
প্রতিকী ছবি
গিয়াস উদ্দিন ভুলু; টেকনাফ :
টেকনাফে ভ্রাম্যমাণ আদালতে রোহিঙ্গা অনুপবেশের সহায়তার অভিযোগে ৩ দালালকে ৩ মাস করে ও ৪ মাদক সেবীকে ৬ মাসের সাজা প্রদান করা হয়েছে। ৬ নভেম্বর সোমবার বিকালে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহেদ হোসেন ছিদ্দিক ভ্রাম্যমাণ আদালতে এ সাজা প্রদান করেন।
সাজাপ্রাপ্ত দালাল ও মোদক সেবীরা হচ্ছে, বাহারছড়া শীলখালী এলাকার মৃত নুরুল ইসলঅমের মোঃ শফিক আলম (২৫), ফরিদ আলমের ছেলে আনোয়ার হোসেন (১৩), মৃত ইউছুফের ছেলে মোঃ রফিক (২৩) হ্নীলা গুদাম পাড়ার সুফি আলমের ছেলে সাদ্দাম (২৫), হোয়াইক্যং মহেশখালীয়া পাড়ার হাজী গুরা মিয়ার ছেলে নুরুল আবাছার (২৫), নয়াপাড়া শরণার্থী ক্যাম্পের মৃত ছৈয়দ হোসেনের ছেলে মোঃ হাসেম (১৮), মোঃ আমিরের ছেলে মোঃ সাদেক (১৯)। এদেরকে বিজিবি ও পুলিশ পৃথকভাবে আটক করেছিল।
এদিকে এক জেলেকে গভীর রাতে ঘুম থেকে ডেকে নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা প্রদানের অভিযোগ উঠেছে।
জানা যায়, শনিবার দিনগত রাত সাড়ে ১২ টায় টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপ জালিয়া পাড়ার জেলে মৃত কালা মিয়ার ছেলে নজিম উল্লাহকে নিজ বাড়ি থেকে আটক করেন টেকনাফ উপ-পরিদর্শক জাহিদুল হক। পরবর্তীতে রবিবার দুপুরে তাকে নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহেদ হোসেন ছিদ্দিকের ভ্রাম্যমান আদালতে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশে সহায়তার অভিযোগে ৩ মাসের সাজা প্রদান করে কারাগারে প্রেরণ করা হয়।
এ ঘটনায় নজিম উল্লাহর স্ত্রী হামিদা খাতুন অভিযোগ করেছেন তার স্বামী জেলে নজিম উল্লাহকে কোন অভিযোগ ছাড়াই ঘুম থেকে ডেকে নিয়ে যায় পুলিশ। পরে তাকে দালাল সাজিয়ে সাজা প্রদান করা হয়। তার স্ত্রী আরও জানায়, গত ২ মাসের বেশি সময় ধরে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার কারণে নদীতে মাছ শিকার করতে না পেরে এনজিও সংস্থা থেকে কিস্তি নিয়ে তাদের সংসার চলছিল। এ অবস্থায় স্বামী কারাগারে যাওয়ায় চার সন্তান নিয়ে চোখে অন্ধকার দেখছেন হামিদা খাতুন।
এদিকে এলাকার অনেকে জানিয়েছে, নজিম উল্লাহকে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশে সহায়তার মত কোন কাজে কখনও দেখা যায়নি। প্রকৃত দালালেরা কৌশলে নিজেদের রক্ষা করতে নিরীহ জেলেদের নাম সরবরাহ করছে।
স্থানীয় ইউপি মেম্বার ফজলুল হক জানান, পুলিশের হাতে নজিম উল্লাহর আটক হওয়া ও তার জড়িত থাকার বিষয়ে কোন কিছু জানেন না তিনি।
এ ব্যাপারে টেকনাফ থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক জাহিদুল হকের কাছে জানতে চাইলে তিনি দাবী করেন, রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশে শাহপরীরদ্বীপের সাড়ে ৩ শতাধিক নৌকা মালিকের যে তালিকা করা হয়েছে তাতে তার নাম রয়েছে। তবে তাকে কোন রোহিঙ্গা অথবা নৌকাসহ হাতেনাতে আটক করা হয়নি বলে স্বীকার করেন তিনি।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.