এম.আর মাহবুব; কক্সভিউ :
সদ্য সমাপ্ত ইউনিয়ন পরিষদ নিবাচনে কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নে এক তারকা রাজনীতিবিদের চরম ভরাডুবি হয়েছে। চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি, ডুলাহাজারা ইউনিয়নের দু’বার নির্বাচিত চেয়ারম্যান, ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মিজানুর রহমান চৌধুরী খোকন মিয়া দ্বিতীয়ও হতে পারেননি। ভোটারদের সকল শংকাকে কাটিয়ে অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ২৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে খোকন মিয়া হয়েছেন তৃতীয়। হেভিওয়েট প্রার্থী খোকন মিয়া ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৫১৫৬ ভোট। অথচ লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে ডুলাহাজারায় হঠাত্ রাজনীতির মঞ্চে আসা নুরুল আমিন পেয়েছেন ৬৪৩৫ ভোট। দ্বিতীয় হওয়া নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি জামাল হোছাইন পেয়েছেন ৫৬৩৯ ভোট।
এদিকে বিএনপি তথা, কক্সবাজারের রাজনীতির অহংবোধ, জাতীয় নেতৃত্ব, সাবেক মন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদের দূর্গ খ্যাত ডুলাহাজারায় খোকন মিয়ার এই বিশাল ভরাডুবিকে রাজনীতির মার-প্যাচের স্বাভাবিক পরিণতি হিসেবে দেখছেন ডুলাহাজারার সচেতন মানুষ। বিশেষ করে সালাহ উদ্দিন আহমদের আর্শীবাদ পুষ্ট হয়ে দীর্ঘ দেড় দশক আগে রাজনীতিতে অভিসিক্ত খোকন মিয়া আত্ম অহংকার, নিজ দলের নেতা-কর্মীদের সাথে খারাপ ব্যবহার, যোগ্যদের অবমূল্যায়ন, আর্থিক অনিয়ম ও সরকার বিরোধী আন্দোলনে নিষ্ক্রিয়ভাব সব কিছু মিলিয়ে তিনি ধানে শীষ প্রতীকের অজস্র ভোটারদের মাঝে মহা বিতর্কিত ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছিলেন। বিশেষ করে ডুলাহাজারার মালুমঘাট অংশের ৩০ হাজার জনগোষ্ঠীর প্রাণের দাবী আলাদা মালুমঘাট ইউনিয়ন বাস্তবায়ন আন্দোলনের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়ে খোকন মিয়া মালুমঘাটের ৩ ওয়ার্ডের ১০ হাজার ভোটারদের মাঝে খল নায়কে পরিণত হয়েছিলেন।
পাশাপাশি ডুলাহাজারার বিএনপি সমিতির গচ্ছিত লাখ বিশেক টাকা তসরুপেরও অভিযোগ রয়েছে খোকন মিয়ার বিরুদ্ধে। এছাড়া ২০ দলের প্রধান শরীক ডুলাহাজারা জামায়াতের নেতা-কর্মীদের সাথেও খোকন মিয়ার অব্যাহত আচরণ ছিল জমিদার-প্রজার মতো। সবকিছু মিলিয়ে চকরিয়া উপজেলা নির্বাচনে প্রায় ৬০ হাজার ভোট পাওয়া গোপন মিয়ার নিজ ঘর ডুলাহাজারার চরম ভরাডুবি নিশ্চিতই ছিল।
পাশাপাশি ভোটের আগের দু’দিন সুষ্ঠু ভোট আয়োজনে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে খোকন মিয়ার লাখ লাখ টাকার বিনিয়োগও কোন কাজে আসেনি। অভিযোগ রয়েছে-জনবিচ্ছিন্ন এই নেতা আওয়ামীলীগ সরকারের প্রথম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নিজ দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে আওয়ামী ঘরানার ডুলাহাজারার এক রাজনীতিবিদকে জিতিয়ে আনতে লাখ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন, সফলও হয়েছিলেন। খোকন মিয়ার এসব কর্মও ভালোভাবে নেয়নি সালাহ উদ্দিন সমর্থক হাজার হাজার মানুষ। শুধু তাই নয়-দাম্ভিক খোকন মিয়া সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনে তাঁর নিজ গ্রামের কেন্দ্রেও ভোটের হিসেবে দ্বিতীয় হয়েছেন।
এদিকে সচেতন রাজনীতি বোদ্ধাদের মতে-সালাহ উদ্দিন আহমদের ইমেজ ব্যবহার করে জনবিচ্ছিন্ন খোকন মিয়া দীর্ঘ দেড় যুগ ভালো খেল দেখালেও ভবিষ্যতে তাঁর সামনে শুধুই অন্ধকার। বিএনপির নিবেদিত এক কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান-খোকন মিয়ার কোন নির্বাচনী পরিকল্পনা ছিল না, ভোটের দিন কোন কেন্দ্রেও যাননি। ভোটের দিন ঘরের সামনে প্যান্ডেল টাঙ্গিয়ে প্রশাসন ম্যানেজের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করেছেন মাত্র। ধানের শীষ প্রতীক না পেলেও খোকন মিয়া নিশ্চিত জামানত বায়েযাপ্ত হতো-বৈ-কি।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"



You must be logged in to post a comment.