গিয়াস উদ্দিন ভুলু; টেকনাফ :
টেকনাফে মাদক বিরোধী চলমান অভিযান ও মাদক পাচার প্রতিরোধে কঠোর ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে সীমান্ত প্রহরী বিজিবি ও টেকনাফ থানার পুলিশ সদস্যরা। সেই সফলতার অংশ হিসাবে বিজিবি ও পুলিশ সদস্যরা পৃথক পৃথক ভাবে অভিযান পরিচালনা করে মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে উদ্ধার করতে সক্ষম হয় সর্ববৃহৎ ইয়াবার চালান ও বিভিন্ন প্রকার মাদকদ্রব্য। এর মধ্যে ৯৬ লক্ষ হচ্ছে মিয়ানমার থেকে আসা মরণ নেশা ইয়াবা।
২ বিজিবি তথ্য সূত্রে জানা যায়, মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে বিজিবি সদস্যরা সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় সাঁড়াশী অভিযান পরিচালনা করে ৫২ লক্ষ, ৬৯ হাজার, ৮৬৭ পিচ ইয়াবা ও লক্ষ লক্ষ টাকা মূল্যের বিভিন্ন প্রকার দেশী-বিদেশী মদ, বিয়ার, গাঁজা, ফেন্সিডিলসহ বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
যার আনুমানিক মূল্য ১৫৯ কোটি, ১৮ লক্ষ, ২৫ হাজার, ৬ শত টাকা। অবশেষে উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য ৬ জুলাই শুক্রবার সকাল ১০টায় বিজিবি সদর দপ্তরে বিশাল এক অনুষ্টানের আয়োজন করে আগত অতিথিদের সামনে মাদক গুলো ধ্বংস করা হয়েছে।
অপরদিকে ৬ জুলাই দুপুর সাড়ে ১২ টার দিকে টেকনাফ মডেল থানার পুলিশ সদস্যদের সাঁড়াশী অভিযানে মাত্র ৬ মাসের ব্যবধানে উদ্ধারকৃত ৪২ লক্ষ, ৩১ হাজার, ৬ শত পিচ ইয়াবা ও বিভিন্ন প্রকারের মদ, বিয়ার, ফেন্সিডিলসহ বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য ধ্বংস করা হয়।
থানা সূত্রে জানা যায়, টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রনজিত কুমার বড়ুয়ার নেতৃত্বে পুলিশের চৌকশ কর্মকর্তারা সর্বকালের সর্ববৃহৎ ইয়াবার চালান ও বিভিন্ন প্রকার মাদক উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। যার আনুমানিক মূল্য ১২৭ কোটি, ৬ লক্ষ, ৭৮ হাজার, ৪ শত টাকা।
সূত্রে আরো জানা যায়,পুলিশের মাদক পাচার প্রতিরোধ ও চলমান মাদক বিরোধী অভিযানে যে সমস্ত পুলিশ সদস্যরা কঠোর ভূমিকা পালন করছে তারা হচ্ছে (ওসি) ওপারেশন রাজু আহাম্মেদ, (ওসি) তদন্ত আতিকুর রহমান, এস আই মন্জুর, এস,আই সাইদুল এস,আই মাহির, এস আই বিবেক, বোরহান, সজিব, সাইফুল, তাপসসহ টেকনাফ থানার চৌকশ পুলিশ সদস্যরা।
এই উদ্ধারকৃত মাদক ও অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করেন (ওসি) রনজিত কুমার বড়ুয়া। বিজিবি ও পুলিশের হাতে উদ্ধারকৃত এই মাদকদ্রব্য গুলোর সাথে কোন পাচারকারী আটক না হওয়ায় এই মাদক গুলোকে মালিকবিহীন হিসাবে গন্য করা হয়েছে।
২বিজিবি মাদকদ্রব্য ধ্বংসকরণ অনুষ্টানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম রকিব উল্লাহ, এএফডব্লিউসি,পিএসসি, রিজিয়ন কমান্ডার এ্যাডহক রিজিয়ন সদর দপ্তর রামু কক্সবাজার। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন যথাক্রমে, কর্ণেল আব্দুল খালেক পিএসসি, সেক্টর কমান্ডার কক্সবাজার রামু, লেঃ কর্ণেল মোঃ আছাদুদ-জামান, অধিনায়ক ২ বিজিবি টেকনাফ,লেঃ কর্নেল জোবায়ের আহাম্মেদ পিএসসি, জি-১, ডিজিএফআই কক্সবাজার, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মোহাম্মদ আশরাফুল আফসার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (উখিয়া সার্কেল) চাইলাউ মারমা, অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট রাজিব কুমার বিশ্বাস, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট রাজীব কুমার দেব, মোঃ হেলাল উদ্দিন, টেকনাফ ২ বিজিবি উপ-অধিনায়ক মেজর শরীফুল ইসলাম জোমাদ্দার, টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট (ভূমি) প্রনয় চাকমা, টেকনাফ কোস্টগার্ড ষ্টেশন কমান্ডার লেঃ কমান্ডার ফয়জুল ইসলাম, টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ রনজিত কুমার বড়ুয়া, টেকনাফ শুল্ক গুদাম কর্মকর্তা ভারপ্রাপ্ত নুরুল মোস্তফা, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর টেকনাফ সার্কেল মোঃ মোশারফ হোসেনসহ টেকনাফ ও কক্সবাজারের ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া, প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।
এদিকে দুপুর সাড়ে ১২ টায় টেকনাফ মডেল থানার মাদকদ্রব্য ধ্বংস অনুষ্টানে অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, কক্সবাজার জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট মোহাম্মদ আশরাফুল, টেকনাফ ২ বিজিবি অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল আছাদুদ-জামান, অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট রাজিব কুমার বিশ্বাস। অতিরিক্ত (উখিয়া সার্কেল) পুলিশ সুপার চাইলাউ মারমা, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট রাজিব কুমার দেব, হেলাল উদ্দিন, টেকনাফ কোস্টগার্ড ষ্টেশন কমান্ডার লেঃ ফয়জুল ইসলাম ও টেকনাফ কক্সবাজার জেলার কর্মরত ইলেকট্রনিক্স মিডিয়া, প্রিন্টমিডিয়ার গণমাধ্যম কর্মীরা।
মাদকদ্রব্য ধ্বংসকরন অনুষ্টানে বক্তারা বলেন, মাদকের আগ্রাসনে দেশের যুব সমাজ ধ্বংসের পথে। প্রতিনিয়ত বাড়ছে মাদক সেবীদের সংখ্যা এই ভাবে চলতে থাকলে এমন একদিন আসবে ঘরে ঘরে মাদক সেবনকারী তৈরী হবে।
তাই এই মাদক পাচার প্রতিরোধ ও মাদক কারবারীদের আইনের আওতাই নিয়ে আসার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এগিয়ে এসে আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের সহযোগীতা করতে হবে।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.