
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। ফাইল ছবি
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের পদত্যাগের কথা ভাবছে না ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দলটির নীতি নির্ধারণী পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য জানা গেছে।
১৯ ফেব্রুয়ারি, সোমবার বিকেল পৌনে ৫টার দিকে গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা খাতের অস্থিরতা, বিশেষ করে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়ে বলেন, ‘প্রশ্নপত্র ফাঁসটা হয় কখন? পরীক্ষার ২০ মিনিট আগে। কীভাবে হয়? কারও মোবাইলের মাধ্যমে। প্রযুক্তির মাধ্যমে। তাহলে প্রযুক্তি বন্ধ করে দেই? আর এভাবে যদি ফাঁস হয় তাহলে মন্ত্রীর বা সচিবের কি বা করার থাকে? আসলে ২০ মিনিট আগে প্রশ্নপত্র দেখে শিক্ষার্থীরা কী এমন করতে পারে। আমাদের দেশে এত ব্রিলিয়ান্ট আছে যে এই সময়ে দেখে মুখস্ত করে আবার পরীক্ষার খাতায় লিখে দেয়?’
‘তারপরও কেউ যদি ধরতে পারেন। গণমাধ্যম যদি এদের ধরতে পারে তাহলে আমরা সাথে সাথে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিব।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের পর নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে তারা জানান, বর্তমানে মন্ত্রণালয়ে কোনো রকম রদবদল হবে না। কারণ, ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এখন নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত। মন্ত্রণালয় রদবদল করে অভিযোগকে নিজের ঘাড়ে নেবে না। বরঞ্চ দুর্নীতিতে অভিযুক্ত চিহ্নিত নেতাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের বিষয়ে নতুন কোনো সিদ্ধান্ত হবে না।
এ বিষয়ে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ‘সরকারের বর্তমান সময়ে যারা অভিযুক্ত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না, হয়নি। আমরা অপরাধীকে অপরাধী হিসেবে চিনি। অন্য কোন পরিচয়ে নয়। ব্যাংক দুর্নীতির সঙ্গে যারা সম্পৃক্ত, সবাইকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।’
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন বলেন, ‘ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ তাদের নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে কুণ্ঠাবোধ করে না। যারা অপরাধ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে। এই ধারা অব্যাহত থাকবে।’
শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ সম্পর্কে সাবেক রাষ্ট্রপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী (বি. চৌধুরী) বলেন, ‘লোকটা ভালো, শিক্ষিত। কিন্তু শিক্ষা মন্ত্রণালয় চালানোর যোগ্যতা তার নাই। ভর্তি পরীক্ষাসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধ করা তার পক্ষে সম্ভব হয়নি। শুধু তাই নয়, পাঠ্যপুস্তকে কী লেখা অন্তর্ভূক্ত হবে, কী হবে, কী হবে না, এ নিয়েও তিনি বিতর্কে ছিলেন। অর্থাৎ সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি। গণমাধ্যম এবং সুশীল সমাজের চাপে তিনি পাঠ্যপুস্তক পরিবর্তন করেন।’
‘শিক্ষামন্ত্রী ভালো লোক হওয়ায় তার পদত্যাগ চাই না। শিশু মন্ত্রণালয় আছে, ধর্ম মন্ত্রণালয় আছে, ঠান্ডা ঠান্ডা মন্ত্রণালয় আছে। সেই ঠান্ডা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেন।’ পুনরায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান করেন সাবেক এই রাষ্ট্রপতি।
সাবেক রাষ্ট্রপতি বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, ‘শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন দরকার। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এমন পঁচে গেছে, এটার সার্জারি করা দরকার।’
বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, ‘অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিয়েছেন। উনি মনে করেন ব্যাংকের দায়িত্ব ব্যাংকারদের, চুরি করলে চোরের দায়িত্ব।’
অর্থমন্ত্রীর প্রসঙ্গ তুললে তিনি বলেন, ‘আপনি ফাইন্যান্স মিনিস্টার, একদিন যদি আপনাকে কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হয়! অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিয়েছেন। হাজার হাজার কোটি টাকা চুরি হয়ে যায়। এতে যৌক্তিক কোন ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না।’
‘সুতরাং এই দুই মন্ত্রীকে এই পদ থেকে অব্যাহতি দিয়ে মানুষকে রক্ষা আহবান রইল’, বলেন বদরুদ্দোজা চৌধুরী।
এদিকে দুই মন্ত্রীর প্রতি সহানুভূতি ও শ্রদ্ধা থাকলে তাদের অযোগ্যতার জন্য তাদের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন নাগরিক ঐক্যের আহবায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না।
খালেদা জিয়ার রায়ের পর সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম বলেছিলেন, ‘হাজার হাজার কোটি টাকা চলে গেল আর আড়াই কোটি নিয়ে দেশে কী শুরু হয়ে গেল।’ তিনি ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের মন্ত্রী ও নেতাকর্মীদের দুর্নীতির জন্য শাস্তির ব্যবস্থা করার আহ্বান জানিয়েছিলেন। বিশেষ করে তার অভিযোগ ছিল অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের প্রতি। সূত্র:মুহম্মদ আকবর-priyo.com;ডেস্ক।
coxview.net Bangla News Portal with Objectivity to spread worldwide "In Search of Truth at Every Moment"


You must be logged in to post a comment.