
শহীদুল্লাহ্ কায়সার; কক্সভিউ :
আগামি ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্টিতব্য কক্সবাজার জেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীদের উপর রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠলো। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করে নিতে চাপ দেয়া হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে এটিই হলো কয়েকজন প্রার্থীর অভিযোগ। আর কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগ’র শীর্ষ নেতাদের দিকেই সরাসরি এই অভিযোগের তীর। নিজ দলের প্রার্থীদের বিনা ভোটে জিতিয়ে আনতে এমন কৌশল নিয়েছেন শাসক দলের নেতারা। এমনই অভিযোগ নির্দলীয় প্রার্থীদের। নির্বাচনী জৌলুস বজায় রাখতে এটিকে প্রতিবন্ধকতা মনে করছেন তাঁরা।
তবে, সেই অভিযোগ চেয়ারম্যান পদের দু’প্রার্থী সরকারি দল সমর্থিত মোস্তাক আহমদ চৌধুরী এবং জাতীয় পার্টি (মঞ্জু) অংশের প্রার্থী সালাহউদ্দিন মাহমুদের কেউই করেননি। সদস্য প্রার্থীদের পক্ষ থেকেই উঠলো এমন অভিযোগ। অন্য কোন রাজনৈতিক দল থেকে নয়। খোদ শাসক দল আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্তরাই করলেন এমন অভিযোগ। তাঁদের সাফ কথা, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যেই সদস্য পদের নির্বাচনী প্রক্রিয়া উন্মুুক্ত করে দেয়া হয়েছে। ফলে এখানে জেলা নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপের কোন সুযোগ নেই। যদি কেউ করেন তবে সেটি হবে আওয়ামী লীগের নৈতিক অবস্থানের পরিপন্থী। যা নির্বাচকমণ্ডলী থেকে শুরু করে সাধারণ নেতা-কর্মী কেউই মানতে বাধ্য নন।
৬ ডিসেম্বর সোমবার এ বিষয়ে আলাপ হয় কক্সবাজার পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল কর এবং কক্সবাজার সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহামুদুল করিম মাদু’র সঙ্গে। দু’জনই দীর্ঘদিন ধরে ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। পরে মূল সংগঠনের নেতৃত্বে আসেন। আসন্ন নির্বাচনে তাঁরা ১০ নং ওয়ার্ডে সদস্য প্রার্থী। সংগঠনের নেতা-কর্মীরা তাঁদের কারণে হয়ে পড়েছে দ্বিধা-বিভক্ত। জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমানসহ কক্সবাজার শহর আওয়ামীল লীগের নেতা-কর্মীরা অবস্থান নিয়েছে উজ্জ্বল করের পক্ষে। আর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি থেকে শুরু করে সাধারণ নেতা-কর্মীরা এখন সমর্থন পেয়েছেন মাহামুদুল করিম মাদু। তাঁদের ফাঁকে নির্বাচনী মাঠে নেমেছেন জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল আমিন সিকদার। দু’জনের কলহের সুযোগ নিয়ে বিজয়ী হয়ে আসতে চাইছেন তিনি।
চলতি বছরের ২৯ নভেম্বর কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্বাক্ষরিত একটি প্রেসনোট গণমাধ্যমে পাঠানো হয়। দলীয় নেতা-কর্মীসহ জেলা পরিষদ নির্বাচনে নির্বাচকমণ্ডলীদের জানাতে ওই প্রেসনোটে সদস্য পদে দলীয় মনোনয়নের বিষয়টি নিশ্চিত করে ১৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। সেই তালিকায় ১০ নং ওয়ার্ডে নাম আসে উজ্জ্বল কর’র। ৬ ডিসেম্বর সোমবার পর্যন্ত জেলা আওয়ামী লীগ যে সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেনি। কিন্তু তাতে বেঁকে বসেন মাহামুদুল করিম মাদু। নির্দলীয় প্রার্থী হিসেবেই নির্বাচনী মাঠে নেমে পড়েন তিনি। কোন চাপই তাঁকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না বলেও ইতোমধ্যে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন।
উল্লেখ্য কক্সবাজার পৌরসভাসহ কক্সবাজার সদর উপজেলার চৌফলদণ্ডী, খুরুশকুল, ঝিলংজা এবং পি.এম.খালী ইউনিয়ন নিয়ে নিয়ে গঠন করা হয়েছে ১০ নং ওয়ার্ড। । ভারুয়াখালী ইউনিয়নের ভোটার হওয়ায় কক্সবাজার সদর উপজেলা চেয়ারম্যান জি.এম. রহিমুল্লাহ এই ওয়ার্ডের নির্বাচকমণ্ডলীর তালিকাভূক্ত নন। তবে, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান শহীদুল আলম বাহাদুর এবং সংরক্ষিত নারী ভাইস চেয়ারম্যান হেলেনাজ তাহেরা রয়েছে নির্বাচকমণ্ডলীর তালিকায়। সব মিলিয়ে এই ওয়ার্ডের নির্বাচকমণ্ডলীতে রয়েছেন ৭০ জন জনপ্রতিনিধি। যাঁরা ২৮ ডিসেম্বর তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে সদস্য নির্বাচিত করবেন এবং চেয়ারম্যান নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন।
