হুমায়ুন কবির জুশান; উখিয়া :
কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলার হলদিয়া পালং ইউনিয়নের গোরাইয়ারদ্বীপ এলাকায় হঠাৎ দেখা দিয়েছে রেজু খালের আগ্রাসী ভাঙন। কক্সবাজার ও ইনানী সমুদ্র সৈকতের সাথে রেজু খালের রয়েছে গভীর সখ্যতা।
জোয়ারের পানিতে রেজু খালের গোরাইয়ারদ্বীপ এলাকাটি প্রতিনিয়ত হারাচ্ছে তার চিরচেনা রূপ। খালের ভাঙন ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। খালের পানি বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে গোরাইয়ারদ্বীপ এলাকায় এর তীব্রতা বেড়েছে। ভাঙনে অনেকে বসতভিটা হারিয়েছেন। ভেঙ্গে গেছে গ্রামীণ মেটোপথ। কৃষকের পানের বরজ। অনেক মাছ চাষীদের মৎস্য খামার। ঝুঁকিতে বসতবাড়ি এবং আলাউদ্দিন সিকদারের মৎস্য খামার। আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে ভাঙন কবলিত গোরাইয়ারদ্বীপ এলাকার মানুষ। জোয়ারের সময়ে ইতিমধ্যে ভেঙ্গে গেছে অনেকের ঘরবাড়ি।
সরেজমিনে দেখা যায়, এলাকায় হাফেজ ফরিদ আলম ভারাক্রান্ত মনে গোরাইয়ারদ্বীপ খালের পাড়ে বসে আছেন। এভাবে বসে থাকার কারণ জানতে চাইলে তিনি কান্না জড়িত কন্ঠে জানান, রাক্ষসী খাল আমাদের বাড়িঘর সব কেড়ে নিয়ে পথের ভিখারী বানিয়েছে। ভিটেমাটি সব শেষ। অতিকষ্টে দিনাতিপাত করছি। স্থানীয় যুবক আলাউদ্দিন সিকদার বলেন, রেজু খালের মোহনায় গোরাইয়ারদ্বীপ এলাকার খালের তীব্র ভাঙনে এখানকার বাড়িঘর ফসলি জমি এবং আমার মৎস্য খামারের কিছু অংশ ইতিমধ্যেই বিলীন হয়ে গেছে। প্রতি বছর খালের ভাঙনে ঝুঁকিতে থাকতে হয় আমাদের।
আমরা এলাকাবাসি হলদিয়া পালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইমরুল কায়েসের সাথে দেখা করেছি। তিনি একটি দরখাস্ত দিতে বলেছেন এবং এই ব্যাপারে যথাযথ কতৃপক্ষের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন। মোহাম্মদ ইসমাইল বলেন, এখন শীতকালেও পাহাড় ধস হচ্ছে। পাহাড় ধসে মানুষ মারা যাচ্ছে। রেজু খালের জোয়ারের পানির তীব্রতায় খালের এই পাড় ভাঙে একাকার হয়ে গেছ। সেলিম উদ্দিন সিকদার বলেন, ভাঙনের মুখে রয়েছে পুরো এলাকা। ভাঙন রোধে ব্যবস্থা না নিলে বিলিন হতে থাকবে অসহায় মানুষের একমাত্র আশ্রয়স্থল ভিটেমাটি।
বেলাল উদ্দিন সিকদার বলেন, সম্প্রতি সাগরের নিম্নচাপ ও পূর্ণিমার জোয়ারে প্রবল ডেউয়ে ভাঙন বেড়েছে সাগর নদনদী ও জোয়ার-ভাটার খাল গোরাইয়ারদ্বীপ এললাকায়। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাওয়া ও প্রাকৃতিক জৈব প্রতিরোধ ব্যবস্থা ধ্বংস করে অপরিকল্পিত উন্নয়নের কারণেই দিন দিন ভাঙনের তীব্রতা বাড়ছে বলে জানান তিনি।এখনি ভাঙন প্রতিরোধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়া হলে কিছু দিনের মধ্যেই খালে বিলীন হয়ে যাবে রাস্তাঘাট ও বসতি।
এলাকাবাসির দাবি পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা গোরাইয়ারদ্বীপ এললাকা পরিদর্শন করে ভাঙনের স্থায়ী প্রতিরোধে টেকসই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
হলদিয়া পালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইমমরুল কায়েস চৌধধুরী বলেন, ঘটনাসস্থথল পরিদর্শন করে গোরাইয়ারদ্বীপ খালের ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডে বিস্তারিত জানানো হবে। বরাদ্দ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.