
ফাইল ফটো
গিয়াস উদ্দিন ভুলু; টেকনাফ :
মাদক পাচার প্রতিরোধে টেকনাফ সীমান্তে কঠোর ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে সীমান্ত প্রহরী বিজিবি সদস্যরা। এদিকে অত্র এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের নির্মূল করতে দায়িত্বরত আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মাদক বিরোধী চলমান যুদ্ধ অব্যাহত ভাবে চলছে। সেই ধারাবাহিকতায় বিগত কয়েক মাসের ব্যবধানে মাদক বিরোধী চলমান বন্দুকযুদ্ধে প্রায় এক শতাধিক ইয়াবা কারবারী নিহত হয়েছে।
অনুসন্ধানে দেখা যায় এই বন্দুকযুদ্ধের মধ্যেও থেমে নেই ইয়াবা পাচার! তথ্য সূত্রে দেখা যায়, ইদানিং মিয়ানমার থেকে প্রতিনিয়ত পাচার হয়ে আসছে বস্তা বস্তা ইয়াবা। কারণ মাদক কারবারে জড়িতরা নিত্য-নতুন কৌশল অবলম্বন করে মাদক ককারবারীরা তাদের পাচার কাজ অব্যাহত রেখেছে।
সেই সূত্র ধরে গত ৩১ মে রাত থেকে ১ জুন রাত ১০ পর্যন্ত মাত্র ২৪ ঘন্টার মধ্যে নাফনদী সীমান্ত এলাকায় পৃথক ৩টি অভিযান পরিচালনা করে ১৬ লক্ষ ইয়াবা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। পাশাপাশি বিজিবির সাথে গোলাগুলিতে ২ পাচারকারী নিহত হয়। উক্ত ঘটনায় বিজিবির ২ সদস্য আহত হয়। জানা যায় সীমান্ত প্রহরী বিজিবি সদস্যরা গোপন সংবাদ পেয়ে টেকনাফ নাফনদী হ্নীলা জাদীমুড়া সীমান্ত এলাকায় মাত্র ২৪ ঘন্টার মধ্যে ২টি অভিযান পরিচালনা করে ১৬ লক্ষ মালিকবিহীন ইয়াবা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। তবে এই ইয়াবা গুলোর সাথে জড়িত কাউকে আটক করতে পারেনি বিজিবি।
অপর আরেকটি অভিযানে বিজিবি সাথে গোলাগুলিতে ২ পাচারকারী নিহত হয়। ঘটনাস্থল থেকে এক লক্ষ ইয়াবা ও দেশীয় তৈরী অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এই অভিযান গুলোর বর্ণনা দেওয়ার জন্য ২জুন সকাল সাড়ে ১১টারদিকে টেকনাফ ২বিজিবি অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল ফয়সাল হাসান খাঁন ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরের হলরোমে আনুষ্ঠানিক এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। উক্ত সম্মেলনে বর্তমান সময়ের সর্ববৃহৎ ইয়াবার চালান উদ্ধারের বিবরণ দেন।
তিনি বলেন গত ৩১মে রাত ১জুন রাত ১০টা পর্যন্ত মাত্র কয়েক ঘন্টার মধ্যে আমাদের সৈনিকরা পৃথক ৩টি অভিযান পরিচালনা করে ১৬ লক্ষ ইয়াবা উদ্ধার করে এবং বন্দুকযুদ্ধে ২ পাচারকারী নিহত হয়। অপর ২টি অভিযানে কোন পাচারকারী আটক হয়নি। কারণ পাচারকারী দলের সদস্যরা বিজিবি উপস্থিতি টের পেয়ে কৌশলে পালিয়ে যায়।
বিজিবির দাবী উদ্ধারকৃত ইয়াবা গুলোর আনুমানিক মূল্য ৪৭ কোটি টাকা। এত বন্দুকযুদ্ধের মধ্যেও মিয়ানমার থেকে এত বড় বড় ইয়াবার চালান নিয়ে আসার সাথে কারা জড়িত। কেন থামছেনা ইয়াবা পাচার?
সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে বিজিবি অধিনায়ক বলেন, এখনো আড়ালে থেকে অনেক ইয়াবা কারবারী বিভিন্ন কৌশলে মাদক পাচার চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন যে সমস্ত অপরাধীরা এখনো ইয়াবা কারবারে জড়িত রয়েছে। তাদেরকে নির্মূল করতে পারলে এই সীমান্ত এলাকা থেকে মাদক পাচার কমে আসবে।
তথ্য অনুসন্ধানে মাদক পাচারে জড়িত অনেক গডফাদার নাম আমরা পেয়েছি। সেই সমস্ত গডফাদারদের আটক করার জন্য খুব শীঘ্রই আমরা কঠোর অভিযান পরিচালনা করা হবে।
খবর নিয়ে জানা যায় হ্নীলা জাদীমুড়া এলাকায় বিজিবি সদস্যদের অভিযান চলাকালীন সময়ে ৩/৪জন রোহিঙ্গা নাফনদী হতে পালিয়ে জাদীমুড়া বৃটিশ পাড়া এলাকায় প্রবেশ করতে দেখেছে বলে জানায় এলাকাবাসী। এখন প্রশ্ন হচ্ছে এরা কারা?
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই এলাকার স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিমত প্রকাশ করে বলেন এই গ্রামের চিহ্নিত মাদক কারবারীদের আইনের আওয়তাই এনে জিজ্ঞাসাবাদ এই ইয়াবা পাচারে কারা জড়িত তার প্রকৃত রহস্য বেরিয়ে আসবে।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.