকিগুলো করা হয়নি। বাকি চারটি জেলার নাম বর্ণীকরণ বা ট্রান্সক্রিপশনই রাখা হয়েছে। অর্থাৎ এককভাবে কোনো নীতি অনুসরণ করা হয়নি।

স্বরোচিষ সরকার বলেন, ‘নতুন বানানে ত্রুটি রয়েছে। কারণ এই পরিবর্তন উচ্চারণের কাছেও যায়নি, আবার লিপির কাছেও যায়নি। যারা দায়িত্ব পালন করেছেন, তারা হয়তো দুটো ফরমের মধ্যে তালগোল পাকিয়ে ফেলেছেন।’

সব ক্ষেত্রে প্রতিবর্ণীকরণটাই হওয়া উচিত। ট্রান্সক্রিপশন করতে গিয়ে ইংরেজরা ভুল করেছিল, সেই ভুলের আবার পুনরাবৃত্তি করা ঠিক না বলেও মনে করেন এই ভাষাবিদ।

তবে প্রবীণ সাংবাদিক ও বিশিষ্ট নাগরিক কামাল লোহানী এ বিষয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ব্রিটিশরা যখন আমাদের দেশ শাসন করছিল, তখন তাদের সুবিধা অনুযায়ী কতগুলো জেলার নাম উচ্চারণ করত। সেই অনুযায়ী ইংরেজি বানান প্রচলিত হয়েছিল। সেটাই এতদিন পর্যন্ত চলে এসেছে।

দুঃখজনক ঘটনা হলো ১৯৪৭ সালের পর এতদিনেও নামগুলো পরিবর্তন করা হয়নি। আমরা যে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রতি ক্ষেত্রে কাজে লাগাইনি, এটাই ছিল তার প্রমাণ যে, এত বছর পরে এই পরিবতর্ন আনা হলো। তারপরও এই পরিবর্তন আনা সম্ভব হয়েছে এটা আমি ইতিবাচক মনে করি।’

এই পরিবর্তনকে গ্রহণ ও সমন্বয় করতে সময় লাগবে বলেও মনে করেন কামাল লোহানী। তার মতে, ‘Mymensigh ও Sylhet এর নামের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনা উচিত ছিল।’

কামাল লোহানী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, ধাপে ধাপে এই নামের পরিবর্তনও হতে পারে। তবে এই পরিবর্তনগুলো একসঙ্গে করা যেত এবং সামগ্রিক পরিকল্পনারও দরকার ছিল বলে মনে করেন তিনি।

এ ক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলার যেন সৃষ্টি না হয়, সেদিকে নজর দিতে হবে বলেও জানান কামাল লোহানী।

সূত্র:প্রদীপ দাস-priyo.com;ডেস্ক।

Share

Leave a Reply

x

Check Also

কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে মহান বিজয় দিবস উদযাপিত

—V প্রেস বিজ্ঞপ্তি :কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে যথাযোগ্য মর্যাদায় বিজয় দিবস উদযাপিত হয়েছে। দিবসের ...

Portrait of a professional, showcasing contact details and role information.