গিয়াস উদ্দিন ভুলু; টেকনাফ :
৩০ জুলাই দুপুরে বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর জঙ্গিদের গোপন বৈঠকের সংবাদ পেয়ে বিজিবি, পুলিশ ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট এর সমন্বয়ে গঠিত একটি টাস্কফোর্স সদস্যদের অভিযানে শামলাপুর মৌলভী সৈয়দ করিমের বাড়ি থেকে আর এসও জঙ্গি নেতা হাফেজ সালাউল ও এক সৌদি নাগরিকসহ ৪ জনকে গ্রেফতার করে বিজিবি সদর দপ্তরে নিয়ে আসে।
এ বিষয়ে টেকনাফ ২ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়কের বরাত দিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্যকে উক্ত ঘটনার সঙ্গে জড়িয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ৩১ জুলাই সংবাদ প্রচারিত হয়। উক্ত সংবাদ প্রচার হওয়ার পর পর রবিবার সারাদিন টেকনাফ উপজেলায় সাধারণ মানুষের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। চারে দিকে আলোচনায় সমালোচনা ঝড় উঠে।
এদিকে বিভিন্ন প্রত্রিকায় প্রচার হওয়া সংবাদ নিয়ে স্থানীয় সাংসদ আবদুর রহমান বদি আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, আর এসও নেতা জঙ্গি সালাউলের সাথে আমার কোন সম্পর্ক নেই এবং তারা কি নিয়ে বৈঠকে বসেছে তাও আমার জানা নেই। অথচ কিছু গণমাধ্যমের কর্মী ও ষড়যন্ত্রকারিরা বিজিবি বরাত দিয়ে আমাকে জঙ্গি সালাউলের সাথে জড়িয়ে সংবাদ পরিবেশন করেছে। আমি এই সংবাদে তৃব্র প্রতিবাদ জানাই।
অন্যদিকে বিজিবি সদর দপ্তর থেকে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আজিজ আহম্মদ রোববার সকালে গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন টেকনাফে আটক আরএসও নেতা হাফেজ সালাউল ও সৌদি নাগরিকের বৈঠকের সাথে স্থানীয় সাংসদের কোন প্রকার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি এবং উক্ত গোপন বৈঠকে তিনি ছিলেন না। এর পর পরেই বিজিবি সদর দপ্তর থেকে জনসংযোগ কর্মকর্তা মুহম্মদ মোহসিন রেজা এক প্রতিবাদ লিপিতে উল্লেখ করেন যে, ৩১ জুলাই বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে বিজিবি বরাত দিয়ে স্থানীয় সাংসদকে জড়িয়ে যে সংবাদ গুলো পরিবেশিত হয়, যাতে বিজিবি সদর দপ্তরের দৃষ্টি আকৃষ্ট হয়েছে। কিছু কিছু সংবাদ মাধ্যম টেকনাফের ২ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন অধিনায়কের বরাত দিয়ে এই মর্মে সংবাদ পরিবেশন করেছে যে, স্থানীয় মাননীয় সাংসদ টাস্কফোর্সের কাজে বাধা প্রদান করেছেন এবং গ্রেফতারকৃতদের ছাড়িয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন।
এ প্রসংগে অত্র দপ্তরের ভাষ্য হলো, প্রকৃতপক্ষে ২ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল মোঃ আবুজার আল জাহিদ এ ধরণের কোন বক্তব্য কোন সংবাদ মাধ্যমকে প্রদান করেননি। ব্যাটালিয়ন অধিনায়কের বরাত দিয়ে মাননীয় সাংসদ সম্পর্কে উক্ত সংবাদ প্রকাশ সম্পূর্ণ উদ্দেশ্য প্রণোদিত ও মনগড়া। একটি বিশেষ মহল বিজিবির সফল অভিযানকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে এবং বিজিবির ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে এ ধরণের সংবাদ পরিবেশন করেছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে বিজিবির ব্যাটালিয়ন অধিনায়ককে উদ্ধৃত করে প্রকাশিত ভ্রান্ত, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত সংবাদের মাধ্যমে জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করার এই অপচেষ্টার বিরুদ্ধে বিজিবি সদর দপ্তর তীব্রভাবে প্রতিবাদ জানাচ্ছে।
এদিকে ৩০ জুলাই দুপুর ১টায় সৌদি নাগরিকসহ আটক ৪ জনকে বিজিবি হেফাজতে নিয়ে আসার ৩৪ ঘন্টা পর হলেও এখনো পর্যন্ত থানায় হস্তান্তর না করায় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"



You must be logged in to post a comment.