আগামি ১১ ডিসেম্বর মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন। ১২ ডিসেম্বর প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ। এরপর ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হবে বহুল আকাঙ্খিত জেলা পরিষদ নির্বাচন।
মাদু বিদ্রোহী প্রার্থী -উজ্জ্বল
কক্সবাজার পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক উজ্জ্বল কর নিজেকে সংগঠনের পরীক্ষিত কর্মী দাবি করে বলেন, সংগঠনের নেতারা যাচাই-বাছাই করেই সদস্য পদে আমাকে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছেন। সংগঠনের বাইরে গিয়ে কোন নেতা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করলে শৃঙ্খলা বিনষ্ট হয়। মাহামুদুল করিম মাদু’র উচিত হবে কাঁদা ছুড়াছুড়ি না করে সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেয়া। তাঁর পক্ষ থেকে প্রার্থীতা প্রত্যাহার করতে মাহামুদুল করিম মাদুকে কোন চাপ দেয়া হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে উজ্জ্বল কর পরোক্ষভাবে বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, সংগঠন আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে। সুতরাং সংগঠনের সিনিয়র নেতারা চাইবেন আমি বিজয়ী হই। এ জন্য প্রয়োজন ঘরের বিভাজন দূর করা। হয়তো সে কারণেই বিদ্রোহী প্রার্থীর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যম সমস্যা সুরাহার চেষ্টা চলছে। এটিকে চাপ প্রয়োগ মনে করার কোন কারণ নেই।
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ হওয়ায় নির্বাচনে কোন প্রভাব পড়বে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অসাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দল। দেশের সব ধর্ম-বর্ণ’র মানুষের একমাত্র ঠিকানা। আমরা সেই লক্ষ্য নিয়েই এগিয়ে চলেছি। এখানে ধর্মীয় জুজু তুলে কেউ নির্বাচিত হওয়ার আশা করলে ভুল করবেন। সাংগঠনিক এবং অন্যান্য যোগ্যতা দিয়েই প্রমাণ করতে হবে তিনি নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য। ইতিপূর্বে মাহামুদুল করিম মাদু ক্রিকেট বোর্ডের সদস্য হওয়া থেকে শুরু করে অনেক কিছুই পেয়েছেন। এ কারণেই তাঁর উচিৎ হবে আমাকে ছাড় দেয়া।
৫০টির উপরে ভোট পেয়ে বিজয়ী হবো – মাদু
অন্যদিকে মাহামুদুল করিম মাদু পরিষ্কার ভাষায় জানিয়ে দিলেন, একমাত্র প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনা এবং সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ছাড়া কারো কাছেই মাথা নত করবেন না তিনি। তার সাফ কথা, “আমি কোন অন্যায় চাপের কাছে নতি স্বীকার করে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াবো না। সংগঠনের জেলা নেতারা অন্যায় করেছেন। আর প্রার্থী হয়ে তিনি এর প্রতিবাদ করেছি।” তিনি প্রার্থী না হলেও উজ্জ্বল কর জিতবে না উল্লেখ করে মাহামুদুল করিম মাদু বলেন, এখনো সময় আছে। জেলা আওয়ামী লীগ নেতারা তাঁদের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করুক। সেটিই তাঁদের জন্য সম্মানজনক হবে। আর তা না হলে আমি বিজয়ী হলে পরাজিত হবেন তাঁরা। যেটি আমি চাই না।
বেশ দৃঢ়তার সঙ্গেই বিজয়ী হওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে মাহামুদুল করিম মাদু বলেন, কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত অমান্য করে জেলা আওয়ামী লীগ নেতারা সংগঠন বিরোধী কার্যকলাপ চালাচ্ছেন। তাঁদের এই অপচেষ্টা নেতা-কর্মীরা রুখে দাঁড়াবে। আসন্ন নির্বাচনে আমার বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না। এ ক্ষেত্রে জেলার নেতাদের কোন ফ্যাক্টরই আমার কাছে মনে হয় না। তাঁরা বিরোধিতা করলেও আমি ৫০টির উপরে ভোট পাবো। ২০০২ সালেও কক্সবাজার পৌরসভার কমিশনার পদে নেতারা উজ্জ্বল করকে মনোনয়ন দিয়েছিলেন। আর ওই সময় তিনি মাত্র ৫টি ভোট পেয়েছিলেন। বিষয়টি স্মরণ রেখেই জেলা নেতাদের উচিৎ হবে মনোনয়নের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নেয়া। বিজয়ী হওয়ার মতো যোগ্য কোন ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেয়া হলে তাতে আমি বাধা দেবো না।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